২১ এর নির্বাচনকে ‘পাখির চোখ’ করে বাঁকুড়ায় সংগঠনকে ঢেলে সাজালো শাসক তৃণমূল

তিমিরকান্তি পতি, বাঁকুড়াঃ ২০২১ এর বিধানসভা নির্বাচনকে ‘পাখির চোখ’ করে বাঁকুড়ায় দলীয় সংগঠনকে ঢেলে সাজালো শাসক তৃণমূল। ‘নব্য তৃণমূল’ নেতাদের কাছে পুরাণো কর্মীরা ‘ব্রাত্য’, এই অভিযোগ দীর্ঘদিনের। এবার জেলার বিভিন্ন ব্লক সভাপতি পদে তথাকথিত পুরাণো ও স্বচ্ছ ভাবমূর্তির সেই নেতা-কর্মীদের জায়গা করে দিয়ে ‘মাস্টার স্ট্রোক’ দিল বাঁকুড়া জেলা তৃণমূল। সদ্য ‘প্রাক্তন’ ব্লক সভাপতিদের খুশি রাখতে অবশ্য তাদের জায়গা হয়েছে জেলা কমিটিতে।

বৃহস্পতিবার জেলা তৃণমূল ভবনে দলের বাঁকুড়া জেলা সভাপতি শ্যামল সাঁতরা এক সাংবাদিক সম্মেলন করে নতুন জেলা কমিটির সদস্য ও পদাধিকারী এবং ব্লক সভাপতি, সহ সভাপতি ও সম্পাদকদের নাম ঘোষণা করেন। তৃণমূল জেলা সভাপতি শ্যামল সাঁতরা নব নিযুক্ত ব্লক সভাপতিদের যে নামের তালিকা প্রকাশ করে জানিয়েছেন এবার ১৩০ জনের নতুন জেলা কমিটি তৈরী হয়েছে। আগে যেখানে ছিল ১৩৬ জনের। একই সঙ্গে জেলার বাইটি ব্লকের মধ্যে ১৩ টি ব্লক সভাপতি পদে ‘নতুন মুখ’ আনা হয়েছে বলে তিনি জানিয়েছেন। বিষ্ণুপুর মহকুমায় জয়পুর ছাড়া সব কটি ব্লকেই সভাপতি বদল হয়েছে। জয়পুরে ইয়ামিন শেখেই ভরসা রেখেছে দল। অন্যদিকে ‘দলনেত্রীর ঘনিষ্ট’ হিসেবে পরিচিত কোতুলপুরের প্রবীর গরাইকে সরিয়ে সমীর বাগকে সভাপতি করা হয়েছে। সোনামুখীতে ইউসুফকে সরিয়ে ব্লক সভাপতির দায়িত্ব পেলেন বিশ্বনাথ মুখার্জী। পাত্রসায়রের দায়িত্বে এলেন দিলীপ ব্যানার্জী। বিষ্ণুপুর পৌরসভার বর্তমান প্রশাসক শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জীকে ব্লক সভাপতির পদ থেকে সরিয়ে ‘স্বচ্ছ ভাবমূর্তি’র সুশান্ত মুখার্জী ঐ দায়িত্ব পেলেন। একই সঙ্গে বাঁকুড়া, বিষ্ণুপুর ও সোনামুখী টাউন সভাপতির নতুন দায়িত্ব পেলেন যথাক্রমে শুভাশীষ মিশ্র, ডাঃ জয়মাল্য ঘর, তপজ্যোতি চ্যাটার্জী।

অন্যদিকে খাতড়া মহকুমা এলাকার ব্লক সভাপতি পদে ব্যাপক রদবদল ঘটিয়েছে তৃণমূল। তালডাংরা ব্লক সভাপতি পদ থেকে ‘পরিচ্ছন্ন’ ভাবমূর্তির মানুষ, বিশিষ্ট শিক্ষক, নিরহংকারী, অজাতশত্রু সুদিন ভুঁইকে সরিয়ে ঐ পদে আর এক শিক্ষক মনসারাম লায়েককে দায়িত্বে আনা হয়েছে। স্থানীয় বিধায়ক সমীর চক্রবর্তীর অত্যন্ত ঘনিষ্ট হিসেবে পরিচিত, পঞ্চায়েত সমিতির কর্মাধ্যক্ষ সিমলাপালের রামানুজ সিংহমহাপাত্রকে ঐ ব্লকের সভাপতি পদ থেকে সরিয়ে দিব্যেন্দু সিংহমহাপাত্রকে ঐ পদে আনা হয়েছে। সারেঙ্গায় ধীরেন ঘোষকে সরিয়ে ব্লক সভাপতির দায়িত্ব পেয়েছেন সুব্রত মিশ্র। ইন্দপুরেও বদল। এখানে নতুন দায়িত্ব পেলেন এক সময়ের প্রাক্তন ব্লক সভাপতি অসিত লায়েক।

পরে তৃণমূলের বাঁকুড়া জেলা সভাপতি শ্যামল সাঁতরা বলেন, দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশেই এই সাংগঠনিক রদল হয়েছে। বছরের ৩৬৫ দিন তৃণমূল নেতা কর্মীরা মানুষের সঙ্গে থাকেন। নতুন, পুরাণো পদাধিকারী ও যুবশক্তি ও সর্বস্তরের কর্মী মিলে ২০২১ এর বিধানসভা ভোটের লড়াইয়ে ঝাঁপিয়ে পড়লেন বলেও তিনি জানান।

শাসক দলের সাংগঠনিক রদলবদলকে গুরুত্ব দিতে নারাজ এই মুহূর্তে তৃণমূলের অন্যততম প্রধান প্রতিদ্বন্দি বিজেপি। দলের বাঁকুড়া জেলা সভাপতি বিবেকানন্দ পাত্র বলেন, ‘কোন প্রভাব পড়বেনা’। ২০১৯ এর লোকসভা ভোটেই প্রমাণ দিয়েছে ২০২১ এ রাজ্যে বিজেপি ক্ষমতায় আসছে। ‘৫০০ কোটি টাকা খরচ করে টিউশান মাস্টার’ প্রশান্ত কিশোরকে এনেও এবার বিজেপিকে রোখা যাবেনা বলেও বিজেপির জেলা সভাপতি দাবি করেন।

শেয়ার করুন