পুঃ মেদিনীপুরে বাঁধ নির্মাণকাজ বন্ধ , জল বাড়লে তলিয়ে যাবে ৫ টি ব্লক

নিজস্ব সংবাদদাতা ,পূর্ব মেদিনীপুর:- পূর্বচিল্কার কাঁসাই নদী সংলগ্ন জমিদারী বাঁধটি গত বছর কেটে দেওয়া হয়ে ছিলো। এবছর জুন মাসে বর্ষা আসার আগে ব্রীজের পিলারের কাজ সম্পন্ন করে বাঁধটি পুনর্নির্মাণ করার কথা। কিন্তু ঠিকাদারের গড়িমসি ও লকডাউনের কারণে নির্মানকার্য মন্থর হয়ে পড়ে। যায় ফলে ভরা বর্ষাতেও বাঁধ পুরো খোলা অবস্থায় ছিলো। ২০১৭ সাল থেকে তদানীন্তন পাঁশকুড়া পঞ্চায়েত সমিতির বন ও ভূমি কর্মাধ্যক্ষ তপন সামন্ত ব্রীজের জমি অধিগ্রহণ থেকে সমস্ত কাজে প্রশাসনকে সাহায্য করে আসছেন তৃণমূলের প্রাক্তন অঞ্চল সভাপতি, বর্তমানে পূর্বচিল্কা ১৪ নম্বর বুথের সদস্যা শ্রীমতী মৌমিতা সামন্তের প্রতিনিধি তপনবাবু গত জানুয়ারী মাস থেকেই ঠিকাদারকে চাপ দিতে থাকেন , দ্রুত বাঁধনির্মাণ করার জন্য। কিন্তু এজেন্সির আঠারো মাসে বছর হওয়ার কারণে বাঁধের কাজ শুরুই করা হয়নি। তারপর লক ডাউনের অজুহাতে কাজ বেশ কিছু দিন বন্ধ থাকে। এরপর ব্রীজের নির্মাণকার্য চালু হলেও, বাঁধের কাজ যেই তিমিরে ছিল, সেই তিমিরেই থাকে। ফলে যা হওয়ার তাই হলো গত ২২ শে আগস্ট শনিবার ভোর থেকে ব্যারেজের জল ছাড়ার ফলে জলের উচ্চতা প্রায় সাড়ে ৬ ফুট বেড়ে যায় তপনবাবু ভোর বেলাতেই বৃষ্টির মধ্যেই ভিজে ভিজে কিছু লোক নিয়ে বাঁধ বাঁধার কাজ শুরু করেন। তপনবাবু বার বার ঠিকাদারকে ও জেলা প্রশাসনকে ফোন করে করে জেলা পরিষদ থেকে মাত্র হাজার তিনেক বস্তা ও ঠিকাদারের তরফে একটি JCP মেশিন রাতে এসে পৌঁছায়। শিফট সিস্টেমে সারা রাত ধরে অক্লান্ত পরিশ্রম করে কোনোক্রমে বস্তা প্যাচিং দিয়ে নদীর জলকে আটকে দেওয়া হয়। আজ রবিবার ভোরে পাশের পশ্চিম চিল্কা বুথের সদস্যা শ্রীমতী সুনিতা ঘড়ার স্বামী গৌরাঙ্গ ঘড়া ও তাঁর বুথের কর্মীদের নিয়ে সাহায্য করতে এগিয়ে আসেন। কিন্তু রবিবারও জলস্তর বাড়তে থাকায় ঐ বালির বাঁধ কতটা প্রতিরোধ করতে পারবে তা নিয়ে সন্দেহ আছে। স্থানীয় সদস্যা শ্রীমতী মৌমিতা সামন্ত বলেন, আমরা স্থানীয় যথাসাধ্য চেষ্টা করছি , যাতে হাজার হাজার মানুষকে আবার ঘর ছাড়া হতে না হয় । জেলা থেকে কিছু বস্তা এলেও, তা প্রয়োজনের তুলনায় নগন্য। এ ছাড়াও সত্বর শালবল্লী আনানোর চেষ্টা করছি পূর্বচিল্কার সদস্যার স্বামী ও পূর্বচিল্কার পোস্ট মাস্টার শ্রী বিশ্বজিৎ সামন্ত আমাদের সংবাদদাতা কে জানিয়েছেন, এই নদীবাঁধ ভেঙে গেলে, তার চাপ PWD বাঁধের উপর পড়বে। এবং PWD বাঁধ ভেঙে গেলে প্রায় ৫ টি ব্লক জলের তলায় চলে যাবে। মাননীয় মন্ত্রী শ্রী শুভেন্দু অধিকারী মহাশয়কে WhasApp এর মাধ্যমে পরিস্থিতিটির ভয়াবহতার কথা জানিয়ে, সাহায্য চাওয়া হয়েছে, আশা করি উনি দ্রুত হস্তক্ষেপ করবেন।

শেয়ার করুন