করোনা টিকার তথ্য চুরিতে তৎপর হ্যাকাররা, ভারতেও টার্গেট 

নিজস্ব প্রতিবেদন: চিন থেকে উৎপন্ন হয়ে অতিমারী করোনা এখন বিশ্বব্যাপী নিজের রাজ করছে । এই একটা বছরে করোনা ভাইরাসের প্রকোপে আমরা হারিয়েছি বহু আপনজনকে। তবে ভারত সরকার আশা জাগিয়েছে যে ডিসেম্বরের মধ্যেই ভারতের বাজারে চলে আসবে করোনা প্রতিষেধক। বিজ্ঞানীরা প্রায় সফলতার চূড়া ছুঁতে চলেছে। করোনা পরিস্থিতি এখন অনেকটা কাটিয়ে স্বাভাবিক ছন্দে ফিরছে ভারতবাসী। তবে এও বলা যায় না, যে করোনাতে মৃত্যুর হার ও আক্রান্তের হার একেবারে কমে গিয়েছে। প্রতিনিয়ত করোনার জেরে মৃত্যু হচ্ছে বহু জনের। পাশাপাশি আক্রান্তের সংখ্যাও নেহাত কম নয়। এখনও বিশ্বের বহু দেশে করোনার মৃত্যু মিছিল চলছে। এখন সকলেই শুধু তাকিয়ে রয়েছে সেই দিনটার জন্য, যেদিন সকলের হাতে এসে পৌঁছবে করোনা টিকা। এদিকে এই করোনা আবহের মধ্যেই হ্যাকাররা চালাচ্ছে তাদের কাজ। করোনা টিকা তৈরিতে যুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলি রয়েছে এখন হ্যাকারদের নিশানায়। সূত্রের খবর, গত কয়েক সপ্তাহ ধরেই প্রতিষেধকের তথ্য চুরি করতে সাইবার হানা চালানো হচ্ছে। মার্কিন তথ্যপ্রযুক্তি সংস্থা ‘Microsoft’ এমনটাই জানিয়েছে।

এই মুহূর্তে বিশ্বের বিভিন্ন গবেষণাগারে মোট ১০০টি টিকা নিয়ে কাজ চলছে। তার মধ্যে বেশ কয়েকটি প্রতিষেধকের মানবশরীরে প্রয়োগ করার কাজ বা ‘হিউম্যান ট্রায়াল’ চলছে। বহু ভ্যাকসিন প্রয়োগের পর কাজে এসেছে আবার বহু ভ্যাকসিন বাতিলের লিস্টে পড়েছে। ‘Sputnik V’ নামে বিশ্বের প্রথম করোনা টিকা তৈরি করার দাবি জানিয়েছে রাশিয়া। এই খবর পেয়ে তৈরী এখন হ্যাকাররাও। করোনা আবহের মধ্যেও হ্যাকারদের হানার আশঙ্কার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।হ্যাকারদের নিশানায় রয়েছে বহু দেশ। এরমধ্যে রয়েছে ভারতও। চুরি করার উদ্দেশ্যে উত্তর কোরিয়া এবং রাশিয়ার হ্যাকাররা ভারত, আমেরিকা, ফ্রান্স, কানাডা এবং দক্ষিণ কোরিয়ায় কয়েকটি ওষুধ গবেষণা এবং নির্মাতা সংস্থাকে নিশানা করছে।এখন তাদের লক্ষে রয়েছে কোন দেশ কিভাবে কি টিকা তৈরির প্রয়াস চালাচ্ছে। সেই তথ্য চুরির মতলবে এখন তারা। গত কয়েক সপ্তাহ ধরে এরূপ আভাস পাচ্ছে বিশেষজ্ঞরা।

এ বিষয়ে বিল গেটসের সংস্থাটি জানিয়েছে, তল্লাশি চালিয়ে স্টোরোনন্টিয়াম নামে রাশিয়ার একটি তথ্যপ্রযুক্তি সংস্থাকে হ্যাকিং চালানোর ক্ষেত্রে চিহ্নিত করা হয়েছে। এই সংস্থাটি ‘দ্য ডিউকস’, ‘এপিটি-২৯’ এবং ‘ফ্যান্সি বিয়ার’ নামেও কাজ করে। এছাড়া, চিহ্নিত করা হয়েছে উত্তর কোরিয়ার গুপ্তচর সংস্থার মদতপুষ্ট জিঙ্ক এবং সেরিয়াম নামে দু’টি ‘হ্যাকিং গ্রুপ’-কেও। Microsoft-এর গ্রাহক সুরক্ষা সংক্রান্ত ভাইস প্রেসেডেন্ট টম বার্ট বলেছেন, “বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার করোনা ভাইরাসের থিম ব্যবহার করে সাইবার হানা চালাচ্ছে সেরিয়াম।” ভারতের বিভিন্ন ওষুধ গবেষণা এবং নির্মাতা সংস্থার দিকে চেয়ে রয়েছে হ্যাকাররা। অন্যদিকে ভারতে খুব দ্রুত করোনা টিকা আস্তে চলেছে বলে জানা গিয়েছে। মার্কিন দেশের বায়োটেকনোলজি ফার্ম মোর্ডানার তরফে জানানো হয়েছে, খুব শীঘ্রই করোনা রোধের টিকার আগমনী বার্তা ঘোষণা হবে। ট্রায়ালের শেষ পর্যায়ে এখন তারা। অপেক্ষায় আর মাত্র কটা দিন। করোনা ভাইরাস ভ্যাকসিনের শেষ বাকি থাকা পরীক্ষার অন্তর্বর্তী বিশ্লেষণের জন্য পর্যাপ্ত তথ্য সংগ্রহ করা চলছে। এই তথ্যগুলির বিশ্লেষণ সংস্থাকে ভ্যাকসিনের কার্যকারিতা সন্ধান করতে সহায়তা করবে।

আমেরিকান সংস্থার মতে, তথ্যগুলিকে প্রস্তুত করা হচ্ছে স্বাধীন তথ্য সুরক্ষা নিরীক্ষণ দফতরের কাছে জমা দেওয়ার জন্য। যাদের ফলাফল পর্যবেক্ষণ করা এবং সুপারিশ করার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, তবে মোর্ডানা এখনও কার্যকারিতা সম্পর্কিত চূড়ান্ত তথ্য প্রকাশের নির্দিষ্ট তারিখ ঘোষণা করেনি।ইতিমধ্যে ভারতে এসে গিয়েছে রাশিয়ার করোনা টিকা স্পুতনিক ভি। হায়দরাবাদের ডা. রেড্ডিস ল্যাবরেটরিজে এই টিকা এসেছে। ট্রাক থেকে টীকাগুলি নামানো ও কোল্ড স্টোরেজের ভিডিও এখন রীতিমতো ভাইরাল সোশ্যাল মিডিয়ায়।শীঘ্রই এই টিকার পরীক্ষা শুরু হয়ে যাবে। জানা গিয়েছে, এই টিকার দ্বিতীয় ও তৃতীয় পর্যায়ের পরীক্ষা ভারতে করা হবে। যদিও এব্যাপারে ডা. রেড্ডিস ল্যাবরেটরিজের তরফে কিছু বলা হয়নি। তবে পরীক্ষার পরই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে যে এই টিকা ভারতীয়দের দেওয়া যাবে কিনা।তবে বিশেষজ্ঞরা রাশিয়ার টিকে নিরাপদ বলেই জানাচ্ছেন।

রাশিয়ার স্বাস্থ্যবিভাগের দাবি, এই টিকার সাফল্যের হার ৯২ শতাংশ। টিকা দেওয়ার ২১ দিন পর সমীক্ষা করে এই তথ্য মিলেছে। পাশাপাশি এই টিকা নেওয়ার পর কোনও বিরূপ প্রতিক্রিয়া হয়নি। তবে যাদের উপর পরীক্ষা হয়েছে, তাদের সংখ্যা নেহাতই কম। এর আগেও ফাইজার বায়োটেক দাবি করেছিল, তাদের টিকা ৯০ ভাগেরও বেশি কার্যকর।উল্লেখ্য, শেষ পাওয়া খবর অনুযায়ী, দেশের করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ৮,৮৭৪,২৯০ ও মৃত্যুর সংখ্যা ১৩০,৫৫৯।

শেয়ার করুন