কালীপুজো উদ্ভোধনে শুভেন্দু , জঙ্গলমহলের পাশে থাকার আশ্বাস

কার্তিক গুহ, ঝাড়গ্রাম : কালী পূজার উদ্বোধনে জঙ্গলমহলের পাশে থাকার বার্তা দিলেন শুভেন্দু অধিকারী । এদিন তিনি মঞ্চে বক্তব্য রাখার সময় রাজনৈতিক প্রসঙ্গ ভুলে কেবলমাত্র পুরনো দিনের স্মৃতিচারণ করেছেন তিনি । ২০১০ সালে কালী পূজার দিন এবং ২০১১ সালের ভাইফোঁটার দিন তিনি জঙ্গলমহলে কাটিয়েছেন ।

ঝাড়গ্রাম জেলার লালগড় ব্লকের মাগুরা এলাকায় নরেন হাঁসদা স্মৃতি রক্ষা কমিটির উদ্যোগে একটি কালীপুজোর উদ্বোধন করেন শুভেন্দু অধিকারী । উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন প্রায়ত ঝাড়খন্ড পার্টির নেতা তথা বিধায়ক নরেন হাঁসদার স্ত্রী চুনিবালা হাঁসদা ও তার দুই মেয়ে । এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন ওই এলাকার তৃণমূলের একাধিক নেতৃত্ব । এদিন বিকেলে মাগুরা পৌঁছাই শুভেন্দু অধিকারী তিনি প্রয়াত ঝাড়খন্ড পার্টির নেতা নরেন হাঁসদার মূর্তিতে মাল্যদান করেন । শুভেন্দু অধিকারী কে নরেন হাঁসদার বড় মেয়ে বিরবাহা হাঁসদা আদিবাসী সমাজের পাগড়ি পরিয়ে এবং আদিবাসীদের জাতীয় অস্ত্র টাঙ্গি এবং তীর ধনুক শুভেন্দু অধিকারী হাতে তুলে দেয়ার মাধ্যমে ধামসা বাজিয়ে সম্মান জানানো হয় । প্রদীপ প্রজ্জ্বলনের মাধ্যমে  কালী পূজার উদ্বোধন করেন  শুভেন্দু অধিকারী । মঞ্চে বক্তব্য রাখার পর শুভেন্দু অধিকারী বাদানা পরবের গানের তালে দীর্ঘক্ষণ ধামসা বাজান । মঞ্চে অনুষ্ঠানের পর মন্ডপ পরিদর্শন করেন শুভেন্দু অধিকারী ।

এদিন শুভেন্দু অধিকারী কোন রাজনৈতিক মন্তব্য না করেই তিনি বলেন , আমি প্রথমেই আপনাদেরকে সকলকে শুভ দীপাবলী ও বাঁধনা, সহরাই পরবের শুভেচ্ছা জানাই। আজ শুরু হল তিন দিন ধরে চলবে। জঙ্গলমহলের প্রাণের মানুষ প্রাক্তন বিধায়ক নরেন হাঁসদা। ৩৪ বছর ধরে শ্যামা মায়ের আরাধনা করে আসছে। বাঁধনা পরব, গরু খুটানের শুভেচ্ছা জানানোর জন্য এসেছি। চুনিবালা হাঁসদার সঙ্গে নির্বাচনের কাজ করেছি। ব্যক্তিগত সম্পর্কও আছে। সকলকে অভিনন্দন কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি। কালী পুজো উদ্বোধনে এসে মনে পড়ে যাচ্ছে ২০১০ সালে সাঁকরাইলে চুনপাড়াতে উত্তম মাহাতো খুন হয়ে গিয়েছে। যৌথ বাহিনী  যেতে দিচ্ছে না। আমি অ্যাম্বেসেডার গাড়িতে এসেছিলাম নিমপুরা দিয়ে। দেহটা তুললাম। ঝাড়গ্রাম মর্গে নিয়ে এলাম। সন্ধ্যায়। সে দিনের দীপাবলী উৎসবটা ঝাড়গ্রামের আর্ত মানুষের সাহায্য চলে গেল। লোধাশুলিতে কালী পুজোতে আমার ব্যক্তিগত সাহায্য আছে। ঝাড়গ্রাম, লালগড়, গিধনি কোথাও কোথাও আসি।
আজকে চুনিদির ইচ্ছায় আর জলধরের ইচ্ছা। এই কমিটির মধ্যে দলমত নির্বিশেষে আছে। খুব খুশি। ৫০০-৭০০ জনকে শীতবস্ত্র দিচ্ছেন। এটা খুবই ভালো কাজ। স্বামী বিবেকানন্দ বলে গিয়েছিলেন। আপনারা সবাই ভালো থাকবেন। বীরবাহা এই এলাকা নিয়ে তাঁর পরিকল্পনা রয়েছে। বাঁধনা পরবের শেষ দিনের আসব জামবনিতে। সবাই আর্শীবাদ করবেন।
২০১১ সালে লালগড়ে কালী পুজোর দিন আসতে পারিনি। ভাই ফোঁটার দিন আইসি লালগড় অশোক বসু বলছেন ঝিটকার জঙ্গলে মাইন আছে। স্যারকে দাঁড়াতে বলুন। তাহলে সেই দিন আমার শেষ দিন। জঙ্গলমহলে শান্তির জন্য আমি ছিলাম আছি থাকব। সবাই ভালো থাকবেন। হুল জোহার বলে তার বক্তব্য শেষ করেন ।

শেয়ার করুন