রথে নয় জগন্নাথ মাসি বাড়ি যাবেন পালকি চড়ে

সঞ্জয় কাপড়ী পূর্ব মেদিনীপুর:– মঙ্গলবার রথযাত্রার পূর্ব মেদিনীপুর মহিষাদল রাজবাড়ি র রথযাত্রার, পূর্ব মেদিনীপুর জেলার ২৪৪ বছরের প্রাচীন মহিষাদল রাজ বাড়ির রথযাত্রা ইতিমধ্যে করোনা আতঙ্কের কথা মাথায় রেখে প্রশাসনের তরফ থেকে বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর বদলে প্রভু জগন্নাথ রাজ বাড়ির কূদদেবতা পালকি চড়ে যাবেন মাসির বাড়ি। তবে প্রাচীন সমস্ত রীতিনীতি মেনে চলা হবে। আর সেই মতো আজও রথ যাত্রার দিন সকালে রাজ বাড়ির কূলদেবতা শ্রী গোপাল জিঊ কে ইতিমধ্যে পালকি করে মহিষাদলের গোপাল জিউর মন্দির থেকে মহিষাদলে নিয়ে আসা হয়েছে। এদিন সকালে গোপাল জিউর মন্দির এ পূজার্চনার পর রাজ বাড়ীর সদস্য হরপ্রসাদ গর্গ ও শংকর প্রসাদ গর্গের উপস্থিতিতে পালকি করে রথে নিয়ে আসা হয়েছে ইতিমধ্যে। এরপরই আছেন প্রভু জগন্নাথ দেব। তবে এবছর রথে নয় প্রভু জগন্নাথ দেব যাবেন পালকি চড়ে নিজের মাসির বাড়ি। তবে রথ বন্ধ থাকায় ইতিমধ্যে কোথাও যেন মন ভার জেলা বাসীর। মহিষাদল রাজ বাড়ির ইতিহাস ঘেঁটে জানা যায়, রাজা আনন্দলাল উপাধ‍্যায়ের সহধর্মিনী ধর্মপ্রাণ রানী জানকি দেবী মহিষাদলের রথের শুভ  সূচনা করেছিলেন ছোট্ট একটি রথ দিয়ে। এরপর ১৮০৪ সালে জানকি দেবীর মৃত্যুর পর অল্পকালের জন্য মতিলাল পাঁড়ে মহিষাদলের রাজত্ব ভার গ্রহণ করেন। সেই সময় তিনি রানীর রথ যাত্রার রীতিকে বয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য সুবিশাল একটি ১৭ চূড়োর রথ তৈরি করান। তারপর থেকেই সেই রথ বৃহৎ আকারে মহিষাদলের উৎসবে পরিণত হয়। সময়ের সাথে সাথে রথ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় তা ফের ১৮৫২ সালে রাজা লছমন প্রসাদ গর্গ বাহাদূর কলকাতা থেকে চীনা মিস্ত্রি আনিয়ে  প্রায় চার হাজার টাকা খরচ করে সতেরো চূড়ো রথের সংস্কার করান। এরপর ১৯১২ সালে স্থানীয় শিল্পী মাধব চন্দ্র দে রথের সামনের শ্বেত শুভ্র দুটি কাঠের ঘোড়া দায়িত্ব পেয়ে স্থাপন করেন। যা বর্তমানে এখনো বিরাজমান। প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের ফলে একের পর এক রথের চূড়া ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় ১৭ চুড়ার রথ নেমে এসেছে ১৩ চুড়ায়। ৩৪ টি চাকা বিশিষ্ট মহিষাদল রাজ বাড়ির প্রাচীন এই রথের নাম পুরী, মাহেশের পরই জন প্রিয়তার শিখরে স্থান করে নিয়েছে। প্রতি বছরের মতো ঘটা করে এবার প্রাচীন রীতি মেনে  রথের আগের দিন হবেনা লেত উৎসব। কেবল মাত্র রাজ বাড়ীর সদস্যরা উপস্থিত থেকেই সমস্ত আচার অনুষ্ঠান  হবে নিয়ম রক্ষার্থে। যে রথের রশিতে দীর্ঘ ২৪৪ বছর ধরে লক্ষ লক্ষ ভক্তরা টান মেরেছেন এ বছর তা কোরোনার কারনে সামাজিক দূরত্ব মেনে চলার জন্য বন্ধ রাখা হচ্ছে। সব মিলিয়ে বলা চলে প্রাচীন রীতি নীতি মানা হলেও কোথাও যেন বিষাদের ছায়া জেলা বাসীদের মধ্যে।

শেয়ার করুন