জেনে নিন বিপত্তারিনী পুজোর ইতিকথা

জয় মা বিপত্তারিনী পুজোতে লাগে ১৩ ফুল, ১৩ রকম ফল, ১৩ রকম মিস্টি, ১৩ পান সুপারি। তারপর ১৩ টা দূর্বা দিয়ে লাল সুতো (কস্তা) তে তা দিয়ে ডুরী তৈরি করতে হয়।
ব্রাহ্মণের দ্বারা আম্রপল্লব ঘট স্থাপন করে নাম গোত্র সহযোগে পুজো দেয় হিন্দু মেয়েরা। বেশিরভাগ কালী ও দুর্গা মন্দিরে এই পুজো হয়ে থাকে।

পুজোর পর শোনা হয় মা বিপত্তারিনী ব্রত কথা।
আষাঢ় মাসের শুক্লপক্ষে দ্বিতীয় থেকে দশমী পর্যন্ত এই পুজো হয় সংকট নাশিনী একটি রূপ দেবী দুর্গা ১০৮ অবতারের মধ্যে অন্যতম এই দেবী।

কথিত আছে বিপদ থেকে উদ্ধার পাবার জন্য পুরুষেরা ডান হাতে মহিলারা বাম হাতে ডুরী বাধে ১৩ দূর্বা সহ লাল সুতোয়।
যাতে মা তাদের সমস্ত বিপদ থেকে রক্ষা করেন।
এই পুজোর একটি কাহিনী আছে যে বিষ্ণুপুরের মল্ল রাজবংশ রানী এক নিম্নবর্গের সখি ছিল ,তিনি জাতে মুচি ছিল ।
ওই মহিলা নিয়মিত গোমাংস খেত। রানীর একদিন ইচ্ছা হলো গোমাংস খাবার ।ওই নিম্নবর্ণের সখি ইচ্ছা না থাকলেও রানীর আদেশ রক্ষা করার জন্য রাজি হতে হয়। এই খবর রাজার কাছে গুপ্তচরের মাধ্যমে চলে যায় রাজা তক্কে তক্কে ছিল ।রানী গোমাংস হাতে আসার পর রাজা খবর পেয়ে রেগে ক্রুদ্ধ হয়ে রাজমহলে প্রবেশ করল সেই খবর রানীর কাছে যেতেই রানী ভয়ে গোমাংস হাতে নিয়ে মা দুর্গার স্মরণ করতে থাকলো। রাজা রানীর কাছে এসে তাকে শাস্তি দেবার জন্য উদ্যত হল। রাজা তল্লাশি শুরু করলো কিন্তু রানীর হাত থেকে গোমাংস পাওয়া গেল না, বরং তার জায়গায় তার হাতে পাওয়া গেল লাল জবা ফুল। এই যাত্রায় মা তাকে বাঁচিয়ে দিল। এইভাবে মা বিপত্তারিনির ব্রতো শুরু হলো।
জয় মা বিপত্তারিনী সবার মঙ্গল করো।

ওঁ প্রত্যালীঢ়পদাং ঘোরাং মুণ্ডমালাবিভূষিতাম্। খর্ব্বাং লম্বোদরীং ভীমাং ব্যাঘ্রচর্ম্মাবৃতাং কটৌ।। নবযৌবনসম্পন্নাং পঞ্চমুদ্রাবিভূষিতাম্। চতুর্ভূজাং লোলজিহ্বাং মহাভীমাং বরপ্রদাম্। খড়্গকর্ত্তৃসমাযুক্তসব্যেতরভূজদ্বয়াম্। কপালোৎপল-সংযুক্তসব্যপাণিযুগান্বিতাম্।। পিঙ্গাগ্রৌকজটাং ধ্যায়েন্মৌলিবক্ষভ্যভূষিতাম্। বালার্কমণ্ডলাকা
রলোচনত্রয়ভূষিতাম্।। জলচ্চিতামধ্যগতাং ঘোরদংষ্ট্রাং করালিনীম্। স্বাবেশস্মেরবদনাং স্ত্র্যলঙ্কারবিভূষিতাম্।। বিশ্বব্যাপক তোয়াস্ত শ্বেতপদ্মোপরিস্থিতাম্। অক্ষ্যেভ্যো দেবীমূর্দ্ধন্যস্ত্রীমূর্ত্তিনাগরূপধৃক্।। …

বর্তমান এই অশুভ পরিস্থিতি থেকে তুমি আমাদের রক্ষা করো।

রামকৃষ্ণ চ্যাটার্জী। এস প্লাস নিউজ।

শেয়ার করুন