সৌমিত্র কন্যা পৌলমীকে কুরুচিকর মন্তব্য, ফেসবুককে বিদায়

কলকাতা: বাবাকে হারিয়েছেন কিছুদিন আগে। তার সঙ্গে হারিয়েছেন একজন সহযোদ্ধা, একজন কমরেডকেও। সেদিন কান্না ভেজা গলায় এরকমই বলেছিলেন পৌলমী বসু। বাবা সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়ের মৃত্যুর পর থেকেই সোশ্যাল মিডিয়ায় বিভিন্নভাবে কুরুচিকর মন্তব্য, বিভ্রান্তকর পোস্ট দিয়ে নেটিজেনদের একাংশ মূলত বিঁধছিলেন এই শিল্পী পরিবারকে। এবার কিছুটা ক্ষুব্ধ হয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় লিখলেন, ¬আর নয়। এরপরই সাইবার ক্রাইম বিভাগে অভিযোগ জানালেন তিনি। কিন্তু তাতেও যে খুব একটা কাজ হয়েছে এমন নয়। তাই সোশ্যাল মিডিয়া থেকে সরিয়ে নিলেন নিজেকে।
প্রসঙ্গত, সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে তাঁর ফ্যামিলির সম্পর্ক নিয়ে বিভিন্ন পোস্টে পৌলমীকে আক্রমণ করা হয় কদর্য ভাষায়। এমনও বলা হয় যে, একজন ৮৫ বছরের অভিনেতার অর্থে তাঁদের সংসার চলত। এমনকি, করোনার প্রকোপ স্বত্ত্বেও কেন এই বয়সে তাঁকে কাজে যেতে মানা করা হয় নি।
এই সব বিতর্কমূলক পোস্ট-এর উত্তরে পৌলমী সোশ্যাল মিডিয়ায় লিখেছিলেন, ‘ ননসেন্স এবং অর্ধেক সত্যি… কবে থামবে এরকম নোংরামোগুলো। সেলিব্রিটি ফ্যামিলি বলে কি, যা ইচ্ছে তাই বলে বেড়াবে। সোশ্যাল মিডিয়ায় যা ইচ্ছে লিখবে।‘ লালবাজার সাইবার ক্রাইমে দ্বারস্থ হলেও, কমেনি ব্যক্তিগত আক্রমণের রেশ।
এরপর পৌলমীর নাম না করে পরোক্ষভাবে বিষয়টি সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়তে থাকে। আর এই কারণেই পৌলমী নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টটি ডিলিট অথবা ডি-অ্যাক্টিভেট করে দিয়েছেন।

গত ৫ অক্টোবর করোনা আক্রান্ত হয়েছিলেন অভিনেতা। পরেরদিন তিনি হাসপাতালে ভর্তি হন। টানা ৪০ দিন জীবন-মৃত্যুর সঙ্গে লড়াইয়ের পর গত রবিবার কলকাতার বেলভিউ হাসপাতালে দুপুর ১২.১৫ নাগাদ মাল্টি অর্গ্যান ফেলিওরের কারণে মৃত্যু হয় সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়ের। তবে করোনামুক্ত হলেও কোভিড সংক্রান্ত সমস্যার ধকল সইতে পারেনি তাঁর ৮৫ বছরের শরীর।

শেয়ার করুন