প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে করোনা ভ্যাকসিন বন্টন নিয়ে শীঘ্রই সব রাজ্যের মূখ্যমন্ত্রীদের বৈঠক

নিজস্ব প্রতিবেদন: সব ঠিকঠাক থাকলে চলতি বছরের ডিসেম্বরে করোনা ভ্যাকসিন আসতে পারে ভারতে, এমনই আশা দিয়েছে সরকার। তবে সেই টিকা কিভাবে সকলের কাছে পৌঁছে যাবে, তা নিয়ে শুরু হয়েছে প্রস্তুতি। করোনা ভ্যাকসিন-এর বণ্টন কীভাবে হবে, কারা টিকাকরণে অগ্রাধিকার পাবেন, ইত্যাদি সমস্ত বিষয় নিয়ে এবার রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে বৈঠকে বসতে চলেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। আগামী ২৪ নভেম্বর সে সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে ভারচুয়াল বৈঠক হবে। সেই বৈঠকে এ রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ছাড়াও উপস্থিত থাকবেন অন্যান্য রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীরাও। ভ্যাকসিনের বন্টন কিভাবে হবে? কিভাবে কয়েক কোটি মানুষের কাছে তা পৌঁছবে? এরূপ বহু প্রশ্ন কেন্দ্রকে করছে বিরোধীরা। তবে প্রতিটি প্রশ্নের এখনও কোনও সদুত্তর মেলেনি।

কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী হর্ষ বর্ধন জানান, ২০২১ সালের এপ্রিলের মধ্যেই করোনা টিকা হাতে পাবে ভারত। ফলে ২৫ কোটি মানুষের কাছে জুন-জুলাইয়ের মধ্যে তা পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করা হবে। তবে এখনও জানা যায়নি, রাজ্যে কিভাবে সেগুলি বন্টন হবে। কোন রাজ্যে কীভাবে ভ্যাকসিনের বণ্টন হবে ও কীভাবে এগোবে টিকাকরণের পুরো প্রক্রিয়া ইত্যাদি সমস্ত বিষয়ে আলোচনা করতেই মুখ্যমন্ত্রীদের মুখোমুখি হবেন মোদি। এই বৈঠকেই সমস্ত সন্দেহ অনেকটা স্পষ্ট হতে পারে। সূত্রের খবর, এই কারণেই দু’দিনের বাঁকুড়া সফরের সূচিতে কাটছাঁটও করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। দুটি কর্মসূচিতে যোগদানের জন্য রবিবার দুপুরে বাঁকুড়া পৌঁছে গিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। আগামিকাল সেখানে রয়েছে ২টি কর্মসূচি। আগামী ২৪ নভেম্বর অর্থাৎ মঙ্গলবার রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীদের সঙ্গে ভার্চুয়াল বৈঠক করবেন মোদী। নবান্ন থেকে সেই ভার্চুয়াল বৈঠকে যুক্ত হবেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী।

কোভিড টিকা বিষয় নিয়ে কেন্দ্রের উচ্চপদস্থ আধিকারিকদের নিয়ে বৈঠক করার কথা প্রধানমন্ত্রী নিজেই ট্যুইট করে জানান।তারপর তিনি বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে বৈঠকে বসতে চলেছেন। সেদিনের বৈঠকে করোনা টিকা নিয়ে একাধিক বিষয় উঠতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। বিভিন্ন সংস্থা ইতিমধ্যে দাবি করছে, করোনা ভ্যাকসিন তারা যত দ্রুত সম্ভব ট্রায়াল করিয়ে বন্টন করার প্রক্রিয়া শুরু করতে চায়। পাশাপাশি করোনা টিকার বিষয়ে দেখভালের জন্য একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটিও গঠন করা হয়েছে কেন্দ্রের তরফে। অপরদিকে, নাইসেডে করোনা টিকা-পরীক্ষা চূড়ান্ত হওয়ার ২৪ ঘন্টার মধ্যে রাজ্য স্বাস্থ্য দফতরের অধীন স্কুল অব ট্রপিক্য়াল মেডিসিনে (এসটিএম) করোনা টিকা পরীক্ষার জন্য সবুজ সঙ্কেত দিয়েছে স্বাস্থ্য ভবন।

পাশাপাশি সাগর দত্ত মেডিকেল কলেজেও প্রস্তাবিত করোনা টিকা চূড়ান্ত করার বিষয়টি আরও গতি পেয়েছে। উল্লেখ্য, সিটিআরআই এর তথ্য অনুযায়ী, করোনা ভ্যাকসিন পরীক্ষা কেন্দ্র পাওয়ার প্রশ্নে শীর্ষে রয়েছে মহারাষ্ট্র (৯)। তামিলনাডু ও উত্তরপ্রদেশে সেটা ৩ টি। পাশাপাশি দিল্লি, অন্ধ্রপ্রদেশ, কর্ণাটক, বিহারে কোভ্যাক্সিন-কোভিশিল্ড মিলিয়ে ২ টো করে ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল সাইট পেয়েছে। জানা গিয়েছে, নাইসেডের মতো এসটিএমের টিকা পরীক্ষাতেও অন্যতম অংশীদার আইসিএমআর এ রাজ্যে ১০০ জন স্বেচ্ছাসেবককে টিকা দেওয়া হবে। এসটিএমে দুই দল স্বেচ্ছাসেবকদের মধ্যে আমেরিকায় তৈরি করোনা টিকা পাবেন একদল।

পাশাপাশি দিন দুয়েক আগেই টিকা-পর্যালোচনায় বৈঠকে বসেন প্রধানমন্ত্রী। বৈঠকের পর প্রধানমন্ত্রী টুইটারে লেখেন, টিকাকরণে অগ্রাধিকার, হিমঘরের পরিকাঠামো, টিকার ব্যবস্থা ও প্রযুক্তির প্ল্যাটফর্ম নিয়ে পর্যালোচনা হয়েছে।কর্মসূচি। ভারতে এখনও নিয়ন্ত্রণে আসেনি করোনা সংক্রমণ। ফের বেড়েছে করোনা সংক্রমণের হার। দেশজুড়ে মোট করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ৯০ লক্ষর গণ্ডি ছাড়িয়েছে। রাজধানী দিল্লির ফের ভয়ংকর পরিস্থিতি। এদিকে, উৎসবের মরশুমে বঙ্গেও করোনার গ্রাফ ঊর্ধ্বমুখী। শীতের আগে করোনা পরিস্থিতি যতটা ভাল হওয়ার কথা ছিল, বেশ কয়েকটি রাজ্যে ততটা আশানুরূপ হয়নি। সেই কারণে দিল্লি, মহারাষ্ট্র, কেরলের মতো ৫টি রাজ্যকে চিহ্নিত করে কেন্দ্রীয় প্রতিনিধি দলকে পরিদর্শনে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছিল মোদি সরকার। পাশাপাশি দেশের বেশ কয়েকটি রাজ্যে কার্ফু শুরু হয়েছে। চিহ্নিত ৫ রাজ্যের মধ্যে রয়েছে পশ্চিমবঙ্গও রয়েছে। তবে কেন্দ্রীয় প্রতিনিধি দল কবে বঙ্গে আসছেন, তার চূড়ান্ত দিনক্ষণ এখনও স্থির হয়নি।

শেয়ার করুন