পিতা সাংবাদিক তাই করোনাআতঙ্কে কন্যাকে প্রাইভেট টিউশনে দূরে রাখা হলো


জেলা সংবাদদাতা,মালদহ:অপরাধ সাংবাদিকতা করা ৷ তার জেরেই প্রাইভেট টিউশনে করোনাআতঙ্কে অন্য ছেলেমেয়েদের থেকে দূরে সরিয়ে রাখা হয় সাংবাদিক কন্যাকে ৷ সংবাদ সংগ্রেহের তাগিদে প্রতিদিন জেলার বিভিন্ন জায়গায় ঘুরতে হয় সাংবাদিককে ৷ আর এটাই কাল হয়ে দাড়িয়েছে সাংবাদিক কন্যার ৷ এমনই অমানবিক ঘটনা মালদহ জেলার সাংবাদিক দেবু সিংহের কন্যার সাথে ৷ এতে ছোট্ট মেয়ের মনে সৃষ্টি হয়েছে বিরূপ ধারণার ৷
দেবু বাবু জানিয়েছেন তাঁর ছোট্ট মেয়ে যখন গৃহ শিক্ষকের কাছে পড়তে যায়, তখন তাকে দূরে সরিয়ে রাখা হয়। নেপথ্যে রয়েছে অন্যান্য পড়ুয়াদের অভিভাবকেরা । পাড়ায় ছোট ছোট বাচ্চাদের সঙ্গে কথা বলতে গেলেও মেয়েকে শুনতে হয় বাড়ি যাও তোমার বাবা …কেন জানেন ? যেহেতু তিনি সাংবাদিক।
অনেক দিন ধরে তিনি রয়েছেন সাংবাদিকতার সঙ্গে । করোনা আবহের মধ্যেও দিনরাত এক করে সাধারণ মানুষকে খবর পরিবেশন করে চলেছেন । আর করোনা উপসর্গ বা আক্রান্ত কোনটাই তার না থাকলেও উল্টো গালমন্দ শুনতে হচ্ছে ৷

তিনি দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, সত্যতা এবং সঠিক দিকটা দেখানো যাদের কর্তব্য। সেই সাংবাদিকের ছোট্ট মেয়েকে গৃহশিক্ষকের ব্যাচে দুরে করে রাখা হয় , সেটা কি উচিত ? সুশীল সমাজ জানেন সাংবাদিকরা কিভাবে সংসার চালান ? শুধুমাত্র লেখার নেশায় দিনের উপর দিন আধপেটা খেয়েও অনেকে লিখে যাচ্ছেন পেশা পরিবর্তন না করে ।

এই পরিস্থিতি চলতে থাকলে আগামী দিনে করোনা সংক্রমণের বিরুদ্ধে না সাংবাদিক, না চিকিৎসক, না পুলিশ, না স্বাস্থ্যকর্মী কেউ হয়তো এগিয়ে আসার সাহস পাবে না।

মানুষকে সচেতন হতে হবে। বরঞ্চ জনস্বার্থে জন্য যেভাবে সাংবাদিকেরা মাঠে, ময়দানে ঝাঁপিয়ে পড়েছেন, তাদের সাধুবাদ জানানো উচিত। কিন্তু তা না করে খুঁদে মেয়ের উপর বঞ্চনা করা হচ্ছে।

দেবু সিংহ বলেন “তাঁর মেয়েকে দূরে থেকে, তাকে গৃহশিক্ষকের কাছে পড়তে হচ্ছে‌। অন্যান্য কচিকাঁচারা অবশ্য একসাথেই থেকে আনন্দ উপভোগ করে, পড়াশোনা করছে। জানি না এতে অন্যরা কতটা সচেতন। তবে একজন সাংবাদিকের কর্তব্য এবং দায়িত্ব সঠিক তথ্য তুলে ধরা এবং  মানুষকে জীবনে চলার ক্ষেত্রে অবগত করা। যা সাংবাদিকেরা চিরদিন করে এসেছে,  অদূর ভবিষ্যতেও করে যাবে।” 

শেয়ার করুন