করোনা আক্রান্ত গোটা এক গ্রাম,গোষ্ঠী সংক্রমনের চুড়ান্ত পরিস্থিতি

নিজস্ব প্রতিবেদন: লাহুল, নামটা শুনতেই যেন চোখের সামনে ভেসে আসছে একটা স্বপ্নের জগৎ। তুষারে ঢাকা উপত্যকা সকলের খুব প্রিয়। পর্যটকদের প্রিয় জায়গা এই লাহুল, করোনাকালে পর্যটকদের জন্য বন্ধ হয়েযায়। তারপর করোনা পরিস্থিতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আসার পরই ছুটির আনন্দ নিতে পর্যটকরা বেরিয়ে পড়েন।

লাহুল-স্পিতি যাওয়ার প্ল্যানও অনেকে করে ফেলেছে। হিমাচলপ্রদেশের লাহুলে ছোট্ট গ্রাম থোরাংয়ে মাত্র এক ৫২ বছরের ব্যক্তি ছাড়া সকলে করোনা আক্রান্ত। সারা রাজ্যে করোনা ভাইরাসে সবথেকে খারাপভাবে আক্রান্ত এই গ্রাম।

গোটা গ্রামের একজন বাদে সকলে আক্রান্ত হওয়াতে বেশ চিন্তায় পড়েন গ্রামবাসীরা। কয়েকদিন আগেই পাহাড়ি এই গ্রামে একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। সেই অনুষ্ঠানে পাশ্ববর্তী এলাকা থেকে বহু মানুষ উপস্থিত হন। তাদের ধারণা সেসময় পার্শ্ববর্তী কোনও এলাকার কারোর থেকেই করোনা ঢুকে পড়ে এই গ্রামে। এরপরই গোটা গ্রামের সকলে একে একে করোনা আক্রান্ত হন। করোনার গোষ্ঠী সংক্রমণ শুরু হয়।

লাহুল-স্পিতির মতো এরূপ পর্যটন কেন্দ্রে এভাবে করোনা ছড়িয়ে পড়ায় চিন্তায় প্রশাসন।এরপরই রোটাং টানেলের উত্তরে তেলিং-নুল্লাতে পর্যটকদের যাতায়াতে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। ওই গ্রামের বাসিন্দা মাত্র ৪২ জন, এরমধ্যে আক্রান্ত হয়েছেন ৪১ জন। বৃহস্পতিবার থেকে কোনও বাইরের মানুষকে গ্রামে প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে না।

মানালি লে হাইওয়ে সংলগ্ন থোরাং গ্রামের বাসিন্দা এখন মাত্র ৪২ জন। জানা গিয়েছে, বাকিরা শীতে কুলুতে চলে গেছেন। একজন করোনা আক্রান্ত হওয়ার পরই সকলের করোনা টেস্ট করার কথা বলা হলে সকলেই রাজি হয়ে যান। এরপরই টেস্টে জানা যায়, গ্রামের এক জন ছাড়া সকলেই করোনা আক্রান্ত।

উক্ত করোনা-নেগেটিভ ওই ব্যক্তি জানান “আমি আপাতত আলাদা একটা ঘরে আছি। নিজেই রান্না করে খাচ্ছি। কিন্তু করোনা রিপোর্ট জানার আগে পর্যন্ত আমি আমার পরিবারের লোকজনের সঙ্গেই ছিলাম।” ভারতে এখন করোনা আক্রান্তের সংখ্যা প্রায় ৯০ লক্ষ ও করোনা আক্রান্ত ব্যক্তির মৃতের সংখ্যা ১ লক্ষের উপরে, ১৩২,২২৩। উল্লেখ্য, আজ থেকে শুরু হল করোনা প্রতিরোধক টিকা ‘কোভ্যাক্সিন’-এর তৃতীয় ও চতুর্থ পর্যায়ের ট্রায়াল।

শেয়ার করুন