গভীর রাতে আগুনে পুড়ে ছাই দিনমজুরের ঘর , চাঞ্চল্য এলাকায়

নিজস্ব সংবাদদাতা,মালদা:গভীর রাতে আগুন লেগে পুড়ে ছাই হয়ে গেল এক দিনমজুরের ঘর। এই নিয়ে মালদা জেলার হরিশ্চন্দ্রপুর থানা এলাকার গড়গড়ি গ্রামে চাঞ্চল্য ছড়ায়। অভিযোগ ওই বাড়ির এক ছেলে দাদনে খাটতে যেতে অস্বীকার করায় ঠিকাদারের লোকজনই নাকি রাতের অন্ধকারে আগুন লাগিয়ে দেয় ঘরে। এদিকে আগুনে ক্ষতিগ্রস্তএলাকাবাসীরা অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারের দাবিতে তিন ঘণ্টা ধরে রাস্তা অবরোধ করে ওই পরিবারের লোক এলাকাবাসীরা। এর ফলে হরিশ্চন্দ্রপুর রেল স্টেশন যাওয়ার প্রধান শক্তি অবরুদ্ধ হয়ে যায় তিন ঘন্টা ধরে। তিন ঘন্টা পরে হরিশ্চন্দ্রপুর থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারটির সঙ্গে আলোচনায় বসে তারপরই পথ অবরোধ তুলনা নেওয়া হয়।
আগুন লাগার খবর পেয়ে হরিশ্চন্দ্রপুর এর তুলসিহাটা থেকে দমকলের একটি ইঞ্জিন এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনলেও ততক্ষণে সমস্ত কিছু পুড়ে ছাই হয়ে যায়।
ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের গৃহবধূ শান্তি ওরাও জানান গতকাল রাত বারোটা নাগাদ আমি আমার বউ মার চিৎকার শুনতে পেয়ে ঘরের বারান্দায় ছুটে আছি সেখানে দেখতে পাই বাইরে থেকে আমাদের দরজা লাগিয়ে দেওয়া হয়েছে ঘরেরচালে আগুন লাগানো হয়েছে। মাটির দেওয়ালে পেট্রোলের গন্ধ আমি পাই। কার সাথে মাটির দেওয়ালে আগুনের ফুলকি লক্ষ্য করি। আমরা এই বাড়িতে ছেলে বৌমা স্বামী স্ত্রী সহ বাচ্চাকাচ্চা নিয়ে সাতজন থাকি।আমি চিত্কার করে বাড়ির অন্য লোকের ডেকে তুলি কোনরকমে দরজা ভেঙে আমার ছেলেরা ঘর থেকে বার হয়ে দৌড়ায়। মেয়েদের ঘরের বাইরে করা হয়। এরই মধ্যে সারা বাড়িতে আগুন ছড়িয়ে যায়। পুরো বাড়ি ঘর বাড়ির ভেতরে রাখা সমস্ত জিনিসপত্র পুড়ে ছাই হয়ে যায়। আমরা সন্দেহ করছি স্থানীয় এক লেবার সাপ্লাই কারী প্রতিহিংসাপরায়ণ বস ত আমাদের বাড়িতে আগুন লাগিয়েছে। আমার ছেলে বিজয় ওরাও ওই লেবার সাপ্লাই এর কাছ থেকে 6000 টাকা নিয়েছিল আগাম দাদন হিসাবে অন্য রাজ্যে কাজ করতে যাওয়ার জন্য। কিন্তু পরে যেতে সে অস্বীকার করে এবং লেবার সাপ্লাই কারী কে টাকা ফেরত দিতে চাইলে সেই সাপ্লাই কারী জোরপূর্বক আমার ছেলেকে দাদন খাটতে যাওয়ার জন্য চাপ দেয়।আমরা টাকা ফেরত দিয়ে চাইলে উল্টে হুমকি দেয় প্রাণে মেরে ফেলার। গতকালও সকালে এবং সন্ধ্যায় দুই বার আসে এবং টাকা দেওয়ার জন্য জোর দেয়। আমরা টাকা দিতে রাজি ছিলাম। কিন্তু বলেছিলাম ব্যাংক খুললেই আজকেই টাকা দিয়ে দেব।

সে ওই কথা না শুনে আমাদেরকে হুমকি দিয়ে চলে যায়। আমাদের বিশ্বাস লেবার সাপ্লাই কারী আজকে আমাদের প্রাণে মেরে ফেলার জন্য গভীর রাত্রে আমাদের বাড়িতে আগুন লাগিয়েছে। এই নিয়ে আমরা থানায় অভিযোগ করেছি।
শান্তি ওরাও এর ছেলে বিজয় ওরাও জানায় আমি প্রথমে ওই লেবার সাপ্লাই কারীর অধীনে দাদন যাওয়ার জন্য রাজি ছিলাম। তার জন্য ছয় হাজার টাকা অগ্রিম নিয়েছিলাম। আমার সঙ্গে আরও 10-12 জনকে বাইরে যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু শেষে দেখা যায় কেউ যেতে রাজি হয়নি। আমিও যেতে অস্বীকার করি। এবং টাকা ফেরত দিয়ে চাই। কিন্তু ওই সাপ্লাই কারী আমার বাড়িতে এসে টাকা নেয় নি উপরন্ত সেখানে দাঁড়িয়ে আমার আমাকে আমার পরিবারকে প্রাণে মেরে দেওয়ার হুমকি দেয়। আমরা সন্দেহ করছি গভীর রাত্রে ও কিংবা ওর কোন লোকজন আমাদের বাড়িতে আগুন দিয়ে আমাদের প্রাণে মেরে ফেলার চক্রান্ত করেছে। এ বিষয়ে আমরা অবিলম্বে পুলিশি হস্তক্ষেপে দাবি করছি।
এদিকে অভিযোগকারীকে অবিলম্বে গ্রেপ্তারের দাবিতে এলাকার আদিবাসী সম্প্রদায়ের মানুষেরা হরিশ্চন্দ্রপুর রেলওয়ে স্টেশন রাস্তা অবরোধ করে সকাল থেকেই। এর জেরে ঘন্টা তিনেক দুই দিক থেকে গাড়ি চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।
পরে পুলিশি হস্তক্ষেপে অবরোধ উঠে যায়।
স্থানীয় বাসিন্দা পার্বতী ওরাও জানায় আমার ভাগনা দাদন এ টাকা নিয়ে পরে কাজে যেতে না চাইলে এবং টাকা ফিরিয়ে দিতে চাইলে এনিয়ে লেবার সাপ্লাইয়ারের সঙ্গে গন্ডগোল শুরু হয়। এজন্যই আমরা মনে করছি ওই লেবার সাপ্লাই কারী আগুন লাগিয়ে এদেরকে প্রাণে মেরে ফেলার চক্রান্ত করেছিল। আমরা এর প্রতিবাদ করে অবিলম্বে ওই সাপ্লাই কারী গ্রেপ্তারের দাবিতে আজ পথ অবরোধ করেছিলাম। আগামীতে পুলিশ কোন ব্যবস্থা না নিলে আমার আমরা এরকম প্রতিবাদে শামিল হবো।
এদিকে আগুন লাগার খবর শুনে ঘটনাস্থলে ছুটে যান জেলা তৃণমূলের যুব সহ-সভাপতি বুলবুল খান। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের হাতে সাহায্য তুলে দেন এবং জানান আমরা পরিবারটির পাশে রয়েছি। আজকে আমি কিছু সাহায্য দেখা তুলে দিলাম। আগামীতে যাতে ওই পরিবারটি সরকার থেকে সমস্ত সুযোগ-সুবিধা পায় সেই বিষয়টি আমি খতিয়ে দেখব। তাড়াতাড়ি ওদের একটা ঘরের ব্যবস্থা করে দেয়া হবে।
এদিকে অভিযোগ পেয়ে হরিশ্চন্দ্রপুর থানার পুলিশ ঘটনার তদন্তে নেমেছে।




%d bloggers like this: