দীপাবলির সকালে পাকিস্তানের দুঃসাহসের কড়া জবাব ভারতীয় সেনার,নিহত অন্তত ৮ পাক সেনা

দিল্লি: কালী পুজোর ঠিক আগের দিন সকালে সংঘর্ষবিরতি লঙ্ঘন করে হামলা চালায় পাকিস্তান। সংঘর্ষবিরতি লঙ্ঘন করে শুক্রবার সকাল থেকে নিয়ন্ত্রণরেখা বরাবর চার সেক্টরে ব্যাপক গোলাবর্ষণ শুরু করে পাকসেনা। পাক সেনার ছোড়া গুলি-গোলায় মৃত্যু হয় ৫ ভারতীয় সেনা, ৬ নাগরিকের। সাথে সাথেই পাল্টা জবাব দেয় ভারতও। ভারতীয় সেনাবাহিনীর প্রত্যাঘাতে পাকিস্তানি সেনার স্পেশাল সার্ভিস গ্রুপের (এসএসজি)২-৩ জন কম্যান্ডো সহ অন্তত ৮ পাক সেনা জওয়ান নিহত হয়েছে। দীপাবলির সকালে পাকিস্তানের এই দুঃসাহসের কড়া জবাব দিল ভারত। রক্তাক্ত করে তোলার ফল পেল পাকিস্তান। শহীদ ৫ ভারতীয় সেনার মধ্যে আছেন নদিয়ার তেহট্টের এক জওয়ান। গত মাসেই তাঁর বাড়ি ফেরার কথা। জওয়ানের নাম সুবোধ ঘোষ। চার বছর আগে তিনি সেনাবাহিনীতে যোগ দেন। স্ত্রী-এর সঙ্গে শেষ কথায় তিনি বলেছিলেন, সামনের মাসেই তিনি বাড়ি ফিরছেন। কিন্তু তা আর হল না। সীমান্তে বিনা প্ররোচনায় সংঘর্ষবিরতি লঙ্ঘন করে পাক সেনার গুলি কেড়ে নিল জওয়ান সুবোধ ঘোষ- এর প্রাণ।

জানা গিয়েছে, পাক সেনার মর্টার সেলিংয়ের আড়ালে কেরন সেক্টরে অনুপ্রবেশের চেষ্টা করছিল জঙ্গিরা। সেই চেষ্টাও পুরোপুরি ব্যর্থ করে দিয়েছে ভারতীয় সেনা। এদিন ভারতীয় সেনার হামলায় পাক সেনার বাঙ্কারের পাশাপাশি জ্বালানি ভান্ডার এবং লঞ্চপ্যাডেরও ক্ষতি হয়েছে। সেনার বীরত্বকে কুর্নিশ জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী ট্যুইট করে বলেছেন, “আসুন এই দীপাবলীতে আমরা আমাদের জওয়ানদের স্যলুট করে, তাঁদের জন্যও প্রদীপ জ্বালাই। তাঁদের বীরত্বের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে, শুধু শব্দই যথেষ্ট নয়। যাঁরা সীমান্তে রয়েছেন, তাঁদের পরিবারের প্রতিও আমরা কৃতজ্ঞ”। সেনা সূত্রের খবর, জম্মু ও কাশ্মীরে নিয়ন্ত্রণ রেখার ওপার থেকে যুদ্ধবিরতি ভেঙে হামলা করেছিল পাক সেনা। ভারতে প্রবেশের জন্য পাক সেনার ছক বানচাল করে ভারতীয় সেনা। পাক সেনাকে রুখতে গিয়েই জম্মু ও কাশ্মীরে দুটি পৃথক জায়গায় তিন ভারতীয় সেনা জওয়ান নিহত হন। উরি সেক্টরে প্রাণ হারান ২জন, গুরেজ সেক্টরে প্রাণ হারান একজন। পাক সেনার জন্য দীপাবলীর খুশির মেজাজ কান্নায় পরিণত হয়। তবে এর বদলা নিতে পাল্টা পাক সেনার বিরুদ্ধে অভিযান চালায় ভারতীয় সেনাবাহিনী। জানা গিয়েছে, ভারতীয় সেনার হাতে পাকিস্তানি শিবিরে ২-৩ জন পাক সেনার স্পেশাল সার্ভিস গ্রুপের কম্যান্ড নিহত হয়েছে। ভারতীয় সেনাবাহিনীর জবাবি গুলিচালনায় জখম হয়েছে ১০-১২ জন পাক সেনা জওয়ান। ভারতীয় বাহিনীর গোলাগুলিতে পাক সেনার প্রচুর সংখ্যক বাঙ্কার, অস্ত্রাগার, জ্বালানির ঘাঁটি ও লঞ্চ প্যাড ধ্বংস হয়েছে।

ভারতীয় সেনা সহ যাঁরা আহত হয়েছেন তাদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। সকলেই চিকিৎসাধীন রয়েছেন। জম্মু-কাশ্মীরের বারমুল্লা জেলার উরির কামালকোট সেক্টরে আরও দুই বেসামরিক নাগরিক এবং হাজি পীর এলাকার বালকোটে এক নারী নিহত হয়েছেন বলে দাবি করেছেন ভারতীয় কর্মকর্তারা। এ বিষয়ে জম্মু-কাশ্মীরের বারামুল্লা জেলার SDM রেয়াজ আহমেদ মালিক জানান, “পাকিস্তানের তরফে ফের যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করা হয়। উরি সেক্টরে ভারী গোলাবর্ষণ শুরু হয়। তাতেই শহিদ হন ভারতীয় জওয়ান। প্রাণ হারান স্থানীয় তিনজনও।” সীমান্তে গুলির লড়াইয়ে অন্তত ৭-৮জন পাক সেনার মৃত্যু হয়েছে, বলে SDM রেয়াজ আহমেদ মালিক জানান। যার মধ্যে দু-তিনজন পাকিস্তান আর্মি স্পেশ্যাল সার্ভিস গ্রুপ কমান্ডোও ছিল। পরে জানা যায়, সেই মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১১ হয়েছে। শুক্রবার প্রথমে বিনা প্ররোচনাতে ভারতীয় সেনা ছাউনি লক্ষ্য করে শেলিং পাকিস্তান সেনা। পাক সেনার হামলার পরই একেবারে খোলা হাতে পাকিস্তান সেনাকে জবাব দিতে শুরু করে ভারতীয় সেনা। ভারী অস্ত্র নিয়েই এগিয়ে আসে ভারতীয় সেনা। টানা বেশ কিছুক্ষনের যুদ্ধে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয় সীমান্তের ওপারে। ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয় একাধিক ব্যাঙ্কার। ভারতীয় সেনার জবাবে আহত হয়েছে পাকিস্তানের প্রায় ১৬ জন। ভারতের সেই মোক্ষ জবাবের ভিডিও সামনে প্রকাশ করেছে ।

পরিবার সূত্রে খবর, ভারতীয় সেনাবাহিনীতে গানারের পদে ছিলেন সুবোধ। নিজের দক্ষতায় অল্প বয়সেই চাকরি পেয়েছিলেন। শুক্রবার বিকেলে তার বাড়িতে ফোন করে মৃত্যুর খবর জানানো হয়। গ্রামের বহু মানুষ জড়ো হয়েছেন তার বাড়িতে। গত জুলাই মাসে শেষবার এক মাসের কিছু বেশি সময়ের জন্য তিনি বাড়ি এসেছিলেন।
মৃত জওয়ানের মা বাসন্তী ঘোষ বলেন, “বিকেলে কাশ্মীর থেকে ফোন আসে। সেই ফোনে জানানো হয়, পাকিস্তানের সেনাবাহিনীর গুলিতে আমার ছেলে প্রাণ হারিয়েছে।” তার স্ত্রী অনিন্দিতা ঘোষ, “বৃহস্পতিবার মেয়েকে নিয়ে ডাক্তারের কাছে গিয়েছিলাম। আমার স্বামী বহুবার ফোন করে মেয়ের খোঁজ নিয়েছেন। কিন্তু আজ সকাল থেকে ফোন বন্ধ। তখনও বুঝিনি আমার এমন সর্বনাশ হয়েছে।”

শেয়ার করুন