গ্রামে কোভিড পজেটিভ, শুনশান রাস্তা, পাশ দিয়ে পার হচ্ছেন না কেউ

নিশীথ ভূষণ মাহাত, পুরুলিয়া : করোনা মহামারী গোটা বিশ্বে কাঁপুনি ধরিয়ে দিয়েছে । এখনও হাতে আসেনি ভ্যাকসিন । লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে আক্রান্ত এবং মৃত্যুর সংখ্যা । তথাপি সাধারণ মানুষের মধ্যে একটা বেপরোয়া মনোভাব দেখা যাচ্ছিল । লক ডাউন বা সামাজিক দূরত্ব খুব একটা মানা হচ্ছিল না । মাস্কও গুরুত্ব পাচ্ছিল না । লক ডাউন মানাতে প্রশাসন বহু প্রচার করেছে । পুলিশ কঠোর ব্যবস্থা নিতে চেষ্টা করেছেন । কিন্তু মানুষ বেপরোয়া ভাবে ঘুরে বেড়াচ্ছিলেন । সপ্তাহ খানেক আগেও পুরুলিয়া ছিল গ্রীন জোন । গত ২৭ শে মে এই জেলায় প্রথম করোনা আক্রান্তের হদিস মেলে । এই সংবাদ চাউর হতেই দিন কয়েক কিছুটা সচেতনতা লক্ষ্য করা গেছে । এরপর করোনা রোগীর সংখ্যা বাড়তে থাকে । শুক্রবার অব্দি জেলায় আক্রান্তের সংখ্যা ৮৩ । প্রশাসনের তরফে আক্রান্ত স্থান গুলো কে চিহ্নিত করে ঐ এলাকায় প্রবেশ নিষিদ্ধ করেছেন । তবে লক্ষ্মণ হীন কোভিড পজেটিভ রোগীদের বেশিরভাগকেই হোম কোয়ারেন্টাইন এ থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে । সম্প্রতি পুরুলিয়া ২ ব্লকের মাকড়াবেড়া তে একটি কোভিড পজেটিভ ধরা পড়ে ।
আক্রান্তের নাম গৌতম মাহাত, বয়স ২১ । সে দিল্লিতে নির্মাণ শ্রমিকের কাজ করত । গত সপ্তাহ দুয়েক আগে দিল্লি থেকে ফেরার পর যথারীতি প্রাথমিক পরীক্ষা করে চিকিৎসকেরা তাঁকে হোম কোয়ারেন্টাইন এ থাকার পরামর্শ দেন । সেই মতো গ্রামের একটি ইস্কুলে ১৩ দিন অতিক্রান্ত করার পর নমুনা পরীক্ষার রিপোর্ট আসে কোভিড পজেটিভ সে । সঙ্গে সঙ্গে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে । প্রশাসন গ্রামটি সিল করে দেওয়া হয়েছে । অবশ্য তার আগেই গ্রামের বাসিন্দারা আতঙ্কে গৃহবন্দী হয়ে পড়েন । প্রশাসনের এত প্রচারের এত চেষ্টার পরেও যেখানে এতটুকুও গ্রাহ্যনীয়তা দেখা যায়নি এই মুহূর্তে এলাকার বাসিন্দারা ঐ পথেই পা বাড়াচ্ছেন না আতঙ্কে । তবে প্রশাসন ঐ পরিবারে বাঁশের বেড়া দিয়েছে । জল বা অন্যান্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী এনে দেওয়ার ব্যবস্থা করেছেন । গৌতম জানিয়েছেন তার শারীরিক কোনও রকম সমস্যা হচ্ছে না । পরিবারের অন্যান্য সদস্যদেরও নমুনা পাঠানো হয়েছিল । তাদের রিপোর্ট নেগেটিভ বলে জানা গেছে । পুরুলিয়া ২ ব্লকের বিডিও বিজয় গিরি বলেন ” প্রশাসনের পক্ষ থেকে সব ধরনের সহযোগিতা করা হচ্ছে । কোয়ারেন্টাইন শেষ হলে আবারো পরীক্ষা করা হবে । “

শেয়ার করুন