করোনা পরিস্থিতি সামলে ফের ঘুরে দাঁড়াচ্ছে দেশের অর্থনীতি

নিজস্ব প্রতিবেদক: সালটা ২০২০ ৷ এর শুরুতেই অতিমারী করোনার প্রকোপ পড়েছিল দেশে। করোনার জেরে থেমে গিয়েছিল সাধারণ মানুষের জীবন। করোনা সংক্রমণ রুখতে লকডাউন শুরু হয় দেশে। এরফলে বহু মানুষ চাকরি হারায়। বিনা রোজগারে বহু মানুষ আত্মহত্যার পথ বেছে নেয়। সরকারের অসীম চেষ্টায় বর্তমান করোনা পরিস্থিতি অনেক নিয়ন্ত্রণে আসে। কিন্তু টানা লকডাউনের প্রভাবে দেশের শিল্প উৎপাদনে ব্যাঘাত ঘটে। অর্থনৈতিক দিকে কিছুটা চাপ সৃষ্টি হয়। একদিকে করোনার জন্য বিপুল অর্থ ব্যয়, অন্যদিকে অর্থনৈতিক সংকট। তবে কিছুটা করোনা পরিস্থিতি সামলে ওঠার পরই ধীরে ধীরে আবার স্বাভাবিক জীবনের দিকে হাঁটছে দেশ। সাথে দেশের অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়াচ্ছে। এক সাংবাদিক সম্মেলনে নির্মলা সীতারামন বলেন, “করোনার মধ্যেও দেশের অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়াচ্ছে। জিএসটি আদায় প্রতি বছর ১০ শতাংশ হারে বেড়েছে। বাজারে চাহিদা আস্তে আস্তে বৃদ্ধি পাচ্ছে।”

এই করোনা পরিস্থিতিতে সরকারের আত্মনির্ভর ভারত প্রকল্পে দেশবাসী বিনামূল্যে খাদ্যশষ্য পেয়েছেন। এক দেশ, এক রেশন কার্ড ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। উপকৃত হয়েছেন বহু পরিযায়ী শ্রমিকরা। পাশাপাশি হকারদের আত্মনির্ভর ভারত প্রকল্পে ঋণ দেওয়া হয়েছে। কৃষাণ ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে কৃষকরাও ঋণ পেয়েছে। এসবই নরেন্দ্র মোদির সংস্কারমুখী পদক্ষেপের কারণেই সম্ভব হয়েছে। দেখা গিয়েছে বিদেশি বিনিয়োগও বেড়েছে। আশা করা যায়, তৃতীয় ত্রৈমাসিকে বৃদ্ধির হার আরও বাড়বে। করোনা মহামারীকে সামলাতে টানা ৬৮ দিন টানা লকডাউন চলে। তবে লকডাউনের পরও দেখা যায়, করোনা সংক্রমণের হার তেমন কমেনি। কিন্তু অর্থনৈতিক অবস্থা রীতিমতো মুখ থুবড়ে পড়েছে। এরপর আবার সাপ্তাহিক লকডাউন শুরু হয়। অফিস – কাছারি খুলতে থাকে। তবে দেখা যায়, লকডাউনের পর উৎপাদনের বৃদ্ধি ঘটে। খুব দ্রুত গতিতে দেশের ম্যানুফ্যাকচারিং সেক্টরগুলি উঠে দাঁড়াতে শুরু করে। গত আট বছরের মধ্যে সবথেকে বেশি সক্রিয় হয়ে উঠেছে বর্তমানে এই সেক্টরগুলি।

নির্মলা জানান, অক্টোবর মাসে গত বছরের তুলনায় বিদ্যুৎ খরচ বেশি হয়েছে ১২ শতাংশ। সাথে ব্যাংক ঋণের পরিমাণ বৃদ্ধি পেয়েছে ৫.১ শতাংশ এবং শেয়ার বাজার রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছে গিয়েছে। তবে বর্তমানে পরিস্থিতির কথা বিচার করে রিজার্ভ ব্যাংক পূর্বাভাস দিয়েছে তৃতীয় ত্রৈমাসিকে অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়াবে এবং আন্তর্জাতিক মূল্যায়ন সংস্থা মুডিজ নতুন করে দেশের বৃদ্ধির পরিমাণ হিসেব করেছে। অ্যাডভান্স কেমিস্ট্রি সেল ব্যাটারি, ইলেকট্রনিক ও প্রযুক্তি পণ্য, অটোমোবাইল ও অটো কম্পোনেন্ট উৎপাদনসহ ১০টি ক্ষেত্রে উৎপাদনভিত্তিক ইন্সেন্টিভ মন্ত্রিসভা অনুমোদন করে। ঠিক তার পরের দিনই অর্থমন্ত্রী এমন ঘোষণা করলেন। জানা গিয়েছে, ইমার্জেন্সি ক্রেডিট লিকুইডিটি গ্যারান্টি স্কিমের আওতায় ৬১ লক্ষ জন ঋণ দাবিদারের জন্য ২.০৫ লক্ষ কোটি টাকা অনুমোদিত হয়েছে। পাশাপাশি অতিমারীতে বিপন্ন মানুষগুলোর জন্য ক্রেডিট গ্যারান্টি সাপোর্ট রয়েছে। কেভি কামাথ কমিটি এমন মোট ২৬টি ক্ষেত্রে চিহ্নিত করা হয়েছে, যাদের এই মুহূর্তে ৫০ থেকে ৫০০ কোটি পর্যন্ত ঋণ বকেয়া রয়েছে। তাই এদের সুবিধার্থে পাঁচ বছর সময়কালের এই স্কিম আনা হচ্ছে।

পাশাপাশি অর্থমন্ত্রী জানান, উৎপাদনে সাফল্য আনতে ১.৪৬ হাজার কোটির ইনসেনটিভ দেওয়া হবে। সাথে ৬ হাজার কোটির ইক্যুইটি ইনফিউশনের ঘোষণা করেন তিনি। আগামী দিনে ১ লক্ষ প্রজেক্ট তৈরি হবে দেশে এবং অসংগঠিত ক্ষেত্রে ১০ হাজার কোটি টাকার ফান্ড গঠন করা হবে। এদিন সাংবাদিক বৈঠকে অর্থমন্ত্রী আরও বলেন, “করোনার মধ্যেও দেশের অর্থনীতি ক্রমশ ঘুরে দাঁড়াচ্ছে। সাথে জিএসটি আদায়ের পরিমাণ ১০ শতাংশ বেড়েছে। বাজারে চাহিদা ধীরে ধীরে বাড়ছে। এই অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়ানোর কারণ হল সরকারের সংস্কারমুখী পদক্ষেপ। এই প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও বিদেশি বিনিয়োগ বেড়েছে। তৃতীয় ত্রৈমাসিকে বৃদ্ধির হারও বাড়বে।” এদিকে অর্থনীতিবিদরা করোনা ভাইরাসের জেরে লকডাউনে ক্ষতিগ্রস্ত অর্থনীতিতে পুনরুদ্ধারের জন্য আরও উদ্যোগের আহ্বান জানিয়েছেন। পাশাপাশি বাজারেও চাহিদা বাড়ছে। লকডাউনে মানুষের গৃহবন্দী অবস্থার পরিবর্তন ঘটেছে। নয়া জোশ ফায়ার পেয়ে এখন কাজ শুরু করেছেন তারা।

করোনা পরিস্থিতির মধ্যেও রফতানি ক্ষেত্রে বৃদ্ধি অটুট রয়েছে। পাশাপাশি বর্তমানে শিল্প ক্ষেত্রেও নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে বলে মনে করেন নির্মলা। লকডাউনের অবস্থা এখন কেটে গিয়ে কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রেও নতুন দিশা দেখা দিয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি। দক্ষ শ্রমিকরা কাজের সন্ধান পাচ্ছে, রোজগারও বৃদ্ধি পাচ্ছে। পাশাপাশি অদক্ষ শ্রমিকরাও নিজ এলাকায় কাজের সন্ধান পাচ্ছে। দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি যেভাবে অবনতির দিকে এগোচ্ছিল, এখন তা দ্রুতগতিতে ফুলতে শুরু করেছে। তবে এও জানা যাচ্ছে, বহু শ্রমিককে ছাটাই করে দেওয়া হচ্ছে।

শেয়ার করুন