সহযোগীতা পেলেই সমীরের কাঁধ থেকে বাদামের ঝোলা নেমে উঠবে বই এর ব্যাগ !


নিজস্ব সংবাদদাতা,মালদহ: ভিক্ষা নয়,কাজ করেই খাবার যোগাড় করতে চায় ৭ বছরের শিশু ৷ স্কুল বন্ধ তাই ভিক্ষুক মায়ের রাস্তা উপেক্ষা করে করোনাআবহের মাঝেই নেমে পড়েছে রাস্তায় ৷ সমীর সাউ ক্লাস টু তে পড়ে ৷ বাবা দিল্লিতে শ্রমিকের কাজ করে । তার মা ভিক্ষাবৃত্তি করে । মায়ের সাথেই থাকে সে ৷ তার ছোট আরও এক ভাই রয়েছে ৷
সমীর ভিক্ষাবৃত্তি করতে চায়না। পরিশ্রম করেই সামান্য পয়সা রোজগার করতে চায় সে ৷ স্কুল বন্ধ তাই পেটের টানে বাদামের ঝোলা কাঁধে তুলেছে ছোট্ট সমীর।
দেখাগেল তার কাঁধে স্কুল ব্যাগের জায়গা দখল করেছে বাদামের ঝোলা । পকেটে কিছু খুচরো পয়সা। পায়ে হাওয়াই চটি । মুখে অবশ্য একটি মাক্স আছে, তবে সেটি কোন এক হৃদয়বান মানুষ দিয়েছে তাকে ৷ ফ্যালফ্যাল চোখে গুটি গুটি পায়ে শহরের এগলি থেকে ওগলি ঘুরে বেড়াচ্ছে সে । কখনোবা বড় বড় শোরুম এর দরজার পাশে দাঁড়িয়ে বাদাম বিক্রির চেষ্টা । উদ্দেশ্য যদি কিছু বাদাম বিক্রি হয় তবে খাবার জুটবে ৷ ছোট্ট দুটি পায়ে বেশিক্ষণ না দাঁড়াতে পারার জন্য কখনো কখনো বসে পড়ে সমীর । তবে হাল ছাড়েনি ৷ ঝোলার সব বাদাম শেষ করে তবেই বাড়ি ফিরবে । কেউ কেউ আবার তাকে দেখেও না দেখার ভান করে পাশ কাটিয়ে চলে যায় । কখনো বা শোরুমের থেকে আপত্তি জানায় তাকে বাইরে দাঁড়িয়ে থেকে বাদাম বিক্রি করার জন্য।
সমীর জানায়, করোনা পরিস্থিতির কারনে ঠিকমতো খাবার জুটছে না তাদের ৷ কখনও আধপেটা কখনও না খেয়ে খুব কষ্টে দিন অতিবাহিত করতে হয় ৷ তাই বাদাম বিক্রয় করতে রাস্তায় নেমেছে ৷ কিন্তু মানুষ সামাজিক দূরত্ব ও বিধিনিষেধ মানতে গিয়ে রাস্তার খাবার কিনছে না ৷ তাই বেঁচাকেনার একেবারে করুণ দশা ৷ কিন্তু ভিক্ষাবৃত্তি এবং বাদাম বিক্রি ছাড়া আরতো কিছুই করতে পারবে না সে ৷
সরকারী কিংবা ব্যাক্তি সহযোগীতার হাত বাড়িয়ে দিলে তার দুবেলার অন্নসংস্থান হবে ৷ কাঁধ থেকে বাদামের ঝোলা নেমে আবার উঠবে বই এর ব্যাগ । সমাজের বিত্তবান মানুষের সহযোগীতা পেলে পড়াশুনা করতে চায় ছোট্ট সমীর ৷ ভিক্ষা নয় ,পরিশ্রম করেই বাঁচতে চায় সে ৷
তার অদম্য স্পৃহার কাছে কি নত হবে মানবতা ? কেউ কি তাকে বাড়িয়ে দেবে সহযোগীতার হাত ? সমাজে এখনও বিবেকবান মানুষ আছে ৷ সরকারও অনেক সচেতন ৷

শেয়ার করুন