করোনা পরিস্থিতিতে আড়ম্বরহীন কামাখ্যার অম্বুবাচী উৎসব

নিজস্ব প্রতিনিধি,কলকাতা : এ বছরও কামাখ্যা মন্দিরে অনুষ্ঠিত হচ্ছে অম্বুবাচী উৎসব ৷ তবে করোনা পরিস্থিতির কারনে সেই উৎসবের ক্ষেত্রে বেশকিছু সরকারী বিধিনিষেধ ছিলো ৷ তবে সেটি মেনেই ২২শে জুন সকাল ৭টা ৫৪ মিনিট থেকে এ উৎসব শুরু হল ৷ যোগঅনুযায়ী অনুষ্ঠান চলবে ২৫শে জুন সন্ধ্যা ৮টা ১৮ মিনিট পর্যন্ত। প্রতিবছর আষাঢ় মাসে অম্বুবাচীর মহাযোগে গুয়াহাটির নীলাচল পাহাড়ে অবস্থিত কামাখ‍্যা মন্দিরে অম্বুবাচী উৎসবে দেশ এবং বিদেশের লাখ লাখ ভক্তের সমাগম ঘটে ।

প্রথা মেনেই প্রতিবছর মন্দির প্রাঙ্গণে পূজানুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে ৷ তবে করোনা সতর্কতার কারণে ভক্ত সমাগমে এবছর রয়েছে নানাবিধ নিষেধাজ্ঞা। জুন মাসের ৮ তারিখ থেকে কেন্দ্রীয় সরকার ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান খোলার অনুমতি দিলেও ৩০শে জুন পর্যন্ত মন্দির বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন মন্দির কর্তৃপক্ষ। উৎসব মুহূর্তেও সেই সিদ্ধান্ত বহাল রয়েছে। সাধু, সন্ন্যাসী, ভক্ত সকলের জন্যই বন্ধ মন্দির প্রাঙ্গণের সব প্রবেশদ্বার। শুধুমাত্র মন্দিরের পুরোহিতরাই সেখানে উপস্থিত থেকে পূজাঅর্চনা করবেন ৷

৫১ সতীপীঠের মধ্যে কামাখ‍্যা মন্দির অন্যতম । কথিত আছে সতীর যোনি পড়েছিল এইস্থানে। দেবী কামাখ‍্যা ছাড়াও দশমহাবিদ‍্যার দশ দেবীর মন্দির আছে মন্দির প্রাঙ্গণে। হিন্দুদের, বিশেষত তন্ত্রসাধকদের জন্য এই মন্দির পবিত্র তীর্থ। প্রাচীন মন্দির ধ্বংসপ্রাপ্ত হলে ১৫৬৫ সালে অহোম রাজা চিলরায় মধ‍্যযুগীয় স্থাপত্য রীতি অনুসারে বর্তমান মন্দির নির্মাণ করেন। মন্দিরের গর্ভগৃহে কোনো মূর্তি নেই। শুধু যোনি আকৃতির পাথর ও একটি ভূগর্ভস্থ প্রস্রবণ আছে গর্ভগৃহে। অম্বুবাচীর সময় কামাখ‍্যা দেবীর ঋতুমতী হওয়ার ঘটনা উদযাপন করা হয়। এই সময় গর্ভগৃহে প্রস্রবণের জল লাল হয়ে যাওয়াকে ঋতুস্রাব বলে ধরা হয়।

এই মহাযোগ চলাকালীন মূল মন্দিরের দরজা বন্ধ থাকে, গর্ভগৃহের বাইরে থেকেই উপাসনা করা হয় দেবীর। দেবী দর্শণ থাকে নিষিদ্ধ। চতুর্থ দিনে স্নান ও পূজা সম্পন্ন হলে দেবী দর্শণের অনুমতি পান দর্শনার্থীরা। পূর্ব ভারতের সবচেয়ে বড়ো জনসমাগমও এই উৎসবকে কেন্দ্র করেই। এইসময় দেশ-বিদেশ থেকে প্রায় ৩০ লক্ষ মানুষের সমাগম ঘটে মন্দির চত্বরে। কিন্তু এই প্রথমবারই এবারের মত জনসমাগমবিহীন ভাবেই উদযাপিত হবে এই উৎসব।

শেয়ার করুন