লকডাউন ভেঙ্গে পূজা ! পুলিশি বাঁধা ও গ্রেফতারের অভিযোগ বিজেপির


নিজস্ব সংবাদদাতা, পশ্চিম মেদিনীপুর: রাম মন্দিরের ভূমি পুজো উপলক্ষে খোল কীর্তন বাজিয়ে রাস্তায় নামল বিজেপি নেতৃত্ব ৷ পথ আটকাল পুলিশ,দীর্ঘক্ষন পুলিশের সাথে বচসা অবশেষে আটক করা হলো বিজেপি নেতা গৌতম কৌড়িকে ৷ বুধবার পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার গড়বেতা তিন নম্বর ব্লকের চন্দ্রকোনারোড এলাকা থেকে তাকে আটক করে পুলিশ ৷
এই বিষয় নিয়ে অনশনের হুঁশিয়ারি দিলেন বিজেপি নেতা গৌতম কৌড়ি ৷ তিনি বলেন কোথায় লেখা আছে লকডাউনের দিনে পুজো আলোচনা করা যাবে না, এখানে তো অনেক পুলিশ অফিসার রয়েছেন যারা ব্রাহ্মণ এর মধ্যে পড়েন ৷ আজকে যদি না পুজো করতে দেয় তাহলে থানায় গিয়ে অনশনে বসবো এমনটাই হুশিয়ারি দিলেন বিজেপি নেতা গৌতম কৌড়ি।
একই ধরনের ঘটনা কর্নেলগোলা হরি মন্দির সংলগ্ন বিজেপি অফিসে ৷ সেখানেও লক ডাউন ভেঙে পুজোর আয়োজন করায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে মেদিনীপুরের বিজেপির সাধারণ সম্পাদক শঙ্কর গুছাইত সহ ৫ বিজেপি কর্মীকে। এদিন সকাল থেকেই বিজেপি পার্টি অফিসে ও হনুমান মন্দিরে পুজোর আয়োজন করেন । সেখানেই পুজোর আয়োজনে সামিল হন বিজেপি নেতা শঙ্কর গুছাইত ও দলের বেশ কয়েকজন কর্মী। জয় শ্রীরাম শ্লোগান দিতে থাকেন। খবর পেয়ে বিশাল পুলিশ বাহিনী সেখানে উপস্থিত হয়। পুজো উদ্যোক্তাদের সঙ্গে চরম বাদানুবাদ হয়। পুলিশ পুজো বন্ধ করতে বলে। এতে রাজি না হওয়ায় সেখান থেকে ৫ বিজেপি নেতা কর্মীদের গ্রেপ্তার করা হয়।
অপরদিকে পুলিশি বাধার অভিযোগ গড়বেতা তিন নম্বর ব্লকের চন্দ্রকোনারোড এলাকায় ৷ যেখানে সাউন্ড সিস্টেমের মাধ্যমে এলাকাবাসীকে অযোধ্যার রাম মন্দিরের সরাসরি পুজো অর্চনার ও নানান ধর্মীয় আচার অনুষ্ঠান সাউন্ড এর মাধ্যমে শোনানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল ৷ তবে পুলিশি তৎপরতায় সেই সাউন্ড সিস্টেম বন্ধ করা হয়েছে বলে অভিযোগ ৷ এতে ক্ষোভ ওই এলাকার হিন্দু পরিষদের নেতাকর্মীদের মধ্যে ৷
এই বিষয়ে হিন্দু পরিষদের নেতা পারিজাত চক্রবর্তী বলেন, যেখানে ১৫০টি দেশে সরাসরি সম্প্রচার দেখানো হচ্ছে, আর এখানে পুলিশ প্রশাসনের বক্তব্য এখানে লকডাউন চলছে যার কারণে মাইক চালাতে পারবেন না ৷ তিনি আরো বলেন আমরা মনে করছি এরাজ্যে হিন্দু দ্বিতীয় শ্রেণীর নাগরিক হয়ে গেছে যার জন্য বারবার বাধার সম্মুখীন হতে হচ্ছে আমাদের ৷
তবে পূর্ব নির্ধারিত কর্মসূচি অনুযায়ী মাইক বাজিয়ে সাধারণ মানুষকে অযোধ্যার রাম মন্দিরের পূজা অর্চনা থেকে শুরু করে ধর্মীয় রীতিনীতি মাইক সাউন্ড এর মধ্য দিয়ে এলাকার মানুষকে শোনানো হবে এমনটাই বলেন হিন্দু পরিষদের নেতা পারিজাত চক্রবর্তী।
পুলিশি বাঁধার অভিযোগ পূর্ব মেদিনীপুর জেলার মহিষাদলের বিজেপি পার্টি অফিসেও ৷ পূর্ণ লক ডাউনে অনেক জমায়েত করে পুজো করায় এই বাধা। রাম মন্দিরের ভূমি পুজো ঘিরে সারাদেশে যখন সাজো সাজো রব তখন সারা রাজ্যে পূর্ণ লকডাউনের দিনে পূর্ব মেদিনীপুরের মহিষাদলে বিজেপির মন্ডল কমিটির অফিসে এক সঙ্গে একাধিক বিজেপি কর্মী জড়ো হয়ে রাম পূজোর প্রস্তুতি করছিল। একাধিক লোক জড়ো হওয়ায় মহিষাদল থানার পুলিশ পার্টি অফিসে যায় এবং সবাইকে বেরিয়ে যেতে বলে। এমনকি পুজোর পুরোহিতকেও বের করে দিয়ে ওই স্থানে পুলিশ মোতায়েন করা হয়। তবে পুরোহিত জানায় ওনাকে পুলিশ বাধা দিয়েছে এবং তাই উনি বাড়ি চলে যাচ্ছেন ।

শেয়ার করুন