নাগরোটা জঙ্গি হামলায় পাকিস্তানের যুক্ত থাকার আলামত স্পষ্ট

বিশেষ প্রতিবেদক : নাগরোটা এনকাউন্টারের পর নিহতদের মোবাইল থেকে উদ্ধার হল চাঞ্চল্যকর তথ্য। জানা গিয়েছে, পাক জঙ্গিরা ভারতে প্রবেশ করেছিল একটি বড়সড় হামলার উদ্দেশ্যে। তাদের লক্ষ্যে ছিল ২৬ শে নভেম্বর দিনটি। মাসুদ আজহারের ভাইয়ের সঙ্গে অনবরত যোগাযোগে ছিল এনকাউন্টারে নিহত জইশ জঙ্গিদের। জম্মুর নগরোটার কাছে বান টোল প্লাজার সামনে এই সংঘর্ষ হয়। সর্বদা এখানের খবর দিয়ে চলেছিল জইশ-ই-মহম্মদ (Jaish-e-Mohammed)-এর অপারেশনাল কম্যান্ডার মুফতি রউফ আসগর ( Mufti Rauf Asghar) ও কারি জারা (Qari Zarar)-কে। রাষ্ট্রপুঞ্জের তালিকাভুক্ত আন্তর্জাতিক জঙ্গি মাসুদ আজহারের ছোট ভাই হলেন জইশ প্রধান মুফতি আসগর। তারই নির্দেশ পালন করতেই জইশ জঙ্গিরা ভারতে প্রবেশ করে। বৃহস্পতিবার রাত ২টো নাগাদ সাম্বা সেক্টর দিয়ে অনুপ্রবেশ করে জঙ্গিরা। জানা যায়, জম্মু-পাঠানকোট হাইওয়েতে একটি ট্রাকে ৩ টের সময় তারা ওঠে। সাম্বা টোল প্লাজায় অস্ত্র, বিস্ফোরক ও জঙ্গি বোঝাই ট্রাকটি এসে দাঁড়ায় ৩ টা ৩৭ মিনিটে। সেখানে নিরাপত্ত বাহিনী তাদের বাধা দিলে যুদ্ধ শুরু হয়। জঙ্গিদের পরিকল্পনা ছিল, নাগরোটা টোল প্লাজা পার হওয়ার পর সোজা শ্রীনগরে গিয়ে মুম্বইয়ের ধাঁচে হামলা চালানো। জঙ্গিরা কোথায় পৌঁছেছে, কী করছে, এ সংক্রান্ত P-1 ও P-5 এই দুটি সাঙ্কেতিক নম্বর থেকে সর্বদা মেসেজে আসছিল। ভারতীয় সেনা-জঙ্গি সংঘর্ষে মৃত্যু হয় চার জইশ জঙ্গির। সেনা সূত্রে খবর, আজ অবন্তীপোরায় দুই সন্দেহভাজন জইশ-ই-মহম্মদ জঙ্গিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।ডিজিটাল মোবাইল রেডিও-র পাশাপাশি পুলিশ পাকিস্তানি হ্যান্ডসেট ও পাকিস্তানি সিম কার্ডও উদ্ধার হয়েছে। জঙ্গিদের ফোনে অনবরত ম্যাসেজ আসে ‘কোথায় পৌঁছেছো’, ‘পরিস্থিতি কী’, ‘কোনও সমস্যা তো নেই’৷

নিহত জঙ্গিদের কাছ থেকে উদ্ধার হয়েছে একে ৪৭ রাইফেল ও পিস্তল সহ প্রচুর পরিমাণ অস্ত্রশস্ত্র। সম্ভবত জেলা পর্যায়ের নির্বাচনে ব্যাঘাত ঘটানোর ছক ছিল তাদের।নরেন্দ্র মোদী দাবি করেন, জঙ্গিরা বড় নাশকতার উদ্দেশ্য নিয়েই ভারতে ঢুকেছিল। ভারত সেই ছক বানচাল করে দেয়। দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার ‘তৃণমূল স্তর’-এ জঙ্গিরা আঘাত করতে চেয়েছিল। জম্মু নগরোটায় সুরক্ষা বাহিনীর সঙ্গে এনকাউন্টারে নিহত হয় চার সশস্ত্র জঙ্গি।নগরোটা টোল প্লাজার সামনে ট্রাকটি তল্লাশির মুখে পড়লে, ওই জঙ্গিরা গুলি ছোড়ে।

গুলিবদ্ধ হন দুই পুলিশকর্মীও। তিন ঘন্টা ধরে চলে সেই গুলির লড়াই। জম্মু-কাশ্মীরের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে শুক্রবার এক পর্যালোচনা বৈঠকে বসেছিলেন প্রধানমন্ত্রী। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ (Amit Shah), জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা (NSA) অজিত দোভাল (Ajit Doval), বিদেশ সচিব হর্ষ শ্রিংলা ছাড়াও দেশের শীর্ষ গোয়েন্দা আধিকারিকেরা উপস্থিত ছিলেন ওই বৈঠকে।মোদী জানান, বৃহস্পতিবার ভোরে নগরোটায় যে চার জনকে খতম করা হয়েছে, তারা পাক মদতপুষ্ট জইশ-ই-মহম্মদ জঙ্গি।

পাশাপাশি নিহত জঙ্গিদের কাছ থেকে প্রচুর পরিমাণ আগ্নেয়াস্ত্র ও বিস্ফোরক উদ্ধার হয়েছে। যে বিপুল পরিমাণ গোলাবারুদ ও আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার হয়েছে, তাতেই বোঝা যায় বড় ধরনের হামলা চালানোই উদ্দেশ্য ছিল জঙ্গিদের।প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের সুরক্ষা বাহিনী আরও একবার তাদের সাহসিকতা প্রদর্শনেরই সঙ্গেই পেশাদারিত্বের পরিচয় দিয়েছেন।’ মোদী বলেন, এদিন সুরক্ষা বাহিনী সতর্ক না থাকলে, আরও একটা নাশকতা ঘটত বলেই তিনি মনে করেন।

নিহতদের কাছ থেকে মিলেছে পাঁচটি একে-৪৭, ছ’টি একে-৫৬ রাইফেল। এ ছাড়াও ছিল তিনটি পিস্তল, ১৬ একে ম্যাগাজিন, এক প্যাকেট আরডিএক্স, ২০টি চিনা হ্যান্ড গ্রেনেড, ছ’টি UBGL গ্রেনেড এবং ২০ কেজি বিস্ফোরক। ‘পাকিস্তানের জয়েশের চার সন্ত্রাবাদীর মৃত্যু ও তাদের সঙ্গে বিপুল অস্ত্রশস্ত্র থেকে এটা স্পষ্ট যে বড়রকম ক্ষয়ক্ষতি করার চেষ্টা করছিল তারা। নিরাপত্তাবাহিনী ফের চরম সাহসিকতা ও পেশাদারিত্বের পরিচয় দিয়েছে। তাদের তৎপরতার জন্যেই জম্মু-কাশ্মীরে তৃণমূল স্তরে গণতান্ত্রিক কার্যকলাপ বিঘ্ন করার পরিকল্পনা পরাজিত হয়েছে।’ এমনটাই জানান প্রধানমন্ত্রী।
নিরাপত্তাবাহিনীর কাছে খবর ছিল, স্থানীয় ডিডিসি নির্বাচনের আগে জঙ্গিরা বড় আক্রমণ করতে পারে। আগে থেকেই তারা তাই সজাগ ছিল।

সেই অনুযায়ী ট্রাকটিকে আটকানোও হয়েছিল। তবে তদন্তে জানা গেল, ২০০৮-এর ২৬ নভেম্বর মুম্বই হানা যেমন হয়েছিল, সেই দিনেই বড়সড় আক্রমণের ছক ছিল এই জঙ্গিদের। সেটাকে থামাতে পেরে বড় সাফল্য পেল জম্মু-কাশ্মীরের পুলিশ ও সিআরপিএফ। জানা গিয়েছে, মোবাইল ফোন থেকে শুরু করে জুতো, এমনকী মৃত জঙ্গিদের কাছ থেকে মেলা ওষুধে পর্যন্ত ‘মেড ইন পাকিস্তান’ ট্যাগ রয়েছে। লওয়ামার ধাঁচে কাশ্মীরের নাগরোটায় বিস্ফোরণ ঘটানোর চেষ্টা করছিল জঙ্গিরা, বলে অনুমান করা হচ্ছে। এর আগে পুলওয়ামায় আত্মঘাতী বিস্ফোরণে পাকিস্তান নিজেদের যোগ অস্বীকার করেছিল। এবারও সেরমটা করারই সম্ভাবনা বেশি।

শেয়ার করুন