বিদ্যালয় না ব্যবসাহিক প্রতিষ্ঠান!

রামকৃষ্ণ চ্যাটার্জী , পশ্চিম বর্ধমান : শুরু হয়েছিল জনতা কারফিউ দিয়ে। প্রায় ৭০ দিন অতিক্রান্ত। এখন লকডাউন শিথিল হলেও চলছে তো লকডাউন ৫-০। শিল্প প্রতিষ্ঠান থেকে পরিবহন, রেলের চাকা সব বন্ধ। কর্মহীন, দিন আনা দিন খাওয়া মানুষের অভাব আরো বেড়ে গেছে। যদিও রাজনৈতিক, স্বেচ্ছাসেবি সংগঠন, ক্লাব থেকে সাহায্য মিলছে। কিন্তু কিছু কিছু ক্ষেত্রে স্বাভাবিক হলেও বন্ধ এখন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গুলো। সারা ভারতবর্ষের সমস্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এখন বন্ধ। কিছু ক্ষেত্রে চলছে অনলাইনে পড়াশোনা। কিন্ত প্রশ্ন হলো সবার কি আছে স্মার্টফোন ? না নেই। যদিও সরকারি প্রতিষ্ঠান এ কোনো অভিযোগ না থাকলেও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান গুলো এখন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান অনেক খানি দূরে চলে গেছে। বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এখন শুধুই ব্যবসা করে। সারা বিশ্ব যখন মহামারি করোনা ভাইরাসে নাজেহাল তখনও এরা স্কুলের ফিস বৃদ্ধি, এডমিশন করেই চলেছে। সবাই যখন মৃত্যুর সাথে লড়াই করছে তখনও বেসরকারি বিদ্যালয় গুলো অনলাইনে ভর্তি, ফিস জমা করার জন্য ম্যাসাজ করেই চলেছে। না হলে নাম কাটা যাবে স্টুডেন্ট দের। এটা কি শিক্ষা না শিক্ষার নামে কলঙ্ক ? বহু স্কুল এর আগেও নানা বিক্ষোভের মুখে পড়েছিল।

পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য বিজেপি যুব মোর্চার সম্পাদক শ্রী বাপ্পা চ্যাটার্জী মহাশয়ের কাছে আগেই আসানসোলের বিভিন্ন স্কুলে পাঠরত ছাত্র ছাত্রীদের অভিভাবক দের তরফ থেকে একটি ইমেইল এসেছিলো, যেখানে অভিভাবকগণ তাদের দুশ্চিন্তার বিষয়টি বাপ্পাদার কাছে তুলে ধরেন, তাদের বক্তব্য লকডাউনের জেরে দীর্ঘদিন যাবৎ স্কুল গুলি বন্ধ অথচ এর মাঝেই তাদের মোটা অঙ্কের টাকা স্কুল ফিস হিসেবে জমা করতে হচ্ছে। এই মহামারীর সময় যখন গোটা বিশ্ব থমকে গেছে, সাধারণ মানুষ জীবিকাহীন হয়ে পড়েছেন, প্রতিদিনের অন্ন জোগাড় করাই যখন সব থেকে বড় চ্যালেঞ্জ। সেইরূপ অবস্থায় তারা কিভাবে স্কুলের ফিস মিটাবে ? শ্রী বাপ্পা চ্যাটার্জী মহাশয় এর আগেও স্কুল কর্তৃপক্ষ এর কাছে এই বিষয়ে অনুরোধ জানিয়েছিলেন কিন্ত স্কুল কর্তৃপক্ষের কাছে শিক্ষা দানের চেয়েও নিজেদের ব্যবসার বিষয়টি বেশি প্রাধান্য পায়। তাই শ্রী বাপ্পা চ্যাটার্জী,পুনরায় স্কুল কর্তৃপক্ষ, জেলা প্রশাসক, ইস্কো কারখানার CEO , আমাদের রাজ্যের মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রী, শিক্ষামন্ত্রী এবং মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে এই বিষয়ে আলোকপাত করার জন্য অনুরোধ জানিয়েছিলেন। তারপরও ডি এ ভি পাবলিক ও ডি এ ভি মডেল স্কুল এ দেখা গেছে মহামারির সময় স্কুল কর্তৃপক্ষ পুনরায় ১০-১২ % ফি বৃদ্ধি করে পুনরায় ভর্তির জন্য বলেছেন আর তারজন্য কিছু দিন আগে স্টুডেন্ট দের অভিভাবকরা মিলে পশ্চিম বর্ধমানের ডি এম ও আসানসোলের মেয়র কে স্বারকলিপিও জমা করেছেন।
এবার দেখা গেলো একটু অন্য ভূমিকায়। স্কুল থেকে ৪০০ টাকা করে মাস্ক বানিয়ে বিক্রি করার অভিযোগ উঠল কিছু বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ওপর। অভিভাবক দের একাংশ মনে করছেন বাচ্চারা শিক্ষিত হয়তো হবে কিন্তু মানুষ হবে কি ? যেখানে বিবেকহীন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সেখানে আশাকরাটা বৃথা।

শেয়ার করুন