গর্ভধারন করতে কালাজাদু, শিশুকন্যা ধর্ষনের পর বের করা হল হৃদপিন্ড ও ফুসফুস

নিজস্ব প্রতিবেদন,দিল্লি: গত এক বছরে ধর্ষণের একের পর এক ঘটনা নাড়িয়ে দিয়েছে গোটা দেশকে। নাবালিকা থেকে শুরু করে সকল বয়সী নারী ধর্ষণের শিকার হচ্ছে, বাদ পড়ছে না শিশুকন্যাও। সম্প্রতি হাথরাস ধর্ষণকাণ্ডের জেরে গোটা দেশ ক্ষোভে ফেটে পড়ে। ফের উত্তরপ্রদেশে ঘটল এমনই এক নিন্দনীয় ঘটনা। এবার গণধর্ষণের শিকার হল ৬ বছর বয়সি এক শিশুকন্যা। গণধর্ষণের পর হৃৎপিণ্ড ও ফুসফুস দেহ থেকে আলাদা করে নেওয়া হয়েছে বলে দাবি। ঘটনাটি সামনে আসতে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে যোগী রাজ্যে। একদিকে ‘বেটি বাঁচাও, বেটি পড়াও’ কর্মসূচি ঘিরে সাফল্যের দাবি, অন্যদিকে যোগী রাজ্যে একের পর এক গণধর্ষণের ছবি। প্রশাসনের পদক্ষেপ নিয়ে উঠছে প্রশ্ন? সব মিলিয়ে অশান্তকর পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে উত্তরপ্রদেশে।


গত রবিবার ঘটনাটির মূল অভিযুক্তরা গ্রেফতার হয়েছে। অভিযুক্তের নাম অঙ্কুল কুরিল (২০) ও বীরান (৩১)। জানা যায়, কালাজাদুর বশে এরূপ নিন্দনীয় কাজ করেছে ওই দুই অভিযুক্ত। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (গ্রামীণ) ব্রজেশ শ্রীবাস্তব জানান, এক মহিলাকে মা হতে সাহায্য করবে, এই বিশ্বাসে কালাজাদু করার জন্য বাচ্চাটির শরীর থেকে হৃত্পিণ্ড ও ফুসফুস বের করে নেওয়া হয়। তারপর সেগুলো মূল চক্রী পরশুরাম কুরিলকে সরবরাহ করা হয়। গত সোমবার পরশুরামকে গ্রেফতার করা হয়। স্ত্রী পুরো বিষয়টি জানত এমন অনুমান করা হচ্ছে। এরপর ভুলটাকে মেনে নেওয়ার অপরাধে আটক করা হয় তার স্ত্রীকেও।

প্রথমদিকে পরশুরাম পুলিশকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করলেও পরের দিকে সকল অপরাধ শিকারে নেয়। পশুরাম জানায়, তার বিয়ে হয় ১৯৯৯ সালে। বিয়ে হলেও আজ পর্যন্ত সন্তান হয়নি তার। এরপর সন্তানের চাহিদায় এক ৬ বছরের শিশুর উপর তার চোখ পড়ে। মেয়েটিকে অপহরণ করার পরিকল্পনা করে সে। এবং সেই কাজে ভাগ্নে অঙ্কুল, তার বন্ধু বীরানকে রাজি করায়। তাদের বলা হয় মেয়েটিকে অপহরণ করে তার হৃত্পিণ্ড, ফুসফুস আলাদা করে নিয়ে আসতে। শনিবার শব্দবাজি কিনতে যখন মেয়েটি বেরোয়, তখন তাকে অপহরণ করে তারা। সেসময় ভাগ্নে ও বন্ধু ধুজনেই নেশায় ছিল। মেয়েটিকে অপহরণ করে কাছের এক জঙ্গলে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ করে তারা। তারপর তাকে খুন করে হৃৎপিণ্ড ও ফুসফুস বের করে নেয়।

এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি, যে কালা জাদু করতেই মেয়েটিকে হত্যা করা হয়েছে কিনা। সে ব্যাপারে নিশ্চিত হওয়ার জন্য় বৈজ্ঞানিক তথ্যপ্রমাণ জোগাড় করতে ফরেনসিক বিশেষজ্ঞ ও গন্ধশোঁকা কুকুরদের লাগানো হয় বলে জানিয়েছেন কানপুরের ডিজিপি প্রীতিন্দর সিংহ। দুই ধর্ষণকারীকে ভারতীয় দণ্ডবিধি ও শিশু যৌন নির্যাতন রোধ আইনের (পকসো) ধারায় অভিযুক্ত করা হয়েছে। পরিবার সূত্রে খবর, মেয়েটি বাড়ি থেকে বেরোনোর সময় তার পরিবার ঘরে দেওয়ালি উদযাপনের প্রস্তুতি নিচ্ছিল। মেয়েটি অনেকক্ষণ না ফেরায় জঙ্গল সহ আশপাশে আলো নিয়ে খোঁজাখুঁজি শুরু করে তারা। রবিবার সকালে গ্রামবাসীরাই মেয়েটির দেহটি দেখতে পান। মেয়েটির চপ্পল, পোশাক মেলে একটি গাছের কাছে।

ঘটনার খবর পেয়ে মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ এই জঘন্য দুষ্কর্মে যুক্ত অপরাধীদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নিতে বলেছেন। পাশাপাশি মেয়েটির পরিবারকে ৫ লক্ষ টাকা আর্থিক সহায়তার হাত বাড়ায়। তিনি এই মামলার দ্রুত বিচারের নির্দেশ দিয়েছেন যাতে অভিযুক্তদের দোষী ঘোষণা করে দ্রুত সাজা দেওয়া যায়।

শেয়ার করুন