আশার আলো ভারতীয় কোভ্যাক্সিনে,তৃতীয় দফার ট্রায়াল শুরু

নিজস্ব প্রতিবেদন: করোনার প্রকোপ বিশ্বের ২০০ টিরও বেশি দেশে পড়েছে। করোনার জেরে মৃত্যু মিছিল বয়ে গিয়েছে বহু দেশে। এই করোনাকে রোখার ভ্যাকসিন দ্রুত আনতে, গবেষকরা প্রানপনে চেষ্টা করে যাচ্ছে। বিশ্বের তাবড় তাবড় বিজ্ঞানীরা করোনা প্রতিরোধে নানান ভ্যাকসিন আবিষ্কার করেছে। এরমধ্যে কিছুর প্রয়োগে সফল মিলেছে আবার কিছু বাতিল হয়েছে। তবে এখনও শেষ পর্যায়ে পৌঁছয়নি কোনও ভ্যাকসিন। এরমধ্যে ভারতের কোভ্যাক্সিন আশার আলো দেখাচ্ছে। এবার এই ভ্যাকসিনের তৃতীয় দফার ট্রায়াল শুরু হবে শুক্রবার। এই টিকা তৈরী করেছে ভারত বায়োটেক। হরিয়ানার রোহতাকে পিজিআইএমএস-এ হবে ট্রায়াল এক হাজার ভলান্টিয়ারের ওপর জানিয়েছেন ভাইস চ্যান্সেলর ওপি কালরা। এই ভ্যাকসিনের প্রথম ভলান্টিয়ার হবেন রাজ্যের মন্ত্রী অনিল ভিজ। জানা গিয়েছে, প্রাথমিক ভাবে প্রথমে ২০০ ভলান্টিয়ারের উপর এটি প্রয়োগ হবে, তাদের অ্যান্টিবডি রেসপন্স বোঝার জন্য। তারপর আরোও ৬০০ ও পরে আরও ২০০ ভলান্টিয়ারকে ট্রায়ালের অংশ করা হবে। ট্রায়ালের পর সুফল মিললে দ্রুত এই ভ্যাকসিন বাজারে ছাড়ার জন্য অনুমতি চাইবে আইসিএমআর।ওপি কালরা জানিয়েছেন, ভলান্টিয়ারদের দুটি করে ডোজ দেওয়া হবে। প্রথম ডোজের ২৮ দিন বাদে দ্বিতীয় ডোজ দেওয়া হবে।

গতকাল ফাইজার কর্তপক্ষ জানান, মানবদেহে তাদের টিকার তৃতীয় পর্যায়ের পরীক্ষায় ৯৫ শতাংশ সাফল্য পেয়েছে তাঁদের করোনা টিকা। ট্রায়ালের সব কিছু এখনও সঠিক পথে এগোচ্ছে। গবেষকরা আশা করেছেন, ডিসেম্বরের গোড়াতেই অর্থাৎ বড়দিনের আগে করোনা টিকা তৈরির ছাড়পত্র পেয়ে যাবে। বৃহস্পতিবার ফাইজারের সহযোগী সংস্থা বায়োএনটেকের কর্ণধার উগুর সাহিন একথাই জানান। ট্রায়ালের সুফল মিললে দ্রুত এই ভ্যাকসিন বাজারে চলে আসবে। তাঁর এই মন্তব্য আশার আলোর দেখাচ্ছে ভারতকে। জার্মান সংস্থা বায়োএনটেক-এর সঙ্গে হাত মিলিয়ে এমআরএনএ প্রযুক্তির সাহায্যে কোভিড-১৯ রোধের ভ্যাকসিন তৈরি করছে ফাইজার। শেষপর্যায়ে ১৭০ জন করোনা রোগীর ওপরে তা প্রয়োগ করে ৯৫ শতাংশ সাফল্য পাওয়া গিয়েছে। নিরাপত্তার কথা বিচার করলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের যে মাপকাঠি তা পূরণ করেছে এই ভ্যাকসিনটি। এখনও পর্যন্ত যাদের ওপরে ভ্যাকসিনটি প্রয়োগ করা হয়েছে তাদের এখনও কোনও বিরূপ প্রতিক্রিয়া লক্ষ্য করা যায়নি। Pfizer এর তরফে আরও জানানো হয়েছে, সবকিছু ঠিক থাকলে আপাতকালীন অবস্থায় ভ্যাকসিনটি প্রয়োগের জন্য এবার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের কাছে আবেদন জানানো হবে।

ফাইজার জানান, আগামী দু’মাসের সুরক্ষা জনিত পরীক্ষার ফল-সহ টিকা উৎপাদনের জন্য সংশ্লিষ্ট সরকারি বিভাগের (আমেরিকার ‘ফুড অ্যান্ড ড্রাগ সেফটি অ্যাডমিনিস্ট্রেশন’) কাছে আবেদন জানানো হবে।আমেরিকা-সহ ৬টি দেশের প্রায় ৫০ হাজার স্বেচ্ছাসেবকের উপর গত কয়েক মাসে তিন ধাপে তাদের এই করোনা টিকা ক্যান্ডিডেট পরীক্ষা করেছে ফাইজার। গত সপ্তাহে তাঁরা জানান, মানবদেহে এই টিকার তৃতীয় দফার পরীক্ষায় পাওয়া প্রাথমিক তথ্য জানাচ্ছে, ৯০ শতাংশ কার্যকর প্রমাণিত হয়েছে ওই প্রতিষেধক। যদিও ভারত সরকার মঙ্গলবার জানিয়েছে, ফাইজারের টিকা এ দেশে ব্যবহার করা হবে না। গোটা দেশ জুড়ে ফাইজারের টিকা বণ্টন করতে হলে মাইনাস ৭০ ডিগ্রি কোল্ড চেনের নেটওয়ার্ক গড়ে তুলতে হবে। কিন্তু ভারতে এই পরিকাঠামো গড়ে তোলা খুবই কঠিন। এখনও পর্যন্ত যে সমস্ত প্রতিষেধক আবিষ্কার হয়েছে, তার মধ্যে একটি বাদে অন্যগুলির অধিকাংশকেই সাধারণ তাপমাত্রা থেকে মাইনাস ২০ ডিগ্রির মধ্যে সংরক্ষণ করা সম্ভব। যা ভারতের পক্ষে সম্ভব।

সম্প্রতি ড্রাগ কন্ট্রোল জেনারেল অব ইন্ডিয়া (ডিজিসিআই), রাশিয়ান ডায়রেক্ট ইনভেস্টমেন্ট ফান্ড ও ডক্টর রেড্ডিজ ল্যাবের মধ্যে যে নতুন চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে, তাতে উল্লেখ রয়েছে দেশের মোট দেড় হাজার মানুষের শরীরে করোনার টিকা প্রয়োগ করা হবে। প্রয়োগের পর বিশেষ রক্ষনা-বেক্ষনে রাখা হবে তাদের। করোনা টিকার এই পরীক্ষা সফল হলে ডিজিসিআই-এর থেকে পুনরায় অনুমতি নিয়ে বাজারে ওই করোনার টিকা আনতে পারবে সংস্থা।ডক্টর রেড্ডিজ ল্যাবের মারফত ১০ কোটি করোনার টিকা রাশিয়া থেকে ভারতে আসছে। পাশাপাশি আগামী সপ্তাহে ভারতে পৌঁছে যাবে করোনা টিকা ‘স্পুটনিক ভি’। প্রথম এই করোনা টিকা কানপুর মেডিক্যাল কলেজে আসছে। সেখানে দ্বিতীয় ও তৃতীয় ফেজে হিউম্যান ট্রায়াল হবে। রাশিয়াই প্রথম করোনা ভাইরাসের টিকা ভারতে আনছে। ভারতের পর অন্যান্য দেশে যাবে সেই টিকা ‘স্পুটনিক ভি’। ভারতে আসার জন্য ভারতের পক্ষ থেকে ওষুধ নিয়ন্ত্রক সংস্থা ড্রাগ কন্ট্রোল জেনারেল অব ইন্ডিয়া (ডিজিসিআই) হিউম্যান ট্রায়ালের অনুমতি দিয়েছে। স্পুটনিক ভি টিকা পরীক্ষায় রাশিয়ান ডায়রেক্ট ইনভেস্টমেন্ট ফান্ড ও ডক্টর রেড্ডিজ ল্যাব-কে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিল ড্রাগ কন্ট্রোল জেনারেল অব ইন্ডিয়া। রাশিয়ার এই ভ্যাকসিনের প্রাথমিক হিউম্যান ট্রায়াল সেভাবে সম্ভব হয়নি। তাই পরবর্তী ফেজে ট্রায়াল বন্ধ ছিল। এ বিষয়ে অনেকে অনেক মত রেখেছিল। শেষমেশ হায়দ্রাবাদের সংস্থা ডক্টরস রেড্ডিজ ল্যাব ভারতে রাশিয়ার টিকার হিউম্যান ট্রায়াল করার অনুমতি চায় ডিজিসিআই -এর কাছে।

শেয়ার করুন