পাগড়ি কান্ডের প্রতিবাদে ক্রিকেটার হরভজন সিংয়ের টুইট


দেবযানী ভট্টাচার্য্য :বৃহস্পতিবার বিজেপি-র নবান্ন অভিযানে শিখ সম্প্রদায়ের একজনের পাগড়ি খোলা নিয়ে বিতর্কের জেরে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ব্যবস্থা নিতে বললেন প্রাক্তন ক্রিকেটার হরভজন সিংহ। ওই আর্জি জানিয়ে সরাসরি টুইট করেছেন তিনি। যদিও রাজ্য পুলিশের পক্ষ থেকে ঘটনার একটি ভিডিয়ো-সহ টুইট করে বলা হয়েছে, ধস্তাধস্তিতে পাগড়ি খুলে পড়েছিল। পুলিশ অফিসারদের কেউ তাঁর পাগড়ি খোলেননি।

ওইদিন বিজেপির ‘নবান্ন চলো’ অভিযানে শামিল হয়েছিলেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি তথা সাংসদ দিলীপ ঘোষ, দলের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি মুকুল রায় এবং বিজেপির প্রথমসারির বেশ কিছু নেতা। পুলিশ তাঁদের বাধা দিলে বিভিন্ন এলাকায় তাদের সঙ্গে বচসা এবং ধ্বস্তাধ্বস্তি বাধে বিজেপি কর্মীদের। সেই ধ্বস্তাধ্বস্তির ভিডিয়ো ফুটেজে দেখা যায়, এক শিখ যুবককে ধরেছে পুলিশ। সেই যুবককে ধরার সময় ধ্বস্তাধ্বস্তিতে তাঁর পাগড়ি খুলে যাচ্ছে। ঘটনাচক্রে, বলবিন্দর সিংহ নামে ওই যুবকের হেফাজত থেকে একটি পিস্তলও উদ্ধার করেছিল পুলিশ। তা নিয়ে ব্যাপক বিতর্কও হয়েছিল। বলবিন্দর বিজেপি যুবমোর্চার রাজ্য কমিটির সদস্য তথা ব্যারাকপুরের বাসিন্দা প্রিয়াঙ্গু পাণ্ডের দেহরক্ষী বলে জানা গিয়েছিল। বিজেপি বলেছিল, তাঁর পিস্তলটি লাইসেন্সপ্রাপ্ত। সেটির লাইসেন্স করানো হয়েছিল জম্মুর রজৌরি থেকে।ওইদিন রাতেই ভিডিয়োটি ভাইরাল হয়ে যায়। তা নিয়ে দেশ জুড়ে বিতর্ক ছড়িয়ে পড়ে। দিল্লির জংপুরের বিজেপি নেতা ইমপ্রীত সিংহ বক্সি ভিডিয়োটি টুইট করে লেখেন, ‘প্রিয়াঙ্গু পাণ্ডের দেহরক্ষী বলবিন্দর সিংহের পাগড়ি খুলে দেওয়া হয়েছে। তাঁকে টেনেহিঁচড়ে রাস্তায় নৃশংস ভাবে মেরেছে বাংলার পুলিশ’। পাগড়ি খুলে দেওয়া শিখ সম্প্রদায়ের কাছে গর্হিত অপরাধের শামিল। মুখ্যমন্ত্রী মমতার কাছে সংশ্লিষ্ট পুলিশকর্মীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আর্জি জানান ইমপ্রীত। তাঁর টুইটটি ‘রিটুইট’ করেন এক জনৈক নেটাগরিক। তিনি প্রাক্তন ক্রিকেটার যুবরাজ সিংহ, হরভজন-সহ আরও অনেককে ‘ট্যাগ’ করেন। সেই টুইট দেখেই বাংলার মুখ্যমন্ত্রীর কাছে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য টুইটে আবেদন জানান হরভজন।

তবে রাজ্য পুলিশের পক্ষ থেকে পর পর দু’টি টুইট করে দাবি করা হয়েছে, ধস্তাধস্তিতে পাগড়ি এমনিতেই খুলে গিয়েছে। ঘটনার একটি ভিডিয়ো-সহ টুইটে পুলিশের বক্তব্য, ‘বৃহস্পতিবারের প্রতিবাদ কর্মসূচিতে আগ্নেয়াস্ত্র-সহ এক ব্যক্তি গ্রেফতার হয়েছেন। তাঁর পাগড়ি খুলে গিয়েছে ধস্তাধস্তির সময়। আমাদের কোনও অফিসার পাগড়ি খোলার চেষ্টা করেননি (ভিডিয়োতে দৃশ্যমান)। কোনও সম্প্রদায়ের ভাবাবেগকে আঘাত করা কখনওই আমাদের উদ্দেশ্য নয়। সব ধর্মকে সম্মান করে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ। গ্রেফতারের আগে অফিসারই নির্দিষ্ট করে তাঁকে পাগড়ি পরে নেওয়ার কথা বলেন। সঙ্গে দেওয়া ছবিটি তোলা হয়েছে তাঁকে থানায় নিয়ে যাওয়ার আগের মুহূর্তে। রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় আমরা দায়বদ্ধ।’’

শেয়ার করুন