ভয়ংকর কান্ড খোদ রাজধানীতেই, মাথা কাটা লাশ নিয়ে ট্রেনে উঠল যুবক

শ্রীশা চৌধুরী, নিজস্ব প্রতিবেদক: হবু স্ত্রীর সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক , তারই জেরে এক ব্যাবসায়ীকে কুপিয়ে খুন করল হবু বর ৷ পশ্চিম দিল্লির মডেল টাউন এলাকার ঘটনা ৷ অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ ৷

কি এমন ঘটেছিল যার জেরে খুনের ঘটনা ঘটল ?

নিহতের নাম নীরজ গুপ্ত ৷ তিনি পেশায় একজন ব্যাবসায়ী ছিলেন ৷ নীরাজ পশ্চিম দিল্লির মডেল টাউন এলাকার বাসিন্দা ছিলেন। মহম্মদ জুবের নামের এক যুবকের বাগদত্তা ২৯ বছর বয়সী ফাইজাল নীরাজ এর অফিসে কাজ করতেন ।
ফাইজল তার হবু স্ত্রী ও সেই ব্যবসায়ী এর মাঝে কোন অবৈধ সম্পর্ক আছে এমনটা সন্দেহ করতে থাকে ৷ সেই সন্দেহর জেরেই খুন করে ব্যাবসায়ীর দেহকে অন্যত্র সরিয়ে ফেলে ৷

কিভাবে খুন করা হল ওই ব্যাবসায়ীকে ?

অভিযুক্তর স্ত্রী ফাইসাল পুলিশকে জানিয়েছে নিরজ এবং তার সম্পর্ক প্রায় ১০ বছরের। কিন্তু নিরজ তার স্ত্রী ও পরিবার কে ছাড়বে না বলে, ফাইজাল কে বিয়ে করতে রাজি হয় নি। তারই মাঝে বাড়ির চাপে জুবের কে ফাইজল বিয়ে করতে রাজি হয়। এই ঘটনা জানতে পেরে নিরজ ১৩ ই নভেম্বর ফাইজলের ভাড়া করা ফ্ল্যাটে যায় ৷ ফাইজল, তার মা এবং হবু বর জুবের সেই ফ্ল্যাট এ ছিলো। এ সময় তাদের মধ্যে বিয়ে নিয়ে বাকবিতন্ডার সৃষ্টি হয় ৷ কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে জুবের ইট দিয়ে নিরজের মাথায় আঘাত করে ৷ তারপর তার পেটে ছুরি দিয়ে আঘাত করে ৷ এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয় ৷

নিহতের স্ত্রীর বক্তব্য কি ও তিনি কি করেছিলেন ?

নিরজের স্ত্রী জানিয়েছে ১৩ই নভেম্বর রাত থেকেই নিরজ নিখোঁজ ছিলেন ৷ তার পরদিনও বাড়ি না ফেরায় নীরজের এক বন্ধুকে সাথে নিয়ে তিনি পুলিশে অভিযোগ দায়ের করেন ।
তিনি ফাইজাল এবং তার স্বামীর অবৈধ সম্পর্কের ব্যাপারে সন্দেহ করতেন ৷ মেয়েটি অফিসে কাজের সূত্রে তার স্বামীর সাথে এই অবৈধ বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্ক তৈরী করেছে বলে অভিযোগ করেন ৷

প্রমান লোপাট করতে কি করা হয়েছিল সেই মৃতদেহ ?

এরপর ওই ব্যাবসায়ীর লাশ গুম করার চেষ্টা করা হয় ৷ জুবের নিরজের দেহ থেকে মাথা আলাদা করে দেহটিকে স্যুটকেসের ভেতরে ভরে রাখে ৷ এরপর একটি ট্যাক্সিক্যাব বুক করে নিজামুদ্দিন স্টেশনে পৌঁছে যায়। পেশাগতভাবে রেলের প্যান্ট্রিতে কাজ করতো জুবের। তাই সে গয়াগামী রাজধানী এক্সপ্রেসে সুটকেস নিয়ে উঠে পড়ে এবং সুটকেসটি গুজরাটের ভারুচার কাছে ফেলে দেয় ৷

পুলিশ কিভাবে এই হত্যার ঘটনার তদন্ত করল ?

অভিযোগ দায়ের করার পরপরই পুলিশ নিরজের মোবাইল ট্রাক করে। মোবাইল ট্র্যাক করতে পারলেও, ওই ব্যবসায়ীর খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না ।
এরপরই পুলিশ মহম্মদ জুবের তার বাগদত্তা ফাইজাল এবং তার মা শাহিন নাজ কে গ্রেফতার করে। তাদের জিজ্ঞাসাবাদে পুরো ঘটনা জানতে পারে পুলিশ ৷ পুলিশ খুন -এ ব্যবহৃত ছুরি এবং ইট উদ্ধার করেছে ৷ তবে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত লাশ উদ্ধার করতে পারেনি পুলিশ ৷




%d bloggers like this: