মহাপ্রভু চৈতন্যর জন্মস্থান নবদ্বীপ পেতে চলেছে হেরিটেজ তকমা

সুদীপ ঘোষ,নদীয়া:
নদিয়া জেলার একটি সুপ্রাচীন শহর নবদ্বীপ চৈতন্য মহাপ্রভুর জন্মস্থান ও লীলাক্ষেত্রর জন্য বিখ্যাত। নবদ্বীপ পৌরসভা ১৮৬৯ সালে স্থাপিত। বাংলায় সেন রাজাদের আমলে (১১৫৯ – ১২০৬) নবদ্বীপ ছিল রাজধানী।

১২০২ সালে রাজা লক্ষ্মণ সেনের সময় বখতিয়ার খলজি নবদ্বীপ জয় করেন যা বাংলায় মুসলিম সাম্রাজ্যের সূচনা করে।নবদ্বীপ ছিল সেই সময়ে বিদ্যালাভের পীঠস্থান ও একে বলা হত বাংলার অক্সফোর্ড।

১৪৮৬ সালে এই শহরেই জন্মগ্রহণ করেন শ্রী চৈতন্য মহাপ্রভু। এখান থেকেই বৈষ্ণব ধর্মের বিকাশ। নবদ্বীপ শহর ও তার ওপাশে মায়াপুর শহর জুড়ে ছড়িয়ে রয়েছে চৈতন্য মহাপ্রভু ও বৈষ্ণব ধর্মের বিকাশের নানা নিদর্শন। আছে সংস্কৃতির ধারক ও বাহক নানা নিদর্শন। চৈতন্যর জন্মস্থান ও তাঁর লীলাভূমি দেখতে নবদ্বীপ আসেন বহু মানুষ।

এ বার সেই নবদ্বীপ পেতে চলেছে হেরিটেজ শহরের তকমা। নবদ্বীপ পুরসভা কর্তৃপক্ষর দাবি, এই প্রথম রাজ্যের কোনও শহর হেরিটেজ তকমা পাচ্ছে। কবে আনুষ্ঠানিক ভাবে নবদ্বীপ শহরকে হেরিটেজ শহর হিসেবে ঘোষণা করা হবে, তা কয়েক দিনের মধ্যেই জানা যাবে।তবে, ইতিমধ্যে পুরসভাকে একটি চিঠি দিয়ে এ বিষয়ে জানানো হয়েছে। হেরিটেজ শহর হিসেবে প্রথম কী পরিকল্পনা, তা-ও জানতে চাওয়া হয়েছে।

নবদ্বীপ পুরসভার চেয়ারম্যান বিমানকৃষ্ণ সাহা জানান, প্রাচীন এই শহরকে হেরিটেজ হিসেবে ঘোষণা করা হবে। এ জন্য কিছু কাজ করা হবে। শহরের নিকাশি ব্যবস্থাও ঢেলে সাজাতে বলা হয়েছে। প্রায় ৩০ কিলোমিটার পরিধি জুড়ে ছড়িয়ে থাকা নবদ্বীপ শহরের মোটামুটি কেন্দ্রস্থলে রয়েছে এই পীঠ। দেশ-বিদেশের বহু মানুষের মনেই জীবনে একবার অন্তত যোগপীঠ ঘুরে আসার ইচ্ছে রয়েছে। কারণ, আদতে এটাই হল শ্রী চৈতন্যের জন্মস্থান। ১৪৮৬ সালে এখানেই জন্মেছিলেন মহাপ্রভু। যদিও সুদূর অতীতে একটা দীর্ঘ সময় মনে করা হতো, শ্রী চৈতন্যের জন্মগৃহ সম্ভবত ভাগীরথীর গর্ভে চলে গিয়েছে।

যাই হোক, পরে সেই ভুল ভেঙেছিল। ১৮৮৭ সালে অবহেলায় পড়ে থাকা একটা বাড়ির দেওয়ালে শ্রীলাভক্তিবিনোদা ঠাকুর চৈতন্যর জন্মের দেওয়াল চিত্র খুঁজে পান। পরে তিনি আবিষ্কার করেন স্থানটি আদতে মহাপ্রভুরই জন্মস্থান। পরে ১৮৯৩ সালে তাঁরই উদ্যেগে চৈতন্যের জন্মস্থানে যোগপীঠ মন্দির প্রতিষ্ঠা করা হয়।

শেয়ার করুন