আমফান ক্ষতিপুরণের টাকায় দূর্নিতী : ২০০ তৃণমূল নেতাকে শোকজ


নিজস্ব সংবাদদাতা, পূর্ব মেদিনীপুর: ঘূর্ণিঝড় আমফানের দাপটের পর বিভিন্ন মানুষের ঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে বিভিন্ন জায়গায় অভিযোগ উঠেছে তৃণমূলের স্থানীয় নেতারা মানুষকে সেই সাহায্য পাইয়ে দেওয়ার কথা বলে অপেক্ষা করিয়ে নিজেদের নিকট আত্মীয়দের ক্ষতিপূরণের টাকা পাইয়ে দিচ্ছেন। এ নিয়ে সরব বিরােধী পক্ষ ৷ একরকম চাপে পড়ে দুর্নীতিগ্রস্ত নেতাদের শােকজ করার উদ্যোগ নিয়েছে ঘাসফুল শিবির।
এর পরিপ্রেক্ষিতে ক্ষতিপূরণের টাকা নিজেদের পছন্দসই লোকজনকে পাইয়ে দেয়ার অভিযােগে নন্দীগ্রাম বিধানসভা এলাকার ২০০ জন তৃণমূল নেতাকে শােকজ করল তৃণমূল নেতৃত্ব। আগামী তিন দিনের মধ্যে দলের তরফে তাদের টাকা ফেরত দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে । আর যদি সেই টাকা না দেওয়া হয়, তাহলে এফআইআর করা হবে বলেও হুশিয়ার করা হয়েছে।

জানা গেছে, নন্দীগ্রাম ১ নং ব্লকের সামসাবাদ, ভেকুটিয়া এবং কেন্দামারি জলপাই গ্রাম পঞ্চায়েতের দলীয় প্রধানদের শােকজ করা হয়েছে । অভিযােগ এই সমস্ত তৃণমূল নেতারা তাদের পরিবারের একাধিক সদস্যের নামে ক্ষতিপূরণের টাকা পাইয়ে দিয়েছেন । একইভাবে কালিচরণপুরের অঞ্চল সভাপতি এবং ভেকুটিয়ার অঞ্চল সভাপতি তাদের নিজের পরিবারের সদস্যের নামে ক্ষতিপূরণের টাকা নিয়েছেন ।
ফলে ব্যাপক চাপে পড়েছিল তৃণমূল নেতৃত্ব । প্রসঙ্গত, গত ২৯ জুন জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্তদের একটি তালিকা প্রকাশ করা হয় । আর সেখানেই দেখা যায় নন্দীগ্রাম ১ এবং ২ নম্বর ব্লকের অনেক তৃণমূল নেতা তাদের ঘনিষ্ঠ আত্মীয়দের টাকা পাইয়ে দিয়েছেন । এমনকি জেলা পরিষদের সভাধিপতি শেখ সুফিয়ানের জামাইয়ের পাকা বাড়ি থাকা সত্ত্বেও তাকেও ক্ষতিপূরণের টাকা দেয়া হয়েছে ।
অন্যদিকে নন্দীগ্রাম ২ নং ব্লকের আমাদাবাদ গ্রাম পঞ্চায়েতের কয়েকজন বুথ সভাপতি সহ একাধিক তৃণমূল নেতার ঘনিষ্ঠ আত্মীয়রা এই ক্ষতিপূরণের টাকা পেয়েছেন বলেও অভিযোগ রয়েছ । অথচ তাদের বাড়ির তেমনভাবে কোনাে ক্ষতি হয়নি । যার ফলে সাধারণ বাসিন্দাদের পক্ষ থেকে বিক্ষোভও করা হয়েছে ৷
এই পরিস্থিতিতে এবার দলকে শুদ্ধিকরণের পথে নিয়ে যেতে দুর্নীতিগ্রস্ত নেতাদের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ নিতে উদ্যোগী হল তৃণমূল নেতৃত্ব । যার অঙ্গ হিসেবে নন্দীগ্রামের ২শত জন তৃণমূল নেতার বিরুদ্ধে এবার পদক্ষেপ নিতে চলেছে ঘাসফুল শিবির । অর্থাৎ একটি বিধানসভা থেকে তৃণমূলের এত সংখ্যক নেতা যে দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়েছেন তাতেই কিছুটা নড়েচড়ে বসে কড়া পদক্ষেপ নিতে চলেছে ৷
এদিন এই প্রসঙ্গে নন্দীগ্রাম ব্লক তৃণমূল সভাপতি মেঘনাথ পাল বলেন , “ বৃহস্পতিবার সকালে এনিয়ে বৈঠক হয়েছে । প্রাথমিকভাবে ২০০ জনের তালিকা তৈরি হয়েছে । শুক্রবার থেকে শােকজ চিঠি ধরানাে হবে । তালিকায় তিনজন অঞ্চল সভাপতি এবং তিনজন পঞ্চায়েত প্রধান আছেন । অর্থাৎ একদা তৃণমূলের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত নন্দীগ্রামেও যে এই ভয়াবহ দুর্যোগের ক্ষতিপূরণের টাকা নিয়ে ব্যাপক দুর্নীতি হয়েছে তা পরােক্ষেই স্বীকার করে নিচ্ছে তৃণমূল নেতৃত্ব । আর তাই তৃণমূলের ২০০ নেতার বিরুদ্ধে এবার পদক্ষেপ নিতে চলেছে ।

শেয়ার করুন