উধাও সামাজিক দূরত্ব: ট্রেনের সংখ্যা বাড়লেও ছবি সেই একই

কলকাতা : দেশে করোনা সংক্রমণ রুখতে ৮ মাস বন্ধ ছিল লোকাল ট্রেন। পরিস্থিতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আসার পর যাত্রীদের সুবিধার্থে বুধবার লোকাল ট্রেন চালু করা হয়। তবে প্রথমেই সকল ট্রেন চালু করা হয়নি। কম সংখক ট্রেন চালু করা হয়। তবে একদিনে লোকাল ট্রেনে ভিড় ও পরিস্থিতি বিবেচনা করে লোকাল ট্রেন বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেয় রাজ্য সরকার। সিদ্ধান্ত মতো আজ সকাল থেকে ১০০ শতাংশ ট্রেন চলছে। রেল কর্তৃপক্ষ আশা করেছিল, যে ট্রেনের সংখ্যা বাড়লে ভিড় কমবে। কিন্তু সেই ছবি তেমন কোথাও দেখা যায়নি আজ। সকাল থেকে বহু ট্রেন চলছে। রয়েছে সেই আগের পরিচিত ভিড়। পাশাপাশি আরও ট্রেন বাড়ানোর দাবি যাত্রীদের। করোনা আবহে স্বাস্থ্য বিধি মেনে চলার জন্য ট্রেনের সংখ্যা বাড়ানোর দাবি করেন যাত্রীরা। কিন্তু ট্রেন চালু হতে সেই বিধি নিষেধ অমান্য করতে দেখা গেল অনেককেই। রাজ্যের বিভিন্ন জেলার স্টেশনগুলোতে সেই একই ভিড়। তবে এখনও কিছু স্টেশন বন্ধ রয়েছে। সেখানে আবার ট্রেন চালু করার দাবিতে বিক্ষোভ দেখাচ্ছে যাত্রীরা।

দেখা গেল, রানাঘাট স্টেশনে যাত্রীদের ভিড়। তবে করোনা আবহে মানা হচ্ছে না সামাজিক দূরত্ব। এমনকি, আগের মতোই চলন্ত ট্রেনে উঠছেন যাত্রীরা। ভিড়ের জেরে সামাজিক দূরত্ব বিধি চুলোয় গিয়েছে। এখনও কাটোয়া-আজিমগঞ্জ শাখায় চালু হয়নি লোকাল ট্রেন। এদিন সকালের দিকে কাটোয়া স্টেশনে থার্মাল স্ক্রিনিংয়ের ছবি চোখে পড়েনি। তবে বেলার দিকে থার্মাল স্ক্রিনিং শুরু হয়। সাথে ক্যানিং লোকালেও বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ভিড় দেখা যায়। ক্যানিং স্টেশনে থার্মাল স্ক্রিনিং ও স্যানিটাইজারের কোনও ব্যবস্থা চোখে পড়েনি। সাথে যাত্রীরা সামাজিক দূরত্বও মানছে না। ট্রেনের সংখ্যা বাড়লেও এদিন অফিস টাইমে শিয়ালদা-কৃষ্ণনগর মেন ও শিয়ালদা-বনগাঁ শাখায় সেই চেনা ভিড়ের দেখা মেলে। পাশাপাশি মছলন্দপুর স্টেশনে টিকিট কাউন্টারে যাত্রীদের লম্বা লাইন চোখে পরে। মল্লিকপুর স্টেশনেও দেখা যায় মানুষেরা সামাজির দূরত্ব মেনে চলছে না। মাস্ক ছাড়াই ট্রেনে উঠেছে বহু জন।

কালীপুজোর জন্য শিয়ালদা স্টেশনে ঢাকিদের ভিড় নজরে আসে। এতদিন রোজগার বন্ধ ছিল, তাই পুজোর বরাত পেতেই ছুটে এল তারা। ঢাকিদের মধ্যে কেউ এসেছেন বীরভূম, কেউ মুর্শিদাবাদ কেউ বা এসেছেন বর্ধমান, হুগলি জেলা থেকে। ঢাকিদের যদিও আসল উপায় আসে দূর্গা পুজো থেকে কিন্তু এ বছর করোনা আবহে তা হয়নি। তাই স্বল্প রোজগারের জন্যই ভিন্ন জেলা থেকে ঢাকিরা ছুটে আসছে। পুজো কমিটির উদ্যোক্তারা বলছেন অন্যান্য বছর কালিপুজোর আগেও যে ভিড়ের ছবি শিয়ালদা স্টেশনের সামনে লক্ষ করা যায়। এবারে ততটা নেই তবে, ঢাকিরা আসায় খুশি পুজো উদ্যোক্তারা। যদিও প্রতিবারের মতো এ বছর ঘটে করে হচ্ছে না কালী পুজো। করোনা আবহে সরকারের নির্দেশ মতো সমস্ত বিধি নিষেধ মেনেই হবে পুজো। পাশাপাশি সরকার বাজি ফাটানোতেও নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। করোনা আবহে সংক্রমণ রুখতে কলকাতা হাইকোর্ট রাজ্য সরকারকে জানিয়েছে, যদি সম্ভব হয় তাহলে লোকাল ট্রেন বন্ধ রাখা হোক কালীপুজো এবং জগদ্ধাত্রী পুজোতে। কারণ ট্রেন চালু থাকলে বিপুল পরিমাণ মানুষ মফঃস্বল থেকে কলকাতায় এই উৎসবে সামিল হতে চাইবে। এরফলে সংক্রমণের আশঙ্কা বাড়বে।

ট্রেন চালুর প্রথমদিন পূর্ব রেল ও দক্ষিণ–পূর্ব রেল মিলিয়ে ৬৯৬টি লোকাল ট্রেন চালু করেছে। তার মধ্যে ৪১৩টি ট্রেন ছারে শিয়ালদহ থেকে। আর ২০২টি ট্রেন চলবে হাওড়া থেকে। একইসঙ্গে ৮১টি ট্রেন চলবে খড়গপুর ডিভিশনে। আজ থেকে সেই ট্রেনের সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে। মানুষের জীবনে সবচেয়ে বড় যাতায়াতের লাইফলাইন ‘লোকাল ট্রেন’। লোকাল ট্রেন গ্রাম, শহরতলি থেকে শহরের যোগসূত্র। এই লোকাল ট্রেনের সাহায্যে শহরতলি এবং গ্রামবাংলা থেকে প্রচুর মানুষ শহরে আসে কাজের জন্য। প্রত্যহ হাওড়া–শিয়ালদহ মিলিয়ে মোট ২ মিলিয়ন মানুষ কাজে আসে এই লোকাল ট্রেনে করে। ফলে করোনা সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কাও রয়েছে প্রচুর, যা সত্যি চিন্তার বিষয়।তবে করোনার জন্য যে নিয়ম মেনে চলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল, তা সঠিক ভাবে মানতে দেখা যাচ্ছে না কোথাও। বুধবার ট্রেনের চাকা গড়াতেই যে দৃশ্য উঠে এসেছে, তা ফের বাড়িয়ে তুলল রাজ্যের উদ্বেগ। উধাও হয়েছে সামাজিক দূরত্ব, মুখে নেই মাস্ক। স্বাভাবিকের মতোই খোশ মেজাজে যাত্রীরা লোকাল ট্রেনে ভ্রমণ করছে। আড্ডায়-হুল্লোড়ে মাস্ক যাচ্ছে সরে, কথা বলতে বলতে উষ্ণ প্রাণ বায়ুর আদান-প্রদান চলছে। সেই একই ছবি হাওড়া সহ প্রতিটি স্টেশন চত্বরে।

শেয়ার করুন