বিপর্যস্ত বেলঘরিয়া এক্সপ্রেসওয়ে ,ফের দৃশ্যমান একাধিক গর্ত

দেবযানী ভট্টাচার্য্য,উত্তর ২৪ পরগনা,নিজস্ব প্রতিবেদন:
বৃষ্টি, তার জেরে ফের বেহাল হয়ে পড়ল বেলঘড়িয়া এক্সপ্রেসওয়ে। এই এক্সপ্রেসওয়ের বেহাল দশা নিয়ে লাগাতার অভিযোগ জানিয়ে আসছেন এক্সপ্রেসওয়ে ব্যবহারকারীরা। এবার রাস্তা খারাপ হতে শুরু করল দক্ষিণেশ্বর ও বরানগর মেট্রো স্টেশনের মাঝে। বিমানবন্দরগামী গাড়ি যাতায়াত করতে গিয়ে তাদেরকে বিস্তর সমস্যা পোহাতে হচ্ছে। কিছুদিন আগেই বেশ ঘটা করে রাস্তা সারানোর কাজ শুরু হয়েছিল। যে অংশে কাজ হয়েছিল, সেটি হচ্ছে বিমানবন্দর ও যশোর রোডের কাছে বেলঘড়িয়া এক্সপ্রেসওয়ের এক প্রান্তে। যদিও রাস্তার হাল ফিরল না। রাস্তা খারাপ হওয়ার কারণে ফের দূর্ঘটনা ঘটার আশঙ্কা। যার জেরে রীতিমতো চিন্তায় গাড়ি চালক ও রাস্তার ধারে বসবাসকারী বাসিন্দারা। তবে সবচেয়ে বেশি ভাবাচ্ছে নিত্য যাত্রীদের তা হল রাস্তার যানজট।

এক মাস আগেই বৃষ্টির মধ্যে জাতীয় সড়কে শুরু হয়েছিল প্যাচ ওয়ার্ক। যদিও কয়েক দিনের মধ্যেই সেই রাস্তার কঙ্কালসার চেহারা প্রকাশ পেয়েছিল। এটাই বাস্তবিক অবস্থা বেলঘড়িয়া এক্সপ্রেসওয়ের। বহু গাড়ি এই রাস্তা ব্যবহার করেন টোল কেটে। যদিও সেই রাস্তার এমন বেহাল দশা দেখে ক্ষুব্ধ তারাও। যদিও জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষের দাবি, ওভারলোডিং আর নিকাশির অভাব, এই দুইয়ের জেরেই বারবার বেহাল হচ্ছে এই রাস্তা। গত তিন মাসের বেশি সময় ধরে বেহাল হয়ে পড়ে রয়েছে জাতীয় সড়ক বেলঘড়িয়া এক্সপ্রেসওয়ে। যত দিন গেছে, ততই বেড়েছে খানা খন্দ। বেড়েছে নিত্যদিন দূর্ঘটনা। যদিও হুঁশ ফেরেনি কর্তৃপক্ষের। প্রায় এক মাস আগে রাস্তা সারানোর কথা জানায় সংস্থা। যদিও সেই কাজ শুরুই করা হয়নি বড় অংশে। এরই মধ্যে ব্যাপক বৃষ্টি শুরু হয়ে যাওয়ায় রাস্তার হাল পুরোপুরি বেহাল হয়ে যায়। রাস্তায় জল জমে অবস্থা এতটাই খারাপ হয়েছে। দূর থেকে দেখে মনে হবে যেন ছোট ছোট জলাশয়। আর এতেই টু হুইলার না বুঝে চলা আসায় দূর্ঘটনা ঘটছে।

এছাড়া বেশ কয়েকটি লরি খারাপ হয়েছে। এই দুইয়ে মিলিয়ে তীব্র যানজট তৈরি হচ্ছে রাস্তায়। স্থানীয় বাসিন্দা সমীর বরণ সাহা জানাচ্ছেন, “আবার রাস্তা খারাপ হল। কে কার কথা শুনবে সেটাই তো এখনও অবধি বুঝে উঠতে পারলাম না। একাধিকবার আবেদন করেও কোনও সুরাহা হচ্ছে না। আবার শুরু হওয়া এই বৃষ্টিতে রাস্তার যা অবস্থা হচ্ছে তাতে বিপদের ঝুঁকি বাড়ছে।” এরই মধ্যে স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ রাস্তা খারাপ থাকলেও প্রতিদিন বড় ওভারলোডেড গাড়ি ব্যবহার করছে বেলঘড়িয়া এক্সপ্রেসওয়ে। ফলে স্থানীয়দের ও নিত্যযাত্রীদের ছোট গাড়ি নিয়ে যাতায়াত করার রাস্তাও ভীষণ খারাপ হয়ে গেছে। বছরভর এভাবে রাস্তা খারাপ হওয়া নিয়ে কাজের ধরণ নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন ভুক্তভোগীরা। যদিও জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষের দাবি, রাস্তা ঘন ঘন খারাপ হওয়ার অন্যতম কারণ হল ওভারলোডিং।

একই সঙ্গে তাদের বক্তব্য, রাস্তার জল জমে গেলে তা নিকাশির ব্যবস্থা থাকা দরকার। যদিও বেলঘড়িয়া এক্সপ্রেসওয়ে জুড়ে কোথাও কোনও নিকাশির ব্যবস্থা নেই। ফলে জল জমে রাস্তার হাল বেহাল হয়ে পড়েছে। অন্যদিকে এই অংশে মেট্রোর কাজ চলার জন্যে বহু সমস্যা তৈরি হচ্ছে। তাতে বাড়ছে খানা খন্দ। তাদের ভারী গাড়ি ব্যবহার হচ্ছে, ক্রেন ব্যবহার হচ্ছে। এন এইচ এ আই’য়ের প্রজেক্ট ডিরেক্টর জানিয়েছেন, “দীর্ঘদিন ধরে মেট্রোর কাজ চলছে। নিকাশি নালার কাজ আটকে আছে। অবশেষে টেন্ডার ডাকা হয়েছে। শীঘ্রই মেট্রোর কাজ শেষ হবে। এবার আশা করা যায় কাজ শুরু করতে পারা যাবে।এর মধ্যে বৃষ্টি চলে আসায় আমাদের পক্ষে কাজ করতে অসুবিধা হচ্ছে। বৃষ্টির মধ্যে কাজ করা যাবে না।” তবে বৃষ্টির মধ্যে রাস্তার এই অবস্থা নিয়ে ভীষণ অখুশি স্থানীয় বাসিন্দা ও নিত্যদিনের রাস্তা ব্যবহারকারীরা।

শেয়ার করুন