তৃণমূলে যোগদানের জল্পনা উস্কে দিলেন প্রয়াত কংগ্রেস নেতা সৌমেন মিত্রের পুত্র রোহন মিত্র

শুভজিৎ দত্তগুপ্ত :বাম -কংগ্রেস সমঝোতার পথ প্রশস্ত হতেই বারবার জনসমক্ষে সরকার গড়বার বিষয়ে নিজেদের দৃঢ় বিশ্বাস ব্যক্ত করছেন উভয় দলের নেতৃত্ব কংগ্রেসের একাংশের তরফ থেকে দাবীও উঠছে জোটের তরফ থেকে প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীররঞ্জন চৌধুরীকে মুখ্যমন্ত্রী পদপ্রার্থী করার। যদিও বারবার প্রদেশ কংগ্রেসের ভাঙনের মধ্য দিয়ে উঠে আসছে সম্পূর্ণ বিপরীত এক চিত্র,নেতাকর্মী থেকে বিধায়করাও এক এক করে নাম লেখাচ্ছেন রাজ্যের শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসে।এই তালিকায় সম্প্রতি যুক্ত হতে চলছে প্রয়াত প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি সৌমেন মিত্রের পুত্র রোহন মিত্রের নাম। তার একের পর এক টুইট উস্কে দিয়েছে তার তৃণমূলে যোগদানের জল্পনা ,যাকে সরাসরি অস্বীকার করেননি তিনিও।

জল্পনার সূত্রপাত হয় বিগত ৭নভেম্বর উত্তর ২৪ পরগনার বাদুড়িয়ার কংগ্রেস বিধায়ক কাজি আবদুর রহিম (দিলু) তৃণমূলে যোগদানের পর থেকেই। এই যোগদান প্রক্রিয়াকে প্রদেশ নেতৃত্ব তীব্র নিন্দা করে তার সাথে পূর্বেই তৃণমূলের গোপন আঁতাত ছিলো বলে অভিযোগ করলেও দিলু বাবু কে সমর্থন করে টুইট বার্তায় রোহন মিত্র বলেন,”উত্তর চব্বিশ পরগনা জেলার কংগ্রেসের একমাত্র বিধায়ক কাজী আব্দুর রহিম দিলু আজ দলত্যাগ করলেন,দিলুদা প্রবাদপ্রতিম কংগ্রেসনেতা প্রয়াত আব্দুর গফফর সাহেবের পুত্র,সব মিলিয়ে বলা যায় দলের ক্ষতি হয়েছে,দক্ষিণবঙ্গে কংগ্রেসের গ্রামীণ সংখ্যালঘু সমাজের মুখ ছিলেন দিলুদা” অপর একটি বার্তায় তিনি লেখেন “কোনো স্টার ক্যাম্পেনারের প্রচার ছাড়াই গত লোকসভা নির্বাচনে কাজী আব্দুর রহিম ( দিলু) এক লক্ষাধিক ভোট পেয়েছিলেন ; দক্ষিণবঙ্গে কংগ্রেস প্রার্থীদের মধ্যে সেটাই সব থেকে বেশি ভোট ছিলো। সেই দিলু দা’,কে অসম্মান করে দলের লাভ হলো না ক্ষতি হলো, তা সহজেই বোঝা যাচ্ছে।” পাশাপাশি আর একটি টুইট বার্তায় তিনি লেখেন,” গতকালই বলেছিলাম, বিজেপি থেকে কিছু সুবিধাবাদী কীট আমাদের দলে ঢুকে দলের ক্ষতিসাধনের এজেন্ডা নিয়েছে। আর তারাই যখন দলের উচ্চ পদে আসীন হচ্ছে তখন স্বাভাবিক ভাবেই বাংলার শুভবুদ্ধি সম্পন্ন প্রগতিশীল মানুষের এবং বাংলার সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের কাছে দল, নিজেদের বিশ্বাসযোগ্যতা হারাচ্ছে।”

এর পরে হরিপালের বিধায়ক বেচারাম মান্নার ইস্তফা নিয়ে যখন হইচই চলছে, তখন রোহন বেচারামের ছবি সম্বলিত টুইটে লেখেন,”যাদের একদিন কোনো রাজনৈতিক পরিচয়ই ছিলো না। আস্তাকুঁড়ে থেকে তাঁদের তুলে এনে কখনো প্রয়াত সোমেন মিত্র কিম্বা মমতা বন্দোপাধ্যায়রা একদিন সিংহাসনে বসিয়েছিলেন যেসব মানুষদের তাঁরা কি আজ অন্য গন্ধ পেয়ে বেইমানীর পথে হাঁটছেন?

নিজের সাম্প্রতিকতম টুইট বার্তায় রোহন মিত্র জেলার কর্মী সম্মেলনে ডাকনা পাওয়ার কথা জানিয়ে লেখেন ” দক্ষিণ কলকাতার লোকসভার ভোটার, ballygaunge অ্যাসেম্বলির ভোটার, ওয়ার্ড ৬৯ এর ভোটার, প্রদেশ কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক তবুও নিজের জেলার কর্মী সম্মেলনে ডাক নেই! Instruction দিচ্ছে কে ???”

তার ক্রমাগত প্রকাশ্য বিদ্রোহ ঘোষণা সম্পর্কে প্রশ্ন করা হলে রোহন মিত্র জানান ‘‘বাবার সঙ্গে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক লড়াই ছিল ঠিকই। কিন্তু বাবা কখনও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে রাজনৈতিক ভাবে ছোট করার চেষ্টা করেননি। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যে ভাবে তৃণমূল স্তর থেকে উঠে এসেছেন, বাবা সেটাকে সব সময় সম্মানের চোখেই দেখতেন। কারণ, বাবা নিজেও তৃণমূল স্তর থেকে লড়াই করে উঠে আসা নেতা ছিলেন।’’ তিনি কি তৃণমূলে যোগ দিতে পারেন? সরাসরি জবাব না দিয়ে সোমেন-পুত্র বলেছেন, ‘‘আমি নিজে যুব কংগ্রেস থেকে উঠে এসেছি। পশ্চিমবঙ্গ প্রদেশ যুব কংগ্রেসের ইতিহাস জানি। যুব কংগ্রেসের সভানেত্রী হিসেবে এক সময়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সংগঠনকে কোথায় নিয়ে গিয়েছিলেন, তা-ও জানি। যুব কংগ্রেস সভানেত্রী থাকাকালীনই তিনি প্রথম কেন্দ্রীয় মন্ত্রী হন। যুবনেত্রী তথা বিরোধী নেত্রী হিসেবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যে সব মাইলফলক স্পর্শ করে গিয়েছেন, তাতে আমি তাঁর প্রতি অবশ্যই শ্রদ্ধাশীল।’

তার রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে তার বা তৃণমূলের তরফ থেকে সুস্পষ্ট ভাবে কোনো বিবৃতি না এলেও মনে করাহচ্ছে সৌমেন পন্থী কংগ্রেস নেতা ও কর্মীদের নিয়ে রোহনমিত্রের তৃণমূলে যোগদান প্রায় নিশ্চিত।

শেয়ার করুন