ভ্রাতৃতৃতীয়া কি ও কেনো ?

রামকৃষ্ণ চ্যাটার্জি:সমাজে প্রচলিত লোকউৎসব ভ্রাতৃদ্বিতীয়া। এর পিছনে একটি পৌরাণিক কাহিনী প্রচলিত আছে। এই সোমবার আসছে ভ্রতৃতৃতীয়া বা ভাইফোটার পূন্যতিথি ৷ জেনে নিন ভাইফোটা কেনো দেয়া হয় ৷

ভাইফোটা বা ভ্রাতৃতৃতীয়া কি এবং কেনো ?

কোনও এক কার্তিক মাসের শুক্লা দ্বিতীয়া তিথিতে যমুনা দেবী তাঁর ভাই যমের পূজা করেন এবং পুণ্য প্রভাবে যমদেব অমরত্ব লাভ করেন। এ কারণে এ তিথির নামান্তর হয় যমদ্বিতীয়া। যমুনার পূজার ফলে ভাই যমের এই অমরত্বের চেতনায় উদ্ভুদ্ধ হয়ে পরবর্ত্তীকালে হিন্দু রমণীরাও ভাইয়ের মঙ্গল কামনায় সামান্য ভিন্ন রীতিতে এ উৎসব পালন শুরু করে। বর্তমানে বোন উপবাস থেকে কার্তিক মাসের দ্বিতীয়া তিথিতে ভাইয়ের কপালে বাঁহাতের কড়ে আঙ্গুল দিয়ে চন্দনের (ক্ষেত্র বিশেষ;ঘি, কাজল বা দৈ-ও হতে পারে) ফোঁটা দিয়ে, আর তাঁর দীর্ঘয়ু কামনা করে বলে, “ভাইয়ের কপালে দিলাম ফোঁটা/ যমের দুয়াওে পড়ল কাটা”। সময়ের পরির্বতনের সাথে সাখে এই উৎসবের নাম হয় ‘ভাই ফোঁটা’। এ উৎসব উপলক্ষে বোন ভাইকে নতুন জামা-কাপড় কিংবা অন্যান্য উপহার সামগ্রী দেয় এবং ভাইও বোনকে উপহার দেয়। বাড়িতে বাড়িতে এই দিন বিশেষ ভোজের আয়োজন করা হয়।

ধান দূর্বা দিয়ে আশীর্বাদ করা হয় কেনো ?

প্রাচীন আর্যসমাজে ধান ছিল ধনের প্রতীক। অন্যদিকে দূর্বা হচ্ছে দীর্ঘায়ুর প্রতীক। দূর্বা সহজে মরে না, প্রচণ্ড রোদ বা বর্ষায় পঁচে গেলেও আবার দূর্বা বেঁচে ওঠে। আর এই কারনে দূর্বার আরেক নাম অমর। ধান-দূর্বা মস্তকে দেয়া অর্থ সম্পদশালী হও ও দীর্ঘায়ু লাভ কর। কিন্তু যিনি আশীর্বাদ করবেন তিনি এই প্রতীকের মর্ম না বুঝলে এই আশীর্বাদ আনুষ্ঠানিকতায় পর্যবসিত হয়।

শেয়ার করুন