বাঁকুড়ায় ভূমি পূজার সমর্থনে লকডাউন উপেক্ষা করে রাস্তায় বিজেপি


নিজস্ব সংবাদদাতা, বাঁকুড়াঃ পূর্বঘোষিত কর্মসূচী অনুযায়ী যখন অযোধ্যায় রাম মন্দিরের ভূমি পুজো হচ্ছে, ঠিক তখনই পিছিয়ে নেই বাঁকুড়া বিজেপিও। দলের রাজ্যস্তরীয় নেতা ও বাঁকুড়ার সাংসদ ডাঃ সুভাষ সরকার সদলবদলে শহরের সতীঘাট রাম মন্দিরে গিয়ে পুজো দিলেন। সঙ্গে চললো দেদার লাড্ডু বিলি।
করোনা সংক্রমণ ঠেকাতে রাজ্য জুড়ে সাপ্তাহিক লক ডাউনের আগষ্ট মাসের প্রথম দিন ছিল আজ। কিন্তু সেই লক ডাউন উপেক্ষা করে সাংসদ সুভাষ সরকারের নেতৃত্বে বহু প্রতিক্ষিত রাম মন্দির শুরুর আনন্দে রাস্তায় নেমে পড়েন। জেলা জুড়ে শ্রীরাম চন্দ্রের পুজা পাঠ চললো সমানে। বাঁকুড়া শহরে মিছিলে পথ হাঁটলেন বিজেপি কর্মী-সমর্থকরা।
এপ্রসঙ্গে বিজেপি সাংসদ ডাঃ সুভাষ সরকার বলেন, ‘আইন দিয়ে তো মানুষের আবেগকে রোখা যাবেনা’। শ্রারামচন্দ্রের প্রতি রাজ্য সরকার অশ্রদ্ধা করে মানুষের আবেগকে রুখতে চেয়েছিল অভিযোগ করে বলেন, ‘রাম রোষ’ নিশ্চিত করে তৃণমূল ও রাজ্য সরকারের উপর পড়বে বলে তিনি দাবী করেন। একই সঙ্গে আগামী ২০২১ সালের মধ্যেই রামরোষে তৃণমূল নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবে। একই সঙ্গে লক ডাউনের দিনে তারা আইন মেনেই কর্মসূচী করেছেন বলে তিনি দাবী করেন।
এবিষয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া দিয়েছে শাসক তৃণমূল। দলের বাঁকুড়া জেলা সভাপতি ও রাজ্যের মন্ত্রী শ্যামল সাঁতরা সাংসদ সুভাষ সরকারের নাম না করে বলেন, ‘তিনি এমন কি হনু হয়েছেন যে প্রশাসনিক নিয়ম নীতি মানবেননা। বিষয়টি প্রশাসনকে জানানো হয়েছে’। পুজোর নামে তিনি করোনা ভাইরাস সর্বত্র ছড়িয়ে দেওয়ার কাজ করছেন বলেও শ্যামল সাঁতরা অভিযোগ করেন।
অপরদিকে বাঁকুড়ার বিষ্ণুপুর মহকুমা এলাকার বিভিন্ন প্রান্তে লক ডাউন উপেক্ষা করেই মানুষ রাস্তায় নেমে পড়েছেন । বুধবার পাত্রসায়র ব্লক এলাকার বিভিন্ন প্রান্তে দেখা গেল শ্রীরাম চন্দ্রের প্রতিকৃতি সামনে রেখে বিশেষ পুজাপাঠ শুরু হয়েছে। একই সঙ্গে বিজেপির পক্ষ থেকেও এদিন জেলা জুড়ে নানান কর্মসূচী নেওয়া হয়েছে। সুদূর অযোধ্যায় রাম মন্দিরের ভূমি পুজোর রেশ যে দক্ষিণের এই জেলাতেও পৌঁছে গেছে মানুষের উৎসাহ উদ্দীপনা দেখে তা সহজেই অনুমান করা যায়।

শেয়ার করুন