আজ থেকে শুরু অন্যতম শ্রেষ্ঠ উৎসব ‘ঝুলন’

আজ বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হল ঝুলন যাত্রা শ্রাবণ মাসের একাদশী থেকে পূর্ণিমা 5 দিন বৈষ্ণব ধর্মের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ঝুলন উৎসব ।
শাস্ত্র মতে ভগবান শ্রীকৃষ্ণ তার ভক্ত ও নির্বিশেষে সকলকে অনুগ্রহ করার জন্য থেকে গোলকধাম ভূলোকে এসে লীলা করেন।
ঝুলন শব্দের সঙ্গে দোলনা রয়েছে তাই রাধা কৃষ্ণ সুন্দরকে দোলনাতে বসিয়ে পুজো করেন।
দোলায় রাধা গোবিন্দ বিগ্রহ স্থাপন করে পূর্ব থেকে পশ্চিম ঝুলানোর তাৎপর্য হলো শাস্ত্রীয় ভৌগলিক ও বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা রয়েছে।

দোলনা টি দুলানো হয় পূর্ব থেকে পশ্চিম দিকে সূর্য উদয় অস্ত্র ও অবস্থানের দিক নির্দিষ্ট করেই তা করা হয় সহ্য হচ্ছে পৃথিবীর গতি হচ্ছে– আর্নিক গতি ও বার্ষিক গতি।
দুই গতিধারা বছরে দুইবার কর্কটক্রান্তি ও মকরক্রান্তি লেখায় গিয়ে অবস্থান করে তখন ঘটে সূর্যের উত্তরায়ন ও দক্ষিণায়ণ অবস্থান সেই কারণে দোলন যাত্রা অনুষ্ঠানে দোলন টিকে ঝোলানো হয় উত্তর- দক্ষিণ দিকে।

আপনারাও এই ঝুলন অনুষ্ঠানে নিজেদের বাড়িতে নিজে নিজেদের মতন করে করুন ,দেখবেন মানসিক শান্তি ও আর্থিক উন্নতি হচ্ছে। ভুলভাল চিন্তা দূর হয়ে যাবে ভালো থাকুন, সুস্থ থাকুন।

আগমী 3rd আগষ্ট শ্রাবণী পূর্ণিমা, যাকে রাখীপূর্ণিমাও বলা হয়— এর এক বিশেষ মহত্ত্ব আছে৷ কথিত আছে, এই শ্রাবণী পূর্ণিমা তিথিতে মানব সভ্যতার আদিগুরু সদাশিব আজ থেকে ৭ হাজার বৎসর পূর্বেপ্রথম ধর্মপ্রচার শুরু করেছিলেন৷ তাছাড়া প্রাচীন কাল থেকে ভারতবর্ষে এদিনটি রাখী বন্ধন রূপেও পালিত হয়ে আসছে৷ এদিন বোনেরা ভাইয়ের হাতে রাখী পরিয়ে দেয়৷ ভাইয়েরাও বোনেদের সুরক্ষার দায়িত্ব উপলদ্ধি করেন৷ সে কারণে এই উৎসব সারা ভারতে ‘রক্ষা-বন্ধন’ উৎসব হিসেবেও পরিচিত৷

কথিত আছে, শ্রীকৃষ্ণ এদিন শিশুপাল বধ করেছিলেন৷ এই সময় কৃষ্ণের একটি আঙ্গুল কিছুটা কেটে যায়৷ দ্রৌপদী তখন নিজের শাড়ী ছিঁড়ে কৃষ্ণের আঙ্গুলে বেঁধে দেন ও তাতে রক্ত পড়া বন্ধ হয়৷ তখন শ্রীকৃষ্ণও অঙ্গীকার করেন, তিনি দ্রৌপদীর সমস্ত সংকটকালে সহায়তা করবেন৷ পাশাখেলায় দুঃশাসন দুর্র্যেধনের আদেশে দ্রৌপদীর বস্ত্রহরণ করতে চেষ্টা করে৷ কিন্তু যতই বস্ত্র আকর্ষণ করুক না কেন, দ্রৌপদীর অঙ্গের বস্ত্রও শেষ হয় না৷ কৃষ্ণ অলক্ষ্যে এইভাবে দ্রৌপদীর মান রক্ষা করেন৷

ভারতের ইতিহাসেও এই রাখী পূর্ণিমার বিশেষ গুরুত্ব আছে৷ কথিত আছে, দিল্লির বাদশা হুমায়ূন যখন চিতোর আক্রমণে যান, চিতোরের বিধবা রাণী কর্ণবতী দেখলেন আর চিতোর রক্ষা করা সম্ভব নয়, তখন তিনি দূত মারফৎ হুমায়ুনের কাছে রাখী পাঠিয়ে তাঁকে ভাই হিসেবে বরণ করেন৷ হুমায়ুন ও তখন এই ঘটনায় অভিভূত হয়ে সৈন্য সামন্ত নিয়ে ফিরে যান৷
আধুনিক যুগে, ১৯০৫ সালে ব্রিটিশ রাজত্বের সময় বড়লাট লর্ড কার্জন বাঙলাকে সরাসরি দ্বিখন্ডিত করার সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেছিলেন৷ তখন সারা বাঙলা জুড়ে বঙ্গভঙ্গ বিরোধী আন্দোলন উত্তাল হয়ে উঠেছিল৷ সে সময় রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর হিন্দু-মুসলমান নির্বিশেষে সবার হাতে রাখী পরিয়ে দিয়ে বাঙলার সমস্ত মানুষকে ব্রিটিশের বঙ্গভঙ্গ আন্দোলনের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন৷

শ্রাবণী পূর্ণিমা, শিবলিঙ্গে নারকেলের অর্ঘ্য নিবেদনে অলৌকিক ফল স্বরূপ সম্পন্ন হয় জোড়া পুজো হর ও হরির আরাধনা। হিন্দু ক্যালেন্ডার পূর্ণিমাটি শ্রাবণের অন্তর্গত। তাহলে আসা যাক আসল কথায়। পৃথিবী সৃষ্টির আদি শক্তি হলো মৃত্যুঞ্জয়। পৌরাণিক কাহিনী অবলম্বনে জানা যায় মানুষ এর সৃষ্টি শক্তি হলো শিব শক্তি। এটা মানা হয় যে পৃথিবীর সৃষ্টিকর্তা হলেন ভোলানাথ। তাই মহাদেবের প্রসন্নতা প্রাপ্তির জন্য আমরা তার পুজো করে থাকি। শ্রাবণ মাসের শ্রাবণী পূর্ণিমা তিথি হরিহরের আবির্ভাব তিথি। পুরাণ সনাতন ধর্মমতে এই দিন শিবলিঙ্গে স্বয়ং বিষ্ণু ও মৃত্যুঞ্জয়ের মিলিত রূপ উদ্ভব হয়েছিল হরিহর মূর্তির। এই দিনে শিবলিঙ্গে বিরাজমান হন স্বয়ং হরি।

তাই শ্রাবণী পূর্ণিমায় শিবের সন্তুষ্টি কামনায় মাথায় জল ঢাললে, শিব পুজোয় রত থাকলে কেবল শিবের পুজো হয় না হরের সঙ্গ হরিরও আরাধনা সম্পন্ন হয়। তাই এই দিন পূর্ণিমা তিথি তে ভারতের সকল ভোলানাথের মন্দিরে হরিহরের পুজো হয়ে থাকে। এই দিন মহাদেবকে স্নানার্ঘ নিবেদন করানো হয় নারকেলের জলে। লোকায়ত বিশ্বাস যে, ত্রিনেত্রধারী যেমন নারকেল তেমনই মহাদেবেরও ত্রিনয়ন তাই এই বিধি।দিন। শিবকে এই দিন মানুষের সমস্ত পাপ নাশ করার জন্য যজ্ঞোপবীত দান করা হয়ে থাকে। আর এই দিনে যিনি শিবলিঙ্গে রক্ষাসূত্র বন্ধন করেন স্বয়ং শিব সারা বছর ওই রক্ষাসূত্রবন্ধনকারী কে রক্ষা করে থাকেন। এই দিন সঠিক জ্যোতিষ পদ্ধতি তে নিজের গত্র সঙ্কল্প করে নারকেলের জল শিবের মাথায় ঢাললে ও মহামৃত্যুঞ্জয় যজ্ঞে আহুতি দিলে সমস্ত গ্রহদোষ থেকে মুক্তি পাওয়া যায় ।

শেয়ার করুন