আয়ুর্বেদ চিকিৎসকদের অস্ত্রোপচার বৈধ, কেন্দ্রের ছাড়পত্র

নিজস্ব প্রতিবেদন:মোদী সরকারের নয়া সিদ্ধান্ত, এবার আয়ুর্বেদ চিকিৎসকরাও অনুমতি পেল হাড়-নাক-গলা-দাঁতের অস্ত্রোপচার করার। গোটা দেশ এবার আয়ুর্বেদিকের দিকেই ঝুঁকছে। যদিও প্রাচীনকাল থেকেই বহু মানুষের বিশ্বাস ছিল এই আয়ুর্বেদের উপর। তবে চিকিৎসাক্ষেত্রে ততটা গুরুত্ব পায়নি কখনও। এবার কেন্দ্রীয় সরকারের অনুপ্রেরণায় ভারতের প্রাচীন চিকিৎসা পদ্ধতিতে এক নতুন মাত্রা যোগ করে আধুনিক চিকিৎসা পদ্ধতির অংশীদার হিসেবে উপস্থাপনা করার প্রয়াস চলছে। কেন্দ্রে এই সিদ্ধান্তে চিকিৎসা জগতের সঙ্গে যুক্তদের একটা অংশ বেশ অবাক হয়েছে। এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে সরকার জানিয়েছে, আয়ুর্বেদের স্নাতকোত্তর বিভাগের পড়ুয়াদের অস্ত্রোপচারের অনুমতি দেওয়া হয়েছে।গত ২৫ বছর ধরে আয়ুর্বেদিক প্রতিষ্ঠানগুলিতে অস্ত্রোপচার চলছে। এই অস্ত্রোপচার বৈধ বলে জানাল কেন্দ্র।আয়ুর্বেদ চিকিৎসকরা হাড়ের রোগ ও চক্ষু বিজ্ঞান ও নাক-কান-গলা (ইএনটি) এবং দাঁতের সঙ্গে সম্পর্কিত অস্ত্রোপচার করতে পারবেন। দীর্ঘদিন ধরে আয়ুর্বেদ চিকিৎসকেরা অ্যালোপ্যাথির মতোই অধিকার প্রদানের দাবি জানাচ্ছিল।তাদের দাবি রাখল কেন্দ্র। আয়ুর্বেদিক প্রতিষ্ঠানগুলিতে যে অস্ত্রোপচার চলছে, তা পুরোপুরি বৈধ বলে উল্লেখ রয়েছে বিজ্ঞপ্তিতে।

ভারতীয় চিকিৎসা কেন্দ্রীয় পরিষদ সংশোধন বিনিয়ম, ২০২০ অনুসারে আয়ুর্বেদের পিজি কোর্সে অস্ত্রপ্রচারের প্রশিক্ষণ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।গত ১৯ নভেম্বর জারি বিজ্ঞপ্তি অনুসারে, আয়ুর্বেদিক পিজি কোর্সে অস্ত্রোপচারকেও সংযুক্ত করা হবে। প্রতিটি আয়ুর্বেদ ছাত্রদের এবার পড়ার সময়ই অস্ত্রোপচারের প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। পাশাপাশি পড়ুয়াদের শল্য তন্ত্রর মতো ডিগ্রি প্রদান করা হবে। সাথে অধিনিয়মের নাম বদলে ভারতীয় চিকিৎসা কেন্দ্রীয় পরিষদ (স্নাতকোত্তর আয়ুর্বেদ শিক্ষা) সংশোধন বিনিয়ম, ২০২০ করা হয়েছে।আয়ুর্বেদ চিকিৎসার সঙ্গে যুক্তরা অ্যালোপ্যাথির মতোই অধিকার প্রদানের দাবি জানাচ্ছিল।কেন্দ্রের এই নতুন সিদ্ধান্তের আয়ুর্বেদ চিকিৎসা সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিরা খুব খুশি।তবে চিকিৎসক মহলে কেন্দ্রের এই সিদ্ধান্তের জোর সমালোচনা চলছে।এই সিদ্ধান্তে চিকিৎসাক্ষেত্রে একটা খিচুড়ি পরিস্থিতি তৈরি হবে, বলে দাবি আইএমএ-সভাপতি ডা. রাজন শর্মার।হাড়ের রোগে, চক্ষু, নাক-কান-গলা (ইএনটি) এবং দাঁতের সঙ্গে সম্পর্কিত অস্ত্রোপচার করার অনুমতি প্রদান করা হয়েছে তাদের।এ ব্যাপারে, সেন্ট্রাল মেডিক্যাল কাউন্সিল অফ ইন্ডিয়ান মেডিসিনের সভাপতি বলেছেন, আয়ুর্বেদিক প্রতিষ্ঠানগুলিতে হওয়া অস্ত্রোপচার পুরোপুরি বৈধ।

কেন্দ্রের এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করে অনেকেই, এরমধ্যে রয়েছেন ভারতীয় শল্য চিকিৎসক সমিতির সভাপতি পি রঘুরাম। তাঁর কথায়, অস্ত্রোপচার আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞানের অংশ। তাঁর মতে এই বিষয়টিকে কোনোভাবেই আয়ুর্বেদের সঙ্গে মেশানো যায় না। পাশাপাশি স্নাতকোত্তর স্তরে শুধুমাত্র প্রশিক্ষণের দ্বারা অস্ত্রোপচার সম্ভব নয়। এ একপ্রকার রোগীর স্বাস্থ্য নিয়ে ‘ছেলেখেলা’। তিনি স্পষ্ট বলেন, ‘স্রেফ অস্ত্রোপচারের প্রশিক্ষণের পর পড়ুয়াকে ‘এম এস’ এর মতো উপাধি দেওয়া ভবিষ্যতে রোগীর পক্ষে বিপজ্জনক।’ কেন্দ্রের এই সিদ্ধান্তে রোগীর নিরাপত্তা নিয়ে অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন। এই একই কথা শোনা গেল ইন্ডিয়ান মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশন (আইআইএমএ) এর সভাপতি রাজেন শর্মার মুখে। তীব্র ভাষায় মোদী সরকারের এই সিদ্ধান্তের সমালোচনা করলেন তিনি। বললেন, “এই ছাড়পত্রের ফলে দেশের চিকিৎসা ব্যবস্থা জগাখিচুড়ি হয়ে যাবে। উপযুক্ত প্রশিক্ষণ ছাড়াই বহু ‘হাইব্রিড’ চিকিৎসক তৈরি হবে যার ফলে তীব্রে বিপর্যয় নেমে আসবে।”

তবে মোদির এই সিদ্ধান্ত ভারতীয় চিকিৎসা ইতিহাসে যুগান্তকারী পরিবর্তন এনে দিল। প্রায় ৫০০০ বছর পূর্বে জীবনের ও দীর্ঘায়ুর বিজ্ঞান আয়ুর্বেদ প্রাচীন ভারতবর্ষে উদ্ভুত হয়। এটি পৃথিবীর সবচেয়ে প্রাচীন স্বাস্থ্য পরিচর্যা পদ্ধতি। এই পদ্ধতিতে চিকিৎসা ও দর্শনের সুগভীর চিন্তা ভাবনেগুলিকে এক জায়গায় মিলিয়েছে বলে ধারণা আয়ুর্বেদ চিকিৎসকদের। প্রাচীনকাল থেকেই আয়ুর্বেদ পৃথিবীর মানুষকে শারীরিক, মানসিক এবং অধ্যাত্মিক উন্নতির পথ দেখিয়েছে। বহু মানুষের মতে, অদ্বিতীয় পদ্ধতিটি আজকের চিকিৎসা শাস্ত্রের একটি অপরিহার্য শাখা যা সম্পুর্নভাবে একটি প্রাকৃতিক পদ্ধতি। আয়ুর্বেদের মতে মানব দেহের চারটি মূল উপাদান হোল দোষ, ধাতু, মল এবং অগ্নি। আয়ুর্বেদে এগুলি বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ, তাই এগুলিকে ‘মূল সিদ্ধান্ত’ বা ‘আয়ুর্বেদ চিকিৎসার মূল তত্ত্ব’ বলা হয়।

শেয়ার করুন