নবনির্মিত পঞ্চায়েত কার্য্যালয় উদ্বোধনে মন্ত্রী শান্তিরাম মাহাতকে গ্রামবাসীদের বাধা


নিশীথ ভূষণ মাহাত, পুরুলিয়া : নবনির্ম্মিত পঞ্চায়েত ভবন উদ্বোধন করতে গিয়ে বাধা প্রাপ্ত হলেন জেলা থেকে রাজ্যের পশ্চিমাঞ্চল উন্নয়ন মন্ত্রী শান্তিরাম মাহাত । আজ পুরুলিয়া ২ ব্লকের পিঁড়রা গ্রাম পঞ্চায়েতের নতুন ভবন আনুষ্ঠানিক ভাবে উদ্বোধন করতে এসে ঐ পঞ্চায়েতেরই গোপালপুর গ্রামের বাসিন্দাদের দ্বারা ফিতে কাটতে বাধা প্রাপ্ত হন তিনি । তাঁদের দাবি, নবনির্ম্মিত পঞ্চায়েত ভবনটি গোপালপুর মৌজার মধ্যে অবস্থিত কিন্তু উদ্বোধনী পোস্টারে খোদিত রয়েছে পার্শ্ববর্তী পলাশ কলা গ্রামের নাম । গোপালপুর নামটি থাকলেও তা রয়েছে পলাশ কলা গ্রামের পরে । তাই অবিলম্বে পোস্টারে ‘স্থান’ এর জায়গায় ‘গোপালপুর’ নামটি আগে লিখতে হবে । এই দাবীতে তাঁরা মন্ত্রী শান্তিরাম মাহাতকে ফিতে কাটতে বাধা দেন । আজ বেলা ১২:৪০ নাগাদ অনুষ্ঠানস্থলে আসেন মন্ত্রী শান্তিরাম বাবু । আসা মাত্রই তাঁকে যথাযথ সম্মানের সঙ্গে বরণ করে নেওয়া হয় । উদ্বোধনী সঙ্গীত পরিবেশিত হয় । তখনও বোঝা যায়নি যে ঘটনা কি হতে যাচ্ছে । তবে গোপালপুর বাসিদের হাব ভাবে একটা চাপা গাম্ভীর্যতা দেখা যাচ্ছিল । কেউ কেউ বলার চেষ্টাও করছিল যে ফলকের উক্ত বিষয়টা শংশোধন না করলে উদ্বোধন করতে দেবেন না । হয়তো উদ্যোক্তাদের কর্ণ গোচর হয়নি ব্যাপারটা । তাই মন্ত্রী যখন মূল দরজায় ফিতে কাটতে যান তখনই দরজার কাছে বসে বিক্ষোভ দেখান গোপালপুর গ্রামের বাসিন্দারা । এদিন তাঁর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন পুরুলিয়া জেলা পরিষদের পূর্ত বিভাগের কর্মাধ্যক্ষ হলধর মাহাত, পুরুলিয়া ২ নং পঞ্চায়েত সমিতির কর্মাধ্যক্ষ রাজপতি প্রসাদ মাহাত এবং পিঁড়রা গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান অশোক কুমার মাহাত এবং আরও বহু বিশিষ্ট ব্যক্তি। উপস্থিত থাকার কথা থাকলেও আসতে পারেন নি জেলাশাসক রাহুল মজুমদার,ঐ ব্লকের বিডিও বিজয় গিরি এবং পুরুলিয়া জেলা পরিষদের সভাধিপতি সুজয় ব্যানার্জি প্রমুখরা । উপস্থিত সকলেই এই ঘটনায় হতবাক হয়ে যান । একটা বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয় । অস্বস্তি বোধ করেন মন্ত্রী সহ উপস্থিত বিশিষ্টরা । এছাড়াও অন্যান্য গ্রামের বাসিন্দারাও তর্ক বিতর্কে জড়িয়ে পড়েন । সাময়িক ভাবে আটকে যায় উদ্বোধন । এমতাবস্থায় পুলিশের দ্বারস্থ হন উদ্যোক্তারা । কিছুক্ষণের মধ্যেই পুরুলিয়া মফঃস্বল থানার পুলিশ বাহিনী হাজির হন সেখানে । পুলিশের উপস্থিতিতে নতুন পঞ্চায়েত ভবনের উদ্বোধন করতে সফল হন মন্ত্রী শান্তিরাম বাবু । তবে এতে ক্ষোভ আরও বেড়েছে গোপালপুর গ্রামের বাসিন্দাদের ।

শেয়ার করুন