আলিপুরদুয়ার জেলায় জেলায় মাধ্যমিকে তৃতীয় প্রিয়া পাল


নিজস্ব সংবাদদাতা, আলিপুরদুয়ার: আলিপুরদুয়ার জেলায় মাধ্যমিকে তৃতীয় স্থান দখল করলো কামাখ্যাগুড়ি গার্লস হাই স্কুলের প্রিয়া পাল। কামাখ্যাগুড়ি গার্লস হাই স্কুলের ছাত্রী প্রিয়া পাল এর মাধ্যমিকে তৃতীয় স্থান দখল করায় খুশির হাওয়া বইছে গোটা এলাকায় । প্রিয়ার কাছ থেকে জানা গেল তার স্কুলে ৩৫২ জন ছাত্র-ছাত্রী পরীক্ষা দেন । তার বাবার নাম কৃষ্ণ পাল । বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়ে দীর্ঘদিনই বাড়িতে কর্মহীন অবস্থায় পড়ে আছেন। তার মা বিউটি দত্ত পাল অঙ্গনওয়াড়ি কর্মী। ছোট বোন প্রিয়া প্রথম শ্রেণী থেকেই সরকারী স্কুলেই পড়াশোনা করতো। তাদের বাড়ি কুমারগ্রাম ব্লক এর কামাখ্যাগুড়ি ঘোড়ামারা চৌপতি সংলগ্ন দক্ষিণ নারারথলিতে । এদিন তার বাড়ি গিয়ে দেখা গেল জরাজীর্ণ ঘর ৷ এর মধ্যে দিয়েই সে ৬৭৪ নম্বর পেয়ে তৃতীয় স্থান দখল করে আছে । প্রতিদিন সে সাত থেকে আট ঘণ্টা পড়াশোনা করত। পড়াশোনার জন্য আলাদা কোনো ঘর নেই ফলে যে ঘরে পড়াশোনা করত সেই ঘরেই একপাশে রান্নার কাজ করতো তার মা ।স্বাভাবিক ভাবেই দিনের বেলা তেমন পড়াশোনা করতে পারত না সে । একটি মাত্র ঘর তাই পড়াশোনার পাশাপাশি ওই ঘরে রান্না করা হতো। রাতের বেলাতেই পড়াশোনার সময় বেছে নিত। দিনের বেলা অংক সহ লেখালেখির কাজটা করত । প্রিয়ার বাবা কৃষ্ণ পাল জানালেন লোকনাথপুর হাইস্কুলের ভূগোলের শিক্ষক সুমন দত্ত তাঁর মেয়েকে পড়াতেন কোন রকম টাকা তিনি নিতেন না । স্কুল থেকে বাড়ি দূরত্ব কমপক্ষে তিন কিলোমিটার। আলিপুরদুয়ার জেলায় প্রিয়া তৃতীয় স্থান অধিকার করেছে কামাখ্যাগুড়ি গার্লস হাই স্কুল থেকে। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় এদিন তার বাড়িতে কোন শিক্ষিকা আসেননি। স্বাভাবিক ভাবেই মর্মাহত প্রিয়ার পরিবার। আগামীদিনে তার ইচ্ছা ডাক্তারি পড়ার কিন্তু তার পরিবারের আর্থিক স্বচ্ছলতা না থাকায় কপালে ভাঁজ পড়েছে প্রিয়া সহ তার বাবা এবং মায়ের। আগামী দিনে ডাক্তারি পড়তে পারবে কি কারও সহযোগিতায় ? এটাই এখন প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।

শেয়ার করুন