ক্যান্সার রোগীর জন্য নিজের লম্বা চুল কেটে দান করল ছাত্রী

নিজস্ব সংবাদদাতা,মালদাঃ-কথায় বলে, মেয়েদের সৌন্দর্যের আসল রহস্যই নাকি লম্বা, ঘন চুল। তাই লম্বা ঘন চুল সব মেয়েরই পছন্দের। সেই চুলই যে কেউ স্বেচ্ছায় কেটে অন্যকে দান করতে পারেন, সে কথা হয়ত সত্যিই চট করে কোনও মেয়ের পক্ষেই ভাবাটা কঠিন। অবশ্য সেই কাজটাই করে দেখালেন মালদা নারায়নপুরের বাসিন্দা বিশ্ববিদ্যালয়ে পাঠরত বছর ২১-র ছাত্রী স্নেহা জয়সওয়াল। ক্যান্সার রোগীর জন্য অবলীলায় তার নিজের লম্বা চুল কেটে দান করলেন ক্যান্সার পীড়িতদের পরচুলা তৈরির জন্য। ইতিমধ্যেই মুম্বইয়ের “মদত ট্রাস্ট” স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ করে তাঁর কাটা চুল ক্যান্সার আক্রান্তদের দান করছেন তিনি।

স্নেহা জানান কেমোথেরাপির ফলে ক্যান্সার আক্রান্তদের মাথার চুল সম্পূর্ণভাবে পড়ে যায়। ফলে শারীরিক ভাবে সুস্থ হয়ে উঠলেও মাথায় চুল না থাকায় মানসিকভাবে অনেকটাই দমে যান তাঁরা। হীনমন্যতায় ভোগেন। হেয়ার প্ল্যান্টেসনের সামর্থ্য সকলের না থাকায়, তা ও সম্ভব হয় না সকলের পক্ষে। ফলে মানসিকভাবে ভেঙে পড়তে থাকেন তাঁরা। ক্যান্সার আক্রান্তদের কথা মাথায় রেখে বেশ কিছু স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা চুল সংগ্রহ করে তাঁদের মানসিকভাবে দৃঢ় করে তোলার কাজ করছেন।
প্রয়াস ক্ষুদ্র হলেও তার এই মহতী উদ্যোগে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছে “নতুন আলো” নামে একটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা। ওই স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার অন্যতম সদস্য স্নেহা।

স্নেহা আরো জানান, ব্যয়বহুল চিকিৎসার পরে হীনমন্যতায় ভোগা কোনও এক মহিলার বাকি জীবনটা হাসি-খুশী ভাবে কাটবে, এটা ভেবেই আনন্দ হচ্ছে। ছোট থেকেই ইচ্ছে ছিল মানুষের জন্য কিছু করব। আজ তা করতে পেরে খুবই ভালো লাগছে।

এদিকে, মেয়ে চুল কেটে ক্যান্সার আক্রান্তদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগকে সর্বোতভাবে সমর্থন করেছেন স্নেহার বাবা-মা।

“নতুন আলো” স্বেচ্ছাসেবক সংস্থার কর্ণধার জানিয়েছেন, আলমগীর খান যে এই গুরুত্বপূর্ন কাজটি করতে এগিয়ে এসেছে তার জন্য তাঁকে অভিনন্দন জানাই। তাঁর চুল অনেক ক্যান্সার আক্রান্ত রোগীদের কাজে লাগবে। এই ছাত্রী যে উদ্যোগ নিয়েছে, এটা দেখে অন্যদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

শেয়ার করুন