ফাইট ,ফেলুদা ফাইট প্লিজ !


দেবযানী ভট্টাচার্য্য:মহামারির এই অলক্ষুণে সময় এই জন্যই আর রাত জাগতে ভালো লাগেনা। এই মাত্র বেলভিউ হাসপাতাল থেকে খবর পেলাম সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায় একটু বেশীই অসুস্থ। অক্সিজেন স্যাচিউরেশন কমের দিকে, অন্যান্য প্যারামিটার ওঠানামা করছে। লালমোহন বাবু হলে বলতেন, ঘাবড়ানোর কিছু নেই। কতো কিছু দেখলাম আর এই করোনা! ধুর মশাই। আসুন পরের ট্রিপ প্ল্যান করি। মাঝে একটা বই বেরিয়েছে, পড়ে দেখুন দেখি, মহামারীতে মহারণ! ফেলুদা আবার এসব নিয়ে ভয় পায় নাকি।

কিন্তু ভয় তো হয়। সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায় তো স্রেফ একজন অভিনেতা নন। আমাদের এক চলমান নস্টালজিয়া। অপু, ফেলুদা, উদয়ন পন্ডিত, অমল, ক্ষিদদা, ময়ূরবাহন, নরসিং, অসীম, রাজা লিয়ার! হরিদাসের বুলবুল ভাজার ঝুলির মতো কতো স্মৃতি তাকে নিয়ে।

এতো দুর্ধর্ষ দুশমনের সাথে যে লোকটা লড়েছে তাকে এই জীবাণুর সাথেও লড়তে হবে এবার। জান লড়িয়ে দাও ফেলুদা। উদয়ন মাস্টার প্লিজ এবার কিছু একটা করো৷ পাতালঘরের অঘোর সেনকে খবর পাঠাও৷ কোন একটা ভ্যাক্সিন আবিস্কার করুক। দরকার পরলে ন্যাপচা থেকে নিয়ে আসুক মহাঔষধ! কিন্তু সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়কে সুস্থ হতেই হবে।

ক্ষিদদা না এবার কণি সৌমিত্রবাবুকে বেডের পাশে দাঁড়িয়ে বলছে, “ফাইট ফেলুদা ফাইট।” এবার মগনলাল মেঘরাজ বলছে, “মিস্টার মিত্তির ফাইট কোরেন, ফিট হয়েন, সরবত খান, হামার সাথে ফাইট করতে হোবে মিস্টার মিত্তির। এতো সহজে ছাড়বো না আপনাদের৷ আভি তো নাইফ কা খেল ফির সে দিখানো হোবে।”

হিরকরাজ, ডাকু গন্ডারিয়া, ক্যাপ্টেন স্পার্ক, মুকুল, র‍্যাক্সিট, সঞ্জয়, হরি, শেখর সব্বাই দুশ্চিন্তা করছে। চারুলতা আর অপর্ণা ঘনঘন পায়চারি করছে হাসপাতালের করিডরে৷ তোপসে চুপ৷

প্লিজ ফেলুদা সুস্থ হয়ে বাড়ি ফেরো। যে বাঙালি ক্যালিফোর্নিয়া বসে আছে তার, যে কৃষ্ণনগর বসে আছে তার, যে কর্ণাটক বসে আছে তার, সব্বার টেলিপ্যাথি বলছে তুমি সুস্থ হয়ে যাবে। আমাদের সব্বার টেলিপ্যাথির জোরকে সত্যি প্রমাণ করে দিয়ে প্লিজ হাসপাতাল থেকে বাড়ি ফেরো। ফের হাততালি দিয়ে তোমার ভক্তরা বলি, আছে আছে আমাদের টেলিপ্যাথির জোর আছে!

শেয়ার করুন