ব্রাত্য বসুর নেতাজী তত্ত্বের কড়া সমালোচনা,আন্দোলনমুখী টিইউসিসি

কলকাতা: গত কাল বিজেপির বিরুদ্ধে বহিরাগত তত্ব খাড়া করতে নিজের যুক্তি দিতে গিয়ে রাজ্যের মন্ত্রী ব্রাত্য বসু বলেছেন , ‘‘যে ভাবে অবাঙালিদের দিয়ে সুভাষ বসুকে কোণঠাসা করা হয়েছিল, সেই একই ভাবে উত্তর ও পশ্চিম ভারত থেকে লোক পাঠানো হচ্ছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিয়ন্ত্রণ করতে। বাংলার মানুষ কি এটা মেনে নেবেন?’’ .তিনি আরও বলেন ‘‘এদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর জন্য মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও সুভাষ বসুর মতোই নিজস্ব আজাদ হিন্দ বাহিনী গঠন করেছিলেন। যার নাম তৃণমূল কংগ্রেস।’’ তৃণমূল কে আজাদ হিন্দ বাহিনী এবং তৃণমূল নেত্রীকে নেতাজী সুভাষচন্দ্র বসুর সাথে মন্ত্রীর বিরুদ্ধে আন্দোলনের প্রস্তুতি শুরু করেছে নেতাজী সুভাষচন্দ্র বসুর অনুগামী কেন্দ্রীয় ট্রেড ইউনিয়ন টি ইউ সি সি।

টি ইউ সি সি র রাজ্য সভাপতি রবীন্দ্রনাথ চক্রবর্তী এক প্রেস বার্তায় জানিয়েছেন, একেবারে ইতিহাস না জেনেই এমন কথা বলেছেন মন্ত্রী ,তার উচিত প্রকাশ্যে ক্ষমা প্রার্থনা করে নিজের বিবৃতি প্রত্যাহার করা। তার মতে ,তৎকালীন কংগ্রেস নেতৃত্বের সাথে নেতাজীর বিরোধ ছিল আদর্শগত ,সশস্ত্র আন্দোলন না অহিংসার পথে চলবে স্বাধীনতার সংগ্রাম তা নিয়ে হওয়া বিরোধ কে বাঙালি আর অবাঙালি লড়াই বলে চিহ্নিত করে রাজনৈতিক ক্ষুদ্র স্বার্থ কে চরিতার্থ করবার চেষ্টা করেছেন মাননীয় মন্ত্রী।

নেতাজি একমাত্র নেতা যিনি সকল ভারতবাসীর কাছে সম্মানের পাত্র। নেতাজী নিজেও ভারতের থেকে আলাদা করে বাংলাকে দেখার চেষ্টা করেন নি। অপরদিকে মমতা বন্দোপাধ্যায় কেন্দ্রীয় মন্ত্রীত্বের সুযোগে কংগ্রেসের মধ্যে উপদলীয় কার্যকলাপ করে তৃণমূল গঠন করেছেন ,রাজ্যে সংগঠন বাড়াতে রেল মন্ত্রক কে ব্যবহার করেছেন তখন তো তার বা তার দলের বাঙালি আর অবাঙালি লড়াই এর কথা মনে হয়নি। আর আজাদ হিন্দ ফৌজে ৭০ হাজার সৈন্যের মধ্যে ২৬ হাজার প্রাণ বিসর্জন দিয়েছিলেন যার মধ্যে সব প্রদেশের লোক ছিল.দেশের জন্য সবকিছু ত্যাগ করে লড়াই করে যাওয়া আজাদ হিন্দ ফৌজের সেনা দের সাথে দুর্নীতির অভিযোগে কালিমালিপ্ত তৃণমূল কর্মী দের তুলনা সভ্য সমাজের কাছে লজ্জাজনক। তিনি আরও প্রশ্ন তোলেন, দেশের জন্য তৃণমূলের কতজন কর্মী প্রাণ বিসর্জন দেবে?

মন্ত্রী অবিলম্বে নিজের মন্তব্য প্রত্যাহার করে দেশবাসীর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা না করলে নেতাজী ও আজাদহিন্দ ফৌজের এই অবমাননার প্রতিবাদে দেশজুড়ে আন্দোলনের কর্মসূচী নেওয়ার পরিকল্পনা নিচ্ছে টি ইউ সি সি. পাশাপাশি এই আন্দোলনে দেশব্যাপী নেতাজিপ্রেমী সংগঠন গুলিকেও সাথে নিতে উদ্যোগ গ্রহণ করছে তারা।




%d bloggers like this: