অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে, বিপজ্জনক অবস্থায় বাঁশের খুঁটি উপর ভিত্তি করে দাঁড়িয়ে আছে অঙ্গনওয়াড়ী কেন্দ্র

সেখ নুরুদ্দিন, সোনারপুর,দঃ২৪ পরগনা: আজকের শিশু আগামীর ভবিষ্যৎ। তাদের বেড়ে ওঠার জন্য অবশ্য প্রয়োজন পরিবারের স্নেহ, ভালোবাসা, আদর। আর সেই সবের পাশাপাশি দরকার অনুকূল পরিবেশ। আশ্চর্য হলাম। আপনারা ও শুনে অবাক হবেন, -সোনারপুরের মতো চেনা শহরে রয়েছে অচেনা ছবি। শহরের প্রান্তিকে ৯নং ওয়ার্ডের অন্দরে হাঁটতে হাঁটতে দেখতে পাবেন স্বচ্ছ ভারত নির্মাণের করুন দৃশ্য। সরকারের এত প্রচেষ্টা আর উন্নয়নের জোয়ার যে সাধারণ মানুষের জীবন রীতি মতো দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে। সোনারপুর শহরের কড়িগাছি মুখ্য রাস্তা থেকে ডানদিকে ঢালু কংক্রিটের অলি -গলি পথ পেরিয়ে পৌঁছে যাবেন শহরের প্রান্তে। আসার পথে উপহার হিসেবে জুটবে স্তূপীকৃত নোংরা আবর্জনা ও দুর্গন্ধ। এলাকা ঘুরলেই টের পাবেন নারকীয় যন্ত্রনা সহ্য করে কীভাবে বেঁচে আছে সেখানকার মানুষ। চোখ কপালে উঠল !-নোংরা, পচা দুর্গন্ধ পরিবেশেবাঁশের খুঁটির উপর বিপজ্জনক অবস্থায় ধুঁকছে সোনারপুর ৯নং ওয়ার্ডের অঙ্গনওয়াড়ী কেন্দ্র(মন্দির পাড়া:৬২নং কেন্দ্র) । উক্ত কেন্দ্র টি পরিচালিত হয় সোমোদপুর মন্দির পাড়া ক্লাবে বার্ষিক ভাড়া ৭২০০ টাকার বিনিময়ে। উক্ত শিশু শিক্ষা কেন্দ্রের শিক্ষিকা সামিমা খাতুন (বেগম) মহাশয়ার সাথে কথা বললাম। তিনি অনেক অভিযোগ ও অনুযোগের কথা শোনালেন। কেন্দ্র টি পাকা নির্মাণের জন্য তিনি সোনারপুর শিশু প্রকল্প আধিকারিক দেবলীনা ম্যাডাম ও সুপারভাইজার পম্পা ম্যাডাম ( বর্তমানে অবসর প্রাপ্ত) এর দৃষ্টি আকর্ষন করেছেন বলে জানিয়েছেন। এলাকাবাসী অঙ্গনওয়াড়ী শিক্ষিকা সামিমা খাতুনের (বেগম) প্রশংসায় পঞ্চমুখ। সব্বাই বললেন “দিদি নিষ্ঠাবান, ন্যায় পরায়ণা, সহনশীল, আন্তরিক মানুষ। তিনি শিক্ষা ও স্বাস্থ্যের উপর শুধু শিশুদের পাঠদান করেননি, এলাকায় সচেতন বৃদ্ধি র জন্য প্রায়শই মায়েদের নিয়ে আলোচনা সভা করে থাকেন। তিনি তার কেন্দ্রের দুরবস্থা ও প্রতিকুল পরিবেশের কথা অকপটে বলেই ফেললেন। বর্তমানে সরকারি নির্দেশানুসারে বন্ধ রয়েছে পঠনপাঠন। তবুও সব ভয় কে উপেক্ষা করে স্বাস্থ্যবিধি নির্দেশিকা মেনে রীতিমতো পরিষেবা প্রদান করে গেছেন। তিনি কেন্দ্রটির অবস্থান নিয়ে ভীষণ উদ্বিগ্ন রয়েছেন। একটু বর্ষা নামলে জলে জলময় হয়ে ওঠে রাস্তা ঘাট। খানা ডোবা রাস্তা তখন ধরনের পক্ষে খুঁজে ওঠা ভার হয়। কেন্দ্রে টি জলাশয়ে একপ্রান্তে কোনরূপ অগাধ প্রাণের ঝুঁকি নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। আর ঐ জলাশয়ের চলছে নিয়মিত থালা, হাঁড়ি ধোওয়া, কাপড় কাচা। পচা দুর্গন্ধে নাজেহাল জনজীবন। উদাসীন প্রশাসনিক কর্তাব্যক্তিরা। তাদের দুর্দশার কথা শুনলে হয়তো একটি নতুন উপন্যাস হবে।

শেয়ার করুন