আষাঢ় মাসে জগন্নাথদেব রথে চড়ে তাঁর মাসির বাড়ি ঘুরতে যান


রামকৃষ্ণ চ্যাটার্জী: সেই কোন শৈশবকাল থেকে জেঠিমা, ঠাকুমাদের মুখে এই গল্প শুনে আমরা বড় হয়েছি। সত্যিই তো! জগন্নাথ তো রথে চড়েই বৃষ্টি-বাদলা তোয়াক্কা না করে ভাই-বন সমেত মাসির বাড়ি, অর্থাৎ গুণ্ডিচা মন্দিরের উদ্দেশ্যে ৭ দিনের জন্য যাত্রা করেন। কিন্তু যাতে চড়ে তিনি যাত্রা করেন, সেই রথটি কিন্তু যে সে রথ নয়। রথে লুকিয়ে আছে অনেক রহস্য, অনেক অজানা তথ্য, বহু অশরীরী দেব ও দেবীগণ। আজ গৌরহরির কৃপায় এই মূঢ়াধম সেই বিষয়ে কিঞ্চিৎ আলোকপাত করতে চেষ্টা করবে।

দারুহরি জগন্নাথদেব যে রথে বিরাজ করেন, সেটির নাম- “নন্দীঘোষ”। অনেকে রথটিকে ‘গরুড়ধ্বজ’ বা ‘কপিধ্বজ’ও বলে থাকেন। রক্ত ও পীত, মানে লাল ও হলুদ বস্ত্রদ্বারা রথটি আচ্ছাদিত থাকে। রথের ষোলটি চাকা চন্দ্রের ষোলটি কলার প্রতীক, কারণ রথের আরোহী ষোলকলাযুক্ত জগন্মোহন হলেন পূর্ণব্রহ্মের পূর্ণপ্রকাশ। রথটির উচ্চতা প্রায় ৪৫ ফিট এবং ৮৩২টি কাষ্ঠখণ্ড দ্বারা নির্মিত। রথোপরি যে পতাকাটি উড্ডীন, তার নাম “ত্রৈলোক্যমোহিনী”। রথের সম্মুখে চারটে সাদা ঘোড়া সংযুক্ত রয়েছে। অশ্ব চারটির নাম- ‘শঙ্খ’, ‘বলাহক’,’শ্বেত’ ও ‘হরিদাশ্ব’। রথের মুখ “নন্দীমুখ”। রথগাত্রে শঙ্খ ও চক্র চিহ্নদ্বয় সবদিক থেকে দেখা যায়। রথের দড়ির নাম “শঙ্খচূড়”। সুবৃহৎ এই রথটি স্বয়ং গরুড় কর্তৃক সর্বদা রক্ষিত। পণ্ডিতদের মতানুযায়ী দিব্যদেহধারী “জয়” ও “বিজয়” রথের দ্বারদেশে পাহারা দেন।

রথ যখন আছে, সারথিও নিশ্চয়ই আছে! সারথির নাম ‘দারুক’। রথে কারা থাকেন? হ্যাঁ, জগন্নাথ ছাড়াও আরও অনেক দেবদেবীগণ রথে প্রতিষ্ঠিত থাকেন। বরাহ, গোবর্ধন, কৃষ্ণ, নরসিংহ, রাম, নারায়ণ, ত্রিবিক্রম, হনুমান ও রুদ্র- এই নয়জন দেবতা যাত্রাকালে রথে থাকেন। ঋষিগণের মধ্যে থাকেন নারদ, দেবল, ব্যাস, শুক, পরাশর, বশিষ্ঠ, বিশ্বামিত্র ও রুদ্র। রথের শক্তি দেবী বিরজা/ বিমলা সর্বসময়ে প্রভুর সহিত পূর্ণশক্তিতে আবির্ভূতা এবং রথের আসনে আসীন জগৎঅধীশ্বর দেবদেব জগন্নাথস্বামী।

শেয়ার করুন